বাংলাদেশের মরহুম সিএসপি মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন এর জন্মস্থান নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে। তিনি বিসিকের মহাপরিচালক থাকা অবস্থায় সুবিধাবঞ্চিত উত্তরবঙ্গের মহিলা শ্রমিকগণকে টিএমএসএস এর আমব্রেলায় বিসিক সহযোগিতায় ভোকেশনাল ট্রেনিং দিয়ে কুটির শিল্পকে সমৃদ্ধ করার প্রাণান্ত প্রচেষ্টার কমতি করেন নাই। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকা অবস্থায় বিএনপি শাসনামলে তাঁকে Force Retirement দেওয়া হয়েছিল। তৎপর তিনি টিএমএসএস এর সাধারণ পর্ষদ সদস্য ও উপদেষ্টা হিসেবে টিএমএসএস এর পরিচালন নীতিমালা, বিভিন্ন বিধি-বিধান, তৃণমূল পর্যায়ের সদস্য থেকে সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে Sole sourcing সেমিনার, Strategic Planning Workshop, Goal Oriented Workshop ইত্যাদির মাধ্যমে টিএমএসএস এর নীতিমালা, বিধিমালা, চাকুরী বিধি ইত্যাদি প্রণয়ন কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সিএসপি সিরাজ উদ্দিন সাহেব বঙ্গবন্ধুর কাছের মানুষ এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি ছিলেন। তাঁর সরকারি চাকুরী জীবনে যখন ডেপুটি সেক্রেটারি ছিলেন, বেতনের টাকা দিয়ে সংসার যাত্রা নির্বাহ হতো না। তাঁর মুখে আমার শোনা, তিনি নাকি প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহবেকে সীমিত আকারের ঘুষ খাওয়ার অনুমতি চাহিয়া যৌক্তিকতার সহিত আবেদন করলে তাঁকে প্রেসিডেন্ট প্রাইজ হিসেবে দুইটি ইনক্রিমেন্ট দিয়ে আবেদনটি বাতিল করা হয়েছিল। তাঁকে চাকুরী হতে বাধ্যতামূলক অব্যাহতি দেওয়ায় তিনি অনেক বেশি টাকায় World Bank, UNDP, ADB, JICA, British ODA, ইত্যাদি সংস্থার Costly Consultant হিসেবে Freelancer ছিলেন। টিএমএসএস এর প্রতি আমার আন্তরিকতা এবং আগ্রহে তাঁর নিজ খরচে কয়েকবার আমার পুত্র তালুকদার মোঃ আলী হায়দার সহ ভারতে এসেছি। মরহুম সিরাজ উদ্দিন সাহেবকে মার্কেটে যেতে দেখি নাই। আমিও মার্কেট বিমুখ।আমাদের প্রচন্ড নেশা দুনিয়া জোড়া মানুষের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। সম্ভবত ১৯৯২ সালে ভারতে এসে Domestic Sales & Purchase (DSP), Dual Service Deduction (DSD) শক্ত বেতন স্কেলে আবৃত অর্জনহীন বেতন গ্রহীতার স্কেল ঠিক রেখেই Low Performer Deduction (LPD) ইত্যাদি ভারতের Bureaucracy থেকেই দেখেছি।বাংলাদেশের বাঘা Bureaucrats সিরাজ উদ্দিন সাহেবের সফর সঙ্গী হতে না পারলে ইন্ডিয়ান Bureaucracy-তে চোখ ঢুকাতে পারতাম না। আমার অশোকা ফেলোশীপের অনুশীলনে সুপারভাইজার সারা নিউহল, গিয়া গোমেজ এই শিক্ষা গুলিকে যথেষ্ট Appreciate করতেন।দিল্লি দূতাবাসে কর্মরত বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন আলোচনায় বাংলাদেশের MBBS কোর্সে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীর MBBS শিক্ষা এবং ইন্টার্নশীপ সমাপ্তগণের জন্য ৭ বছর শিক্ষাকাল এবং ভারতের ছাত্র-ছাত্রীদের ৬ বছর; এই বৈষম্য বিলোপ করার বিষয়টি হাইকমিশনার মহোদয়ের নিকট তুলে ধরলে তিনি All India এর National Medical Commission (NMC) এর প্রেসিডেন্ট এর সহিত সাক্ষাৎ করার পরামর্শ দেন। His Excellency High Commissioner Mr. Muhammad Imran মহোদয় বলেন যে, ভারতের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাওয়া অপেক্ষা NMC এর প্রেসিডেন্ট এর সাক্ষাৎ পাওয়া কঠিন। টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ এর বৈদেশিক বিষয়ক প্রফেসর ডাঃ অনুপ রহমান চৌধুরী সাক্ষাৎ সংক্রান্ত একই কথা বলে সাক্ষাৎ বিষয়ক সহায়তা করেন। আমরা ০৩/০৭/২০২৪ তারিখ দিল্লির দ্বারকায় National Medical Commission এ গিয়ে বড় ধরনের সাক্ষাৎ Bureaucracy সম্পাদন করে NMC এর প্রেসিডেন্ট Madam Dr. Aruna V. Vanikar এর সহিত সাক্ষাৎ করে ২ বছর ইন্টার্নশীপ এবং সার্টিফিকেট এর ১০ বছর সময়সীমা বাতিল করে পূর্বের ন্যায় করার প্রস্তাব দিলে, তিনি যা বললেন তাঁতে Domestic Sales & Purchase Essence বলবৎ করে দেশের ডলার দেশে রাখা তাঁদের জাতীয় সিদ্ধান্ত। এতে NMC এর কিছুই করার নাই। তবে তিনি জানালেন, বাংলাদেশের শিক্ষার মান ভালো। লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী রোগী চিকিৎসার জন্য ভারতে আসে। হাজার হাজার Indian Students যারা বাংলাদেশে পড়তে যায় তাদেরকে বাংলাদেশ সরকার রেখে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভালো হয়, উভয় দেশের স্বার্থ সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ সরকারের সহিত আলোচনার জন্য বাংলাদেশে গেলে ঢাকা থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তরে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ দেখতে যাবো ইত্যাদি । যা হোক, Indian Bureaucrats এর দেশপ্রেম বয়ান শুনে অল্প হলেও তাদের ডিপ্লোমেটিক ডিসকাশনের দৌড় বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের লেনদেন, চুক্তির ভারতীয় চৌকসতা শিক্ষনীয় ।
ইতি
অধ্যাপিকা ড.হোসনে আরা বেগম, চেয়ারম্যান,
টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ, ও
সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ প্রাঃ মেডিকেল কলেজ,
অ্যাসোসিয়েশন।
