১৮৫৭-এর বিস্মৃত বীরাঙ্গনা: ব্রিটিশদের আগুনেও নিভেনি আসগরী বেগমের সাহস

১৮৫৭-এর বিস্মৃত বীরাঙ্গনা: ব্রিটিশদের আগুনেও নিভেনি আসগরী বেগমের সাহস
শেয়ার করুন:

১৮৫৭-এর বিস্মৃত বীরাঙ্গনা: ব্রিটিশদের আগুনেও নিভেনি আসগরী বেগমের সাহস

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমরা কতজন জানি সেই মহীয়সী নারীর নাম, যাকে ব্রিটিশরা জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিল? ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের নাম নিলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈয়ের ছবি। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের অলিগলিতে আজও মিশে আছে আসগরী বেগমের রক্ত আর সাহসের গল্প, যা পাঠ্যবই আমাদের শেখায়নি!
মুজাফফরনগরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নারী কেবল ঘরোয়া সুগৃহিণী ছিলেন না। যখন ব্রিটিশ হায়েনারা আমাদের মাতৃভূমিকে গ্রাস করছিল, তখন আসগরী বেগম পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে হাতে তুলে নিয়েছিলেন বিদ্রোহের মশাল। তিনি ছিলেন বিপ্লবী কাজী আব্দুর রহিমের মা, যিনি নিজের সন্তানকে দেশের জন্য উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেননি। তাঁর এক ইশারায় উত্তরপ্রদেশের মাটি ব্রিটিশদের রক্তে লাল হতো, তাঁর মগজ থেকে বেরোনো যুদ্ধকৌশলে কুপোকাত হতো ধুরন্ধর ব্রিটিশ জেনারেলরা। তিনি কেবল একজন মা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিপ্লবের এক ‘জীবন্ত ডিনামাইট’। তাঁর ক্ষুরধার পরিকল্পনা আর অদম্য সাহসের কাছে ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিভাগ নস্যি ছিল। তাঁর নেতৃত্বে ফিরিঙ্গি সেনাদের লাশ পড়ত মুজাফফরনগরের অলিগলিতে!
​১৮৫৮ সাল। ব্রিটিশ বাহিনী যখন বিদ্রোহ দমনে মত্ত, তখন তারা আসগরী বেগমকে বন্দী করে। কিন্তু এই বীর রমণী মাথা নত করেননি। পরাজয় স্বীকার না করায় সেই তথাকথিত ‘সভ্য’ ব্রিটিশরা তাঁকে যে শাস্তি দিয়েছিল, তা শুনলে আজও গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়। তাঁকে প্রকাশ্য দিবালোকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল! ভেবে দেখুন সেই দৃশ্য! আগুনের শিখা তাঁর শরীরকে গ্রাস করছিল, কিন্তু তাঁর আদর্শকে কি পোড়াতে পেরেছিল? না! তাঁর আদর্শ থেকে জন্ম নিয়েছে হাজার হাজার বিপ্লবী।

​আজ আমরা স্বাধীন বাতাসে শ্বাস নিই, কিন্তু আসগরী বেগমের মতো নামহীন হাজারো শহীদের আত্মত্যাগকে কি আমরা মর্যাদা দিচ্ছি? কেন ইতিহাসের পাতায় তাঁদের নাম আজও ধুলোবালি মেখে পড়ে থাকে?
​আসুন, এই বীর শহীদের কথা ছড়িয়ে দিই সবার মাঝে। আসগরী বেগম কোনো সাধারণ নাম নয়, তিনি সাহসের এক অবিনশ্বর আগ্নেয়গিরি! সংবাদ প্রতিবেদন টাইটেলসহ

শেয়ার করুন: