সাঁথিয়ায় বিজয় দিবস উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা অনুষ্ঠিত

শেয়ার করুন:

আরিফ খান, বেড়া-সাঁথিয়া পাবনা : পাবনা সাঁথিয়ার উপজেলার করমজা ইউনিয়নে ৫০ তম মহান বিজয় দিবস উপপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মনোমুগ্ধকর লাঠিখেলা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ।
বৃহস্পতিবার ১৬ ডিসেম্বরে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বায়া গ্রামের করমজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী বাগচির বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী এই প্রাচীন খেলা। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব শামসুল হক টুকু এম.পির ছেলে বেড়া পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আসিফ শামস্ রঞ্জন। কালের ক্রমে হারিয়ে যাওয়া লাঠি খেলা দেখতে ভিড় করে নানা বয়সের মানুষ। গ্রামীন এ ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলাকে টিকিয়ে রাখতে দরকার প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এমনটাই মনে করেন দর্শনার্থীরা। এছাড়াও মহান ১৬ ডিসেম্বর উপলখ্যে সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা করমজা ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন আলী বাগচির নিজস্ব অর্থায়নে ইউনিয়নের কয়েক হাজার গরিব অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই দুরদুড়ান্ত থেকে কেউ হেঁটে আবার কেউবা ভ্যান কিংবা মোটরসাইকেলে উপজেলার বায়া গ্রামে বাগচী বাড়িতে আসতে শুরু করেন। বিকেল হতেই শুরু হয় খেলা। ঢাক, ঢোল আর কাঁসার ঘন্টার শব্দে চারপাশ উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাদ্যের তালে তালে নেচে নেচে লাঠি খেলে অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে লাঠিয়ালরা। তারপরই চলে লাঠির কসরত। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা ও তাকে আঘাত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন লাঠিয়ালরা। শুরু হয় জমজমাট লাঠি খেলা। আগত দর্শকরাও করতালির মাধ্যমে উৎসাহ যোগায় খেলোয়াড়দের। হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে নিয়মিত এই ধরনের আয়োজন করার দাবি করেন দর্শকরা। সমাজ থেকে অন্যায় অপরাধ মাদক দুর করতে আর হারানো ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এই আয়োজন বলে জানান এই অনুষ্ঠানের প্রধান পরিকল্পনাকারী ও আয়োজক করমজা ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী বাগচির ভাই বিশিষ্ট শিল্পপতি লায়নস্ ক্লাব অব চিটাগাং মেট্রোপলিটন- গ্রুপের চেয়ারম্যান এ.বি.এম.পি.এম.এ আলহাজ্ব এম এ ওয়াহাব আলী বাগচি। তিনি বলেন, আবহমান কাল থেকে বায়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাগচি পরিবার বিজয় দিবসের এই দিনে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও গ্রাম বাংলার প্রাচীন এ লাঠি খেলা দিয়ে থাকেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভির রাত অবধি চলা লাঠি খেলায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৮-১০ টি লাঠিয়াল বাহিনী অংশগ্রহণ করে। বাগচি বাড়ির ব্যালকুনিসহ উঠানের চারপাশে শতশত নারী পুরুষ উপভোগ করেন এ খেলা। এ সময় আর উপস্থিত ছিলেন, করমজা ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী বাগচি, উপজেলা আ’লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হাই সরকার, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান উকিল, যুবলীগ নেতা তায়েম রহমান,করজা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আরিফুল ইসলাম, মকছেদ আলম বাগচী, বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব আব্দুল বারেক, আব্দুল মতিন, জহুরুল আলম বাগচি, সমাজসেবক মানিক মিয়া প্রমুখ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা করমজা ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন আলী বাগচি জানান, গ্রাম বাংলার এক সময়ের জনপ্রিয় এই খেলা কালের বিবর্তনে আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। ঐতিহ্যবাহী এ খেলার সাথে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রতিবছর ১৬ ই ডিসেম্বরে আমার বাড়িতে এ আয়োজন করা হয়। প্রীতি এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীর সবাইকে পুরস্কৃত করা হয় বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন: