
গত মহাজোট সরকারের তিন বছর পার হওয়ার পর ২০১১ সালের নভেম্বরে ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়’ (তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়) এর দায়িত্ব পান ওবায়দুল কাদের।
ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন
বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রকল্পের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। প্রত্যাশার চেয়ে সময় বেশি লাগলেও অবশেষে এ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে দেশবাসী। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রকল্পের কাজ ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা। গত জানুয়ারি পর্যন্ত এ প্রকল্পের ১৯২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। সড়কের দু’দিক ফিনিশিংয়ের কাজের বাকী ২৭৪ কিলোমিটার আগামী চলতি মাসের আগেই শেষ হবে। এছাড়া মহাসড়কে ১৪টি বাইপাস, ২৩টি সেতু ও ২৩০টি কালভার্ট নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে কিছু কাজ এখনো বাকী যা এ বছরের মধ্যে শেষ হতে পারে। এর মধ্যে তিনটি রেলওয়ে ওভারপাসের মধ্যে কোনটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফেনীর ওভারপাসের সংযোগ সড়কের কাজই শুরু হয়নি। সব মিলিয়ে রেলওয়ে ওভারপাসের কাজ ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোরেল
ঢাকা মহানগরীতে কার্যকরী ও দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা, সর্বসাধারণের জন্য গণপরিবহন সুবিধাদির ব্যবস্থা করা এবং নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে মেট্রোরেল চালু করার জন্য ২০০৮ সাল থেকে প্রাথমিক কাজ শুরু করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সম্ভাব্যতা যাচাই আর নকশা অনুমোদনসহ নানা জটিলতায় গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি শুরুই করতে দেরি হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)’র অর্থায়নে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মেট্রোরেলের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ‘ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (ডিএমআরটিডিপি) বাস্তবায়ন করছে ‘ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ’ (ডিটিসিএ)। মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য ‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) নামে একটি কোম্পানিও গঠন করেছে সরকার। ঘন্টায় ৬০ হাজার যাত্রী বহন সক্ষম এ রেল ২০১৯ সালে উদ্বোধনের লক্ষ্যে কাজ করছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মেট্রোরেলের প্রকল্প পরিচালক মোফাজ্জেল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, মোট আটটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হবে মেট্রোরেল। এ বছরের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন দরপত্র প্রক্রিয়া চলবে। অক্টোবরে চুক্তি সই হতে পারে। সব ঠিক থাকলে প্রথম পর্বের নির্মাণকাজ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। ২০২৪ সালে শেষ হবে সম্পূর্ণ কাজ।
ঢাকা উড়াল সড়ক:
রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা।
আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে এ সড়কটি ব্যবহার করা যাবে। এতে যানজট থেকে রেহাই পাবেন যাত্রীরা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের কাজ চলমান আছে, যা আগামী ১৬ জুন ২০১৬ সালের মধ্য শেষ হবে। অতীতে সড়কের কাজে কিছুটা বিলম্ব হলেও এখন দ্রুতগতিতে কাজ চলবে বলে জানান মন্ত্রী। কাজটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার ব্যাপারেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। ঢাকা উড়াল সড়কের দৈর্ঘ্য হবে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত মোট ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। এটি বিমানবন্দর-কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী গিয়ে শেষ হবে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নে এ প্রকল্পে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড।
