বিএনপি-জামায়াতের দুর্নীতি থেকে রক্ষা পায়নি চিড়িয়াখানার পশুও

শেয়ার করুন:

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার শুধু সীমাহীন লুটপাট, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করেই দেশের ক্ষতি করেনি, বরং তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো। পাকিস্তানের আদর্শে লালিত বিএনপি-জামায়াতের দৃষ্টিতে বিনোদনকে পশ্চিমা স্বভাব দাবি করে এই সেক্টরকে ধ্বংস করতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সরাসরি বিরোধীতায় রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো চুরি-ছিনতাই, অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। এছাড়া লোক দেখানো সংস্কারের নামে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো যথাক্রমে বলধা গার্ডেন, চন্দ্রিমা উদ্যান, বাহাদুর শাহ পার্ক, চিড়িয়াখানা, ধানমন্ডির বত্রিশ নাম্বার এলাকা, শাহবাগ শিশুপার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মতো জায়গাগুলোর বরাদ্ধের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে বিএনপি-জামায়াতের নেতারা।

জানা যায়, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রাজধানীর গণবিনোদন কেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করে এগুলোকে ধ্বংস করার পাঁয়তারায় লিপ্ত হয়। বিশেষ করে এসব বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে লোক দেখানো সংস্কারের নামে সরকারি কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। দেশের সর্ববৃহৎ মিরপুর চিড়িয়াখানায় বিলুপ্ত এবং অদ্বিতীয় প্রাণি সাপ্লাই দেওয়ার নামে দেশীও ও সহজলভ্য সব প্রাণি দিয়ে চিড়িয়াখানাটি ভর্তি করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে বিএনপি-জামায়াতের ঠিকাদাররা। দুর্নীতি করে অসুস্থ, বয়স্ক ও মৃতপ্রায় প্রাণি সরবরাহ করে বিএনপি-জামায়াতের ঠিকাদাররা। কয়েকমাস যেতে না যেতেই চিড়িয়াখানায় খাঁচাগুলো প্রাণিশুন্য হয়ে পড়ে। দর্শনার্থীরা টাকা খরচ করে ভিতরে ঢুকে ফাঁকা খাঁচা দেখত। এছাড়া চিড়িয়াখানা এলাকায় ছাত্রদল-শিবিরের নেতা-কর্মীরা দলবেধে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের জিম্মি করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত। তাদের সরাসরি প্রশ্রয়ে চিড়িয়াখানা এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলতো দিন-দিপুরে। পুরান ঢাকার বলধা গার্ডেনের পরিস্থিতি বিএনপি-জামায়াতের আমলে আরো বেশি খারাপ ছিল। বলধা গার্ডেনে টিকিট দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ করার সুযোগ করে দিত ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তাদের অত্যাচারে সুস্থ বিনোদন নিতে আসা মানুষরা ভয়ে বলধা গার্ডেনে আসত না। এত পুরাতন একটি বিনোদন স্পটকে অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্র বানিয়ে ফেলে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে নেমে আসত অত্যাচারের খড়গ। তাদের ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পেত না। তাদের ভয়ে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। চন্দ্রিমা উদ্যান তো বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে চোর-ছিনতাইকারীদের পিঠস্থানে পরিণত হয়। সন্ধ্যা হলেই প্রকাশ্যে ছিনতাই করতো ছাত্রদল-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। কেউ প্রতিবাদ করলে হাসির সুরে ছিনতাইকে চা-নাস্তা খাওয়ার খরচ বলে উড়িয়ে দিত ছাত্রদল-শিবির কর্মীরা। এছাড়া বাহাদুর শাহ পার্ক, ধানমন্ডির বত্রিশ নাম্বার, শাহবাগ শিশু পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকার অবস্থা তৎকালীন সময়ে খুব খারাপ ছিল। প্রকাশ্য দিবালোকে এই জায়গাগুলোতে ছিনতাই, রাহাজানি, অসামাজিক কার্যকলাপ হতো। রাজনৈতিক চর্চা ও বিনোদনের নামে এসব এলাকায় আগত সাধারণ মানুষদের হয়রানি করত ছাত্রদল-শিবির কর্মীরা। টিএসসি এলাকায় প্রকাশ্যে ছাত্রীর শ্লিলতাহানীর ঘটনাও ঘটিয়েছে ছাত্রদলের কর্মীরা।

এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, রাজধানীকে অসুন্দর, বসবাসের অযোগ্য ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংস করেছে মূলত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে অপরাধ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বড় হাত রয়েছে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার। দুর্নীতি করতে করতে তারা চিড়িয়াখানার পশুকেও রেহাই দেয়নি। আজকে রাজধানীতে বিনোদন কেন্দ্রগুলো সংকুচিত হয়েছে তাদের কারণে। রাস্তায় আজকাল যে যানজট সৃষ্টি হয়, সেটির জন্যও দায়ী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। অথচ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেই রাজধানীবাসীর বিনোদনের বিষয়টি চিন্তা করে বিনোদন কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে গণমুখী করেছে। যার কারণে বর্তমান সময়ে ছুটির দিনগুলোতে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমে। সরকারের এই অবদান ঢাকাবাসী চিরদিন মনে রাখবে।

শেয়ার করুন: