কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে কংগ্রেস। ভারতীয় সময় রাত দশটা নাগাদ একটি বাদে সব আসনের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে – যাতে কংগ্রেস জিতেছে ১৩৬টি আসনে । বিজেপি জয়ী হয়েছে ৬৫টিতে।
কর্নাটকের ২২৪ আসনের বিধানসভায় ‘ম্যাজিক ফিগার’ হচ্ছে ১১৩টি আসন, যা কংগ্রেস ছুঁয়ে ফেলা নিশ্চিত করে ভোট গণনা শুরু হওয়ার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই।
বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই ইতোমধ্যেই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির নেতা-কর্মীরা অনেক চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আমরা দাগ কাটতে পারি নি, কংগ্রেস পেরেছে।”
” বিশদ ফলাফল এলে আমরা পর্যালোচনা করব। এই ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা যাতে লোকসভা নির্বাচনে ফিরে আসতে পারি, সেই চেষ্টা করব“ – বলেন তিনি।
মি. বোম্মাই শিগ্গাও কেন্দ্রে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, কংগ্রেসের ইয়াসির আহমেদ খান পাঠানের থেকে ২৬ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন।
অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমার কনকপুরা আসনে ১২ রাউন্ড গণনার শেষে ৭০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছেন, আর বিজেপির প্রার্থী, প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী আর অশোকা পেয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ভোট।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন শনিবার।
তার কথায়, “সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আর দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে আমি কথা দিয়েছিলাম যে রাজ্যটা তাদের উৎসর্গ করব। এই জয়ের জন্য কৃতিত্ব দলের কর্মী আর নেতাদেরই প্রাপ্য।“
তাকে যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সি অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার করে ৫০ দিন জেলে রেখেছিল, সেই সময়ে কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সনিয়া গান্ধী, সেই ঘটনাও আজ সাংবাদিকদের সামনে উল্লেখ করেন মি. শিবকুমার।
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলো কংগ্রেস
গত ১০ই মে ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পরে একাধিক ‘বুথফেরত সমীক্ষায়’ পূর্বাভাস মিলেছিল যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে কংগ্রেস।
কয়েকটি সমীক্ষা বলেছিল ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হবে, যে ক্ষেত্রে সরকার গড়তে জনতা দল (সেকুলার)-এর সহায়তা নিতে হতে পারে কংগ্রেস বা বিজেপিকে। একটি মাত্র সমীক্ষা বিজেপি সরকার গড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল।
তবে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে কংগ্রেস একার জোরেই সরকার গড়তে পারবে, জনতা দল (সেকুলার)-এর সহায়তার কোনও প্রয়োজনই হবে না বলে মনে করছেন বেঙ্গালুরুতে বিবিসির সহযোগী সংবাদদাতা ইমরান কুরেশি।
জয়ের দিকে এগোতেই বেঙ্গালুরুতে প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তর আর দিল্লির সদর দপ্তরে শুরু হয়ে গেছে উৎসব। চলছে বাজি পটকা ফাটানো, মিষ্টি বিতরণ। দলীয় কর্মীরা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে মিষ্টি বিতরণ করছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমারের বাড়ির সামনেও।
দিল্লির সদর দপ্তরের সামনে সনিয়া গান্ধী-রাহুল গান্ধীর ছবি নিয়ে উৎসব যেমন হচ্ছে, তেমনই ‘কর্ণাটক বিজয়’ লেখা একটা হোর্ডিংও লাগানো হয়েছে।
তবে কংগ্রেস আশঙ্কা করছে যে বিধায়ক কেনাবেচায় নামতে পারে বিজেপি। এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা কমল নাথ।
তিনি বলেছেন, “অন্যান্য দলের বিধায়ক বা নির্দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে একটা চুক্তি করার চেষ্টা করতে পারে বিজেপি, তাদের কেনার চেষ্টা করতে পারে। তারা এটাই সবসময়ে করে থাকে।“
দলীয় বিধায়কদের যাতে কেউ অর্থের টোপ না দিতে পারে, সেজন্য গণনা শুরুর আগেই কংগ্রেস বিধায়কদের এক জায়গায় রাখার জন্য বেঙ্গালুরুর কাছে একটা সাত তারা রিসর্ট বুক করে রেখেছে।
