নতার পর থেকেই সউদী আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সাহায্যকারী-সাহায্যগ্রহীতার। তবে সেই সম্পর্ক পাল্টে যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতবছরের জুনে রাজকীয় আমন্ত্রণে সউদী সফরের পর। তার সফরের পর বাংলাদেশকে এখন আর সউদী কর্তা ও ব্যবসায়ীরা সাহায্যপ্রার্থী দেশ হিসেবে দেখে না- বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগ হাব। দেশটির কাছে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের লোভনীয় ও নিরাপদ গন্তব্য।সউদী আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানি আল রাজি থেকে শুরু করে শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপ আল জামিল, আল বাওয়ানি, আল ফানারসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের এখন বিনিয়োগ গন্তব্য বাংলাদেশ। কোম্পানিগুলোর কর্তাব্যক্তিরা নিয়মিত ঢাকা সফর করছেন, স্বাক্ষর করছেন একের পর এক সমঝোতা স্মারক।
সউদী বিনিয়োগ আগ্রহে উৎফুল্ল বাংলাদেশ সরকারও। ইতোমধ্যে দেশটির বিনিয়োগকারীদের জন্য রিয়াদস্থ দূতাবাসের মাধ্যমে দুটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এর একটি চট্টগ্রামের মিরেরসরাইয়ে; অন্যটি গাজীপুরে। কোথায় অর্থনৈতিক অঞ্চল নেবে তা দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করলেই স্বাক্ষর হবে সমঝোতা স্মারক।
সরকারের ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে চীন, জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রের পর বাংলাদেশের বিনিয়োগ বাজারে নতুন প্রতিযোগী হিসেবে যোগ দিয়েছে সউদী আরব।
গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর সউদী আরব সফরকে শতভাগ সফল ও ঐতিহাসিক উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সউদী আরবের বেসরকারি খাতের পাশাপাশি দেশটির সরকারও বাংলাদেশের বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী। কারণ, সউদী সরকারের বিপুল পরিমাণ পেট্রো-ডলার অলস অবস্থায় পশ্চিমা দেশগুলিতে পড়ে আছে এবং তারা লাভজনক খাতে এটি বিনিয়োগ করতে চায়। কোন ধরনের প্রকল্পে সউদী আরব বিনিয়োগে আগ্রহীÑ জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিদ্যুৎ, সার ও অবকাঠামো খাতে তাদের বেশি আগ্রহ।
আল রাজি ও বিসিআইসি যৌথ উদ্যোগে বিদ্যমান ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি সংলগ্ন নিজস্ব জায়গায় ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুতকেন্দ্র সহ বার্ষিক ১৫ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি আধুনিক প্রযুক্তির সিমেন্ট কারখানা স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া কর্ণফুলী পেপার মিলস সংলগ্ন কারখানার নিজস্ব জমিতে ৩৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বছরে ৩ লাখ টন উৎপাদনক্ষমতার একটি কাগজ উৎপাদন কারখানা স্থাপন করবে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, সউদী ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশ অচিরেই ‘সেকেন্ড হোম’ হচ্ছে ।
