শেষ রেলওয়ে ফেরীটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে লোহা প্রস্তুতকারক কোম্পানির ভাঙ্গারির ইয়ার্ডে

শেয়ার করুন:

শেষ রেলওয়ে ফেরীটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে লোহা প্রস্তুতকারক কোম্পানির ভাঙ্গারির ইয়ার্ডে। এর সাথে সাথে শেষ হচ্ছে ৬৬ বছরের ঐতিহাসিক এক অধ্যায়।১৯৩৮ সালে ব্রিটিশ সরকার ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপনে জামালপুর দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট থেকে, অন্য পাড়ে গাইবান্ধার তিস্তা পাড় ঘাটের মধ্যে চালু করেছিলো এক রেলওয়েফেরী সার্ভিস। ১৯৮৮ এর বন্যায় বালাসী ও বাহাদুরাবাদ দু’টি ঘাটেরই মূল নকশা বদলে যায় এবং ১৯৯০ সালে যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটে ওপাড় ঘাটের নতুন ঠিকানা হয় গাইবান্ধার বালাসী ঘাটে। এই দুই ঘাটেই ভীড়তো বড় বড় জাহাজ, লঞ্চ, স্টিমার সহ নানা নৌযান। এই ঘাট বা নৌ বন্দরের মাধ্যমে পরিবহন চালু ছিলো দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশেও। রেলওয়েফেরী সার্ভিসটি যাত্রা শুরু করেছিলো আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে। ফেরীর লাইনের সংখ্যা ১৩টিএবং একেকটি লাইনে ৩টি করে বগি বা ওয়াগন নেয়া যেত।১৯৮৯ হতে ২০০৪ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে বালাসী বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে রেলওয়েফেরী পারাপারে অনন্য ছিলো। তবে যমুনা ও তিস্তা নদীর নাব্যতা এতটাই নীচে নামত যে, নদী পথে মাত্র ৪ মাস ফেরী চলাচল করা সম্ভব হতো। এই ফেরী ঘাট দিয়ে একতা ও তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে প্রতিদিন উত্তরাঞ্চল হতে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকার সঙ্গে চলাচলকরতো। গ্রীষ্মকালে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় চলাচলকারী স্টিমার ও ফেরীগুলো চোরাবালিতে মাঝ নদীতে আটকা পড়তো। অবশেষে বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেলপথ বসায়ে ১৪ জুলাই ২০০৫ সালে রেলওয়ে বিভাগ বালাসী বাহাদুরাবাদ রেলওয়েফেরী পারাপার বন্ধ করে। তার পরিবর্তে যমুনা সেতুর উপর দিয়ে রেল চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে উত্তারাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে সিলেট ও বৃহত্তর ময়মনসিংহের দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।পরিত্যক্ত রেলওয়েফেরী গুলিকে স্ক্রাব হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হয় গতমাসে। বালাসীঘাটে থাকা সর্বশেষ রেলওয়েফেরী সম্প্রতি তুলে দেয়া হয়েছে ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষের হাতে। যা এখন ভৈরব মেঘনা ঘাটে অবস্থান করছে। কারখানার ইয়ার্ডে সলিল সমাধি হবে এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় রেলওয়েফেরীর। Collected from Atik ullah Facebook page.

শেয়ার করুন: