পাবনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক মির্জা শামসুল ইসলামের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

শেয়ার করুন:

এ কে খান, পাবনা থেকে

পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক জেলা প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রপতি পদক প্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক মির্জা শামসুল ইসলামের ২৫তম স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সারে সাতটায় ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এ স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ। সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান বলেন মির্জা শামসুল ইসলাম তাঁর কর্মের মাধ্যমে বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। যতদিন কাগজ কলম আছে, ততদিন থাকবেন তিনি। তিনি আরও বলেন পাবনার বিশিষ্ট সাংবাদিকগন মির্জা শামসুল ইসলাম, রনেশ মৈত্র, আনোয়ারুল হকসহ পাবনা প্রেসক্লাবের প্রয়াত সদস্যদের পদচারণায় ক্লাবটি মুখর থাকতো। এসব গুনী মানুষ নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে অনুপ্রেরণা যোগাবে। তিনি বলেন মফস্বলে, থেকে ঢাকা ডেস্কের সাথে সমানতালে কাজ করেছেন মির্জা শামসুল ইসলাম। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক স্বনামে খ্যাত সাংবাদিক। মেধা প্রজ্ঞায় রোল মডেল ছিলেন তিনি। প্রকৃত সাংবাদিকতা করতে গেলে মির্জা শামসুল ইসলামকে অনুসরণ করতে হবে। সভায় আরও বক্তব্য দেন, মির্জা শামসুল ইসলামের ছেলে মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চল ব্যুরো প্রধান ও বিশেষ প্রতিনিধি উৎপল মির্জা, প্রেসক্লাবের কার্যকরি সদস্য রাজিউর রহমার রুমী, সদস্য আব্দুল হামিদ খান, পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা, এটিএন নিউজ ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের জেলা প্রতিনিধি রিজভী জয় প্রমুখ। স্মরণ সভায় অন্যদের মধ্যে প্রেসক্লাবের কল্যাণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুইট, কার্যকরী সদস্য আবু হাসমা মোঃ আইয়ুব, দি ডেইলি মর্নিং টাচের নির্বাহী সম্পাদক মনিরুজ্জামান শিপন, ৭১ টিভি ও সময় আলোর প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল, বৈশাখী টেলিভিশনের মিজান তানজিল, ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি মীজা পার্থ হাসান, পাবনা বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক শামসুল আলম ও সুনাম গ্রাফের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফজলুল হক সুমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, মির্জা শামসুল ইসলাম এমন কিছু রিপোর্ট করেছিলেন, যা সারা বাংলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তিনি ব্যক্তি জীবনে ছিলেন অনন্য। কিভাবে একটা সংবাদকে বস্তুুনিষ্ঠ ও সাধারণ মানুষের কথা হিসেবে তুলে ধরা যায়, তিনি তা দেখিয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি সাংবাদিকতা করেছিলেন। পাবনার সাংবাদিকদের সামনে থেকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভুট্টা আন্দোলনের খবর তিনি লিখেছেন সাহসিকতার সাথে। ওই সময় ভুট্টা আন্দোলনের খবর লেখার কেউ ছিলো না। সেই সময় সংবাদ পত্রিকায় ধরানোর জন্য যুদ্ধ করতে হতো জেলার সাংবাদিকদের৷ এক্ষেত্রে মির্জা শামসুল ইসলাম ছিলেন এগিয়ে।  তার রিপোর্ট গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ হতো দৈনিক বাংলায়। পাবনাকে তুলে ধরায় তাঁর মুন্সিয়ানা ছিল। সংবাদের বিষয়বস্তু বোঝার আলাদা দক্ষতা ছিল তাঁর। স্মরণসভা শেষে পাবনা প্রেসক্লাবের নামাজ ঘরের ইমাম হাফেজ তরিকুল ইসলাম বিশেষ মোনাজাত পচিালনা করেন। স্মরণ সভাটি সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন  ক্লাবের সাহিত্য সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইয়াদ আলী পাভেল। এ সময় ক্লাবের অন্য সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন: