আজ হতে ১৪৪৬ চন্দ্র-বছর আগে এই দিনে (১০ই রমজান, হিজরতের তিন বছর আগে) ইন্তিকাল করেছিলেন নবীজি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র প্রথম স্ত্রী উম্মুল মু’মিনিন হযরত খাদীজাতুল কুবরা (সালামুল্লাহি আলাইহা)।
রাসূলুল্লাহ্র (সা:) জীবনে হযরত খাদীজাতুল কুবরা (সালামুল্লাহি আলাইহা) ছিলেন আল্লাহ তা’আলার এক বিশেষ নেয়ামত স্বরূপ। দীর্ঘ পঁচিশ বছর যাবত আল্লাহ্র নবীকে (সা:) সাহচর্য দিয়ে, সেবা-যত্ন দিয়ে, বিপদাপদে সাহস ও শক্তি যুগিয়ে, অভাব-অনটনে সম্পদ দিয়ে, প্রয়োজন মত প্রেরণা ও পরামর্শ দিয়ে শিশু ইসলামের লালন-পালনের ক্ষেত্রে তিনি যে অসামান্য অবদান রেখেছেন ইসলামের ইতিহাসে তা তুলনাহীন।
হযরত খাদীজাতুল কুবরা (সালামুল্লাহি আলাইহা)’র পবিত্র স্মৃতি যখনই স্মরণে আসত বিশ্বনবী (সা.)’র পবিত্র দু চোখ বেয়ে ঝরে পড়ত অশ্রুধারা। অন্য কোনো স্ত্রীই হযরত খাদিজা (সা.আ.)’র সমকক্ষ নন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
একবার মায়ারনবীজি (সা.)’র কোনো এক স্ত্রী নিজেকে হযরত খাদিজা (সা.আ.)’র চেয়ে উত্তম বলে দাবি করলে আল্লাহর রাসূল (সা:) তাকে তিরস্কার করে বলেনঃ “আল্লাহর কসম, মহান আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়ে কোনো উত্তম স্ত্রী দান করেননি।যে সময় লোকেরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল তখন তিনিই আমাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছিলেন, যখন অপরেরা আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তখন তিনিই আমার উপর আস্থা স্থাপন করেছিলেন, যখন অন্যেরা আমাকে বঞ্চিত করেছিল, তখন তিনি আমাকে তাঁর সম্পদে অংশীদার করেছিলেন এবং আল্লাহ আমার অন্য সব স্ত্রীর মাধ্যমে আমাকে কোন সন্তান দেননি। কিন্তু তাঁরই মাধ্যমে আমাকে সন্তান দ্বারা অনুগৃহীত করেছিলেন”।
সূত্রঃ প্রাগুক্ত পৃঃ ২২৬; মুসনাদে আহমদ ৬ষ্ঠ খণ্ড পৃঃ ১১৮, বুখারি শরিফ।
উম্মুল মু’মিনিন হযরত খাদীজাতুল কুবরা (সালামুল্লাহি আলাইহা) ছিলেন সর্বপ্রথম মুসলমান। ইসলামের শুরুতে যখন হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এর কোন সাথী ছিল না এবং সকলে তাঁকে শত্রুর চোখে দেখত, ঠিক তখনই তিনি তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং তার জীবনে অর্জিত অঢেল অর্থ ও সম্পদ ইসলামের জন্য বিলিয়ে দেন।দরিদ্র আর নির্যাতিত নও-মুসলিমদের খাবার দেয়া, কাপড় ও পোশাক দেয়া ও তাদের আশ্রয় দেয়ার কাছে নিজের সব সম্পদ বিলিয়ে দেন হযরত খাদিজা।বরোধের বছরগুলোতে হজরত খাদিজা (সালামুল্লাহি আলাইহা) ঈমানদারদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে সব সম্পদ ব্যয় করেছিলেন। ফলে মৃত্যুর সময় তার কাছে ছিল না কোনো বস্তুগত সম্পদ। একমাত্র সন্তান ফাতিমার জন্যও তাই রেখে যাননি একটি মুদ্রাও।এমনকি তার মৃত্যুর পর কাফনের কাপড় কেনার অর্থও তার ঘরে ছিল না।প্রিয় স্বামীর আলখাল্লা তথা আবাটি তার কাফনের কাপড় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।তার একটি দৃষ্টান্ত এখানে তুলে ধরলামঃ-
>জন্ম:
উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদিজা (রাঃ) এর জন্ম হয় ‘আমুল ফীল’ (হাতীর বছর)-এর ১৫ বছর পূর্বে ৫৫৬ সনে মক্কা নগরীতে। অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নবুয়ত প্রকাশের ৫৫ বছর আগে পবিত্র নগরী মক্কায়।
>নাম:
নাম- খাদিজা। উপাধি- মুবারাকাহ, তাহেরাহ, কুবরা।উপনাম- উম্মে কাসিম, উম্মে হিন্দ, উম্মুল মু‘মিনীন, উম্মে জাহরা। পিতা- খুয়াইলিদ বিন আসাদ ও মাতা ছিলেন ফাতিমা বিনতে যায়েদ।
>হযরত খাদিজা (রাঃ)’র স্বপ্নঃ
রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে বিবাহ হওয়ার পূর্বে তিনি এক আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্নের কথা তার চাচাতো ভাই ওরাকা বিন নওফলের কাছে বর্ণনা করেন। তার স্বপ্নটি ছিল এ রকম যে, আকাশ হতে আমার কোলে একটি চাঁদ নেমে আসল এবং সেটা আবার সাত ভাগে বিভক্ত হল। ওরাকা বিন নওফেল বলল: এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা হল শেষ যুগে এক রাসূলের আবির্ভাব ঘটবে এবং তার সাথে তোমার বিবাহ হবে। আর সেই বিবাহের ফলে তোমাদের থেকে সাতটি সন্তান জন্ম নিবে।
>হযরত খাদিজার (রাঃ) সাথে হযরত মুহাম্মদের (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর সাক্ষাত ও বিবাহের প্রস্তাবঃ
হযরত মুহাম্মদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ব্যবসার কাজে মক্কা থেকে শামে (সিরিয়া) গিয়েছিলেন, তখন খাদিজা (রাঃ) সাথে তাঁর পরিচয় হয়েছিল এবং তাঁর সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের কাজ শুরু করেন। খাদিজা (রাঃ) হযরত মুহাম্মদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আখলাক ও চরিত্র দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং তাঁর স্বপ্নের সাথে সব মিলে যাচ্ছিল। খাদিজা (রাঃ) মুহাম্মদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে ডাকলেন এবং তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু হযরত মুহাম্মদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই প্রস্তাবে একটু চিন্তিত হলেন। হযরত মুহাম্মদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদিজা (রাঃ) এর প্রস্তাবের কথা তাঁর চাচা আবু তালেবকে বললেন। আবু তালেব এই প্রস্তাবের কথা শুনে অত্যন্ত খুশি হলেন এবং রাজী হলেন।
হযরত খাদিজা ও মুহাম্মদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) এর বিয়ে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করলেন। খাদিজা (রাঃ) নিবিড় ভালবাসাকে মুহাম্মদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপলব্ধি করেছিলেন,এমন সময় আকাশ থেকে শব্দ এলো ও বলল: “নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র নারীকে পবিত্র ও সত্যবাদী স্বামী দান করে থাকেন।” তখন তাদের চোখের সামনে থেকে পর্দা সড়ে যায় এবং বেহেস্তের হুরগুলো যে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল তা অবলোকন হয় এবং আতরের গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে আর সবাই বলতে থাকে যে, এত সুন্দর সুগন্ধ এই সততা থেকেই উৎসারিত হয়েছে। রাসুলের (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে বিবাহ ১০ রবিউল আউয়াল নবুয়ত ঘোষণার ১১ বছর পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়।
মায়ার নবীজির সাথে মা’ খাদিজা (রাঃ) এর বিবাহের খুৎবা পাঠ করেছেন খাজা আবু তালিব (আ.)।যা আরব্য উপন্যাসে এক কাব্বিক ছন্দে ভরপুর।
>সন্তানাদি:
রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুইজন শাহজাদা কাসিম, আবদুল্লাহ যাদের উপনাম তাহির ও তায়্যেব। এবং চারজন কন্যা সন্তান রুকাইয়াহ, যায়নাব, উম্মে কুলসুম, ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম) এর জননী ছিলেন আম্মজান খাদিজা (রাঃ)।
>জাহেলী যুগে যেমন ছিলেন হযরত খাদিজা (রাঃ):
আরব উপদ্বীপ মক্কায় প্রাচীন বংশধর কুরাইশ বসবাস করতো, পয়গাম্বরদের আদর্শ হতে দূরে থাকার কারণে, মূর্খের শাসন ও মূর্খতা এবং সে যুগের নোংড়া, অপবিত্র কার্যক্রমের ফলে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল যে, সেখানে আদর্শের কোন চিহ্নই ছিল না। যা কিছু দেখা যেত তা শুধুই বৈষম্য, অত্যাচার, নোংড়ামী, মতভেদ, যুদ্ধ, রক্তপাত, হিংসা, স্বার্থপরতা, ছন্নছাড়া, এবং লাগামহীনের খবরাদি। এ রকম এক অন্ধকার পরিবেশে একটি আদর্শ দম্পতি (খুয়াইলিদ ও ফাতিমা) হতে এক উজ্জল নক্ষত্রের আবির্ভাব ঘটে।
এই উজ্জল নক্ষত্রটি হচ্ছে হযরত খাদিজা (রাঃ)। এই মহিয়সী নারী ৪০ বছর বয়সে রাসূলের (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাঁর বয়স তখন ২৫ বছর ছিল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনিই প্রথম নারী ছিলেন যিনি ইসলামের উদয়ান্তে সর্ব প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ।
২৫ বছর যাবৎ রাসুলের (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে যুগল জীবন যাপন করেন। এই দিনগুলিতে সর্বদা পরাক্রান্ত ও আত্মত্যাগী সাথী, দয়াশীল বন্ধু হিসেবে রাসুলের (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে ছিলেন।
তার সম্পর্কে হযরত আবু তালিব সেই অন্ধকার যুগে বলেছিলেন: খাদিজা (রাঃ) এমনই এক নারী যে সকল ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ, বরকত ও সৌন্দর্য্যে ভরপুর। যার থেকে সব ধরনের অবজ্ঞা ও অপবাদ অনেক দূরে। সে এমনই নারী যে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও সম্মানিত।
>হযরত খাদিজার (রাঃ) সম্পদঃ
খাদিজার (রাঃ) বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি বৈশিষ্ট্য হলো ব্যবসা-বাণিজ্যে ও অর্থনীতিতে চেষ্টা-প্রচেষ্টার মাধ্যমে তার যুগের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ও দৃষ্টান্তহীন করে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। ঐতিহাসিকগণ হযরত খাদিজার (রাঃ) সম্পদকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। তার সত্তর হাজার উট ছিল যেগুলোর মাধ্যমে ব্যবসার রসদপত্র দেশের আভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে বহন করতেন।
তার বিশালাকার একটি গুদাম ঘর ছিল যে ঘরের উপরে সবুজ রেশমী কাপড়ের তৈরী সাইন বোর্ড ঝুলানো ছিল। সে ঘরটি ছিল বিভিন্ন ধরনের মাল সম্পদে ভরপুর।তার অনেকগুলি দাস-দাসী বা কর্মচারী ছিল যারা তার ব্যবসার রসদপত্র বিভিন্ন দেশে আমদানী বা রপ্তানী করতো।
>অভিযোগকারী নারীদের প্রতি হযরত খাদিজা (রাঃ)এর উপযুক্ত জবাবঃ
কুরাইশ বংশের একদল ত্রুটি অন্বেষকারী মূর্খ নারী হযরত খাদিজা (রাঃ) সম্পর্কে অভিযোগ ও উপহাস করতে লাগল। তারা উপহাস করে বলতো: ‘খাদিজার মত একজন প্রসিদ্ধ ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী বিত্তশালী নারীর এটা মানায় না যে একজন ইয়াতীম, রিক্তহস্ত, দরিদ্র ব্যক্তিকে বিয়ে করবে আর এটা কি নেক্কারজনক একটা বিষয় নয়?।’
যখন এই কথাটি হযরত খাদিজা (রাঃ)এর কানে পৌঁছালো তিনি তার কর্মচারীদেরকে সুস্বাদু খাবার তৈরীর নির্দেশ দিলেন। আর ঐ সকল নারীদেরকে দাওয়াত করলেন। যখন সবাই আহারে ব্যস্ত তখন হযরত খাদিজা (রাঃ) তাদের উদ্দেশ্যে বললেন- ‘হে নারী সমা!
তোমরা নাকি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে বিয়ে করার বিষয়কে কেন্দ্র করে আমাকে উপহাস করছো। আমি তোমাদের কাছে জানতে চাই, ‘হযরত মুহাম্মদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মত ঐ ধরনের ভাল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি কি তোমাদের নজরে আছে? মক্কা ও মদীনার আশে পাশে এমন ব্যক্তিত্ববান কেউ কি আছে যিনি হযরত মুহাম্মদের (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মত চরিত্র ও মর্যাদার দিক থেকে এত সৌন্দর্য্যপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতার অধিকারী?
আমি তার এই পূর্ণতার কারণেই তাকে বিবাহ করেছি, আর এমন কিছু তার সম্পর্কে শুনেছি ও দেখেছি যা অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। সুতরাং এটা উচিত নয় যে, তোমরা যা খুশি তাই বলবে ও অজ্ঞতাবশে কাউকে অশোভনীয় অপবাদ দিবে।’ হযরত খাদিজা (রাঃ)’র এ ধরনের হৃদয়গ্রাহী কথা শুনে সমস্ত নারীরা নিস্তব্ধ হয়ে গেলেন। তাদের এই নিস্তব্ধতা তারই সাক্ষ্য বহন করে যে, এ সম্পর্কে তাদের আর বলার মত কোন ভাষা নেই।
হযরত খাদিজা (রাঃ) এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বুদ্ধিমত্তার সাথে ও আল্লাহর সন্তুষ্টি চিত্তে তাদের কৃতকর্মের জবাব দিয়েছিলেন।
>ইসলামের অগ্রগতির ক্ষেত্রে হযরত খাদিজার (রাঃ) ধন-সম্পদের ভূমিকাঃ
হযরত খাদিজা (রাঃ) রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর সাথে বিবাহ হওয়ার পূর্বেও আরবদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তার প্রায় সত্তর হাজার উট ছিল ও বাণিজ্য কাফেলাগুলি দিবা-রাত্রি তায়েফে, ইয়েমেনে, শামে (সিরিয়ায়), মিশরে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রে বাণিজ্যিক লেন-দেন করতো, তার অনেকগুলি ক্রীতদাস ছিল যারা তার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল।
হযরত খাদিজার (রাঃ) বিস্ময়কর আত্মত্যাগসমূহের মধ্যে একটি হচ্ছে রাসুলের (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে বিবাহের পর ইসলাম পূর্ব ও ইসলাম পরবর্তী যত সম্পদ ছিল সমস্ত সম্পদ রাসুলের (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অধীনে দিয়ে দিয়েছিলেন যাতে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে তিনি সেগুলিকে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে পারেন।
এমন অবস্থা দাঁড়ালো যে, রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দরিদ্র অবস্থা থেকে সম্পদশালী অবস্থাতে রূপান্তরিত হলেন এবং আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর অনুগ্রহের অবদান সম্পর্কে রাসুলকে (সাল্লালাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম) উদ্দেশ্য করে বলতে গিয়ে এভাবে আয়াত অবর্তীর্ণ করেন- “আল্লাহ আপনাকে অভাবী অবস্থায় পেয়েছেন অতঃপর অভাবমুক্ত করেছেন” বর্ণনানুসারে অর্থাৎ হযরত খাদিজার (রাঃ) সম্পদের মাধ্যমে আপনাকে অমুখাপেক্ষী করেছেন।
হযরত খাদিজার (রাঃ) ধন-সম্পদের ব্যয়ক্ষেত্র রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: “দুনিয়ার কোন ধন-সম্পদই আমাকে এতটা লাভবান করেনি যতটা খাদিজার সম্পদ করেছে।” এমতাবস্থায় এ প্রশ্ন মনে ভেসে উঠতে পারে যে, রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদিজার (রাঃ) এই অঢেল সম্পদকে কোন পথে কিভাবে ব্যয় করলেন?
এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদিজার (রাঃ) সম্পদ হতে ঋণগ্রস্থদের ঋণমুক্ত করার কাজে, রিক্তহস্তদেরকে সাহায্যের কাজে, ইয়াতীমদের প্রতিপালনের কাজে, মুসলমানরা যারা মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করত, মুশরিকরা তাদের মাল-সম্পদকে লুট করত, রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে খাদিজার (রাঃ) সম্পদ থেকে সাহায্য করতেন যাতে তারা মদীনায় পৌঁছতে পারে। এক কথায়, রাসূল (রাঃ) যেভাবে ভাল মনে করতেন সেভাবে হযরত খাদিজার (রাঃ) সম্পদকে ব্যয় করতেন।
একবার হযরত জিবরাঈল (আ.) মহানবী (সা.)-কে বলেনঃ জনাবে খাদিজা (সা.আ.) বাটিতে করে কিছু একটা নিয়ে আসছেন। আপনি তাঁকে আল্লাহর এবং আমার সালাম পৌঁছাবেন। আর একবার মহানবী (সা.)-এর কাছে যখন হযরত জিবরাঈল (আ.) ছিলেন, সে সময়ে জনাবে তাহেরা (সা. আ.)-ও চলে এসেছিলেন। হযরত জিবরাঈল (আ.) তখন বলেন, তাঁকে জান্নাতে মণিমুক্তা খচিত এক গৃহের সু-সংবাদ জানিয়ে দিন।
ইমাম মুহাম্মদ বিন আলী আল বাকের (আ.) হতে বর্ণিত হয়েছেঃ “হযরত মুহাম্মাদ (সা.) মিরাজ থেকে ফিরে আসার পথে হযরত জিবরাইলকে (আ.) বললেন, আপনার কোন ইচ্ছা আছে? হযরত জিবরাইল (আ.) উত্তরে বললেনঃ আমার ইচ্ছা আপনি আমার এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত খাদিজা (সা. আ.)কে সালাম পৌঁছে দেবেন।”
এসব কল্যাণময় উক্তির উৎস নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওহী এবং এই হচ্ছে হযরত খাদিজা (রা.)-এর মহান চরিত্রের ঐশী উল্লেখ।
সূত্রঃ জামেয়াতুল মগীর উল সিউতী, খন্ড-২, পৃষ্ঠা ২ / উমুদুল গাবা, খন্ড-৫, পৃ. ৪৩৮ ৩. ইসলামী নীতিদর্শন, পৃ. ৭২।
হযরত খাদিজা (সা. আ.) জন্মের পূর্বে, ঐশী গ্রন্থ ইঞ্জিল যা হযরত ঈসার (সা.) উপর অবতীর্ণ হয়েছিল তাতে “বরকতময় নারী ও বেহেশতে হযরত মরিয়মের (আ.) সাথী” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমনঃ যেখানে হযরত ঈসাকে (আ.) উদ্দেশ্য করে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ তার বংশধর বরকতময় থেকে যিনি বেহেশতে তোমার মাতা হযরত মরিয়মের (আ.) সাথী।
হযরত খাদিজার পদমর্যাদা এত বেশি মূল্যবান ছিল যে, আল্লাহ তাঁর আসমানী কিতাব তাওরাত যা হযরত মুসা (আ.) এর উপর নাজিল হয়েছিল, তাতে উল্লেখ করেছেন যেঃ “হযরত খাদিজার (সা. আ.) উপমা ঐ নদীর পানির সাথে যে পানি আবে হায়াত নামে প্রসিদ্ধ এবং যে নদীর দুই ধারে জীবন বৃক্ষ আছে, যে বৃক্ষের বারোটি ফল আছে আর ঐ বৃক্ষের পাতাগুলো হচ্ছে উম্মতের জন্য নিরাময় স্বরূপ।”
>তিরোধান:
উম্মুল মু‘মিনিন হযরত খাদীজাতুল কুবরা সালামুল্লাহি আলাইহা মৃত্যুর প্রাক্কালে তাঁর আশপাশের অনেকেই তাঁকে কাঁদতে দেখেন। এ সময় তাঁর পাঁচ বছরের কন্যা হযরত ফাতিমা (সা. আ.) কান্নার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেনঃ তোমার বাবার কাছে আমার একটা অনুরোধ আছে, কিন্তু তা চাইতে আমার লজ্জা হচ্ছে।
আর এই অনুরোধটা হল, আমি এমন অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছি যে আমার কোনো কাফনের কাপড়ও নেই। প্রিয় ফাতিমা! তুমি তোমার বাবাজানকে বল, যদি সম্ভব হয় তাহলে তিনি যেন তাঁর জামার ওপরের ঢিলেঢালা আলখাল্লা তথা আবাটি আমাকে যেন কাফন হিসেবে দান করেন,যা তিনি নামাজের সময় ব্যবহার করেন।যা পরে তিনি হেরা গুহায় যেতেন এবং ওই আবা পরা অবস্থায় তাঁর ওপর ওহি নাজেল হয়েছিল।মহানবীর (সাঃ) কাছে যখন তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীর এই আর্জি পৌঁছল, তখন তাঁর চোখ বেয়ে ঝরে পড়ল অশ্রু।
তিনি বললেনঃ আমাদের ওপর খাদিজার হক এর চেয়েও বেশি। এরপর তিনি নিজের আবাকে খাদিজা (আঃ)’র কাফন হিসেবে ব্যবহার করতে দিলেন। আর এমন সময় জিবরাইল (আঃ) নাজিল হন। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! মহান আল্লাহ আপনার কাছে সালাম পাঠিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন যে, যেহেতু খাদিজা তার সব সম্পদ আমার রাস্তায় ব্যয় করেছে তাই আমি নিজেই তার কাফনের ব্যবস্থা করার জন্য বেশি উপযুক্ত। ফলে তাঁর জন্যই পাঠানো হয় প্রথম আসমানি কাফন যা আর কারো জন্য এর আগে করা হয়নি।
মহানবীও (সাঃ) প্রথমে নিজের আবা দিয়ে ও পরে তার ওপরেই মহান আল্লাহর পাঠানো উপহারের কাপড় তথা বেহেশতি কাপড় দিয়ে হযরত খাদিজাকে কাফন দেন। মহানবী (সাঃ) নিজেই খাদিজার (সা.আঃ) লাশকে গোসল করিয়েছিলেন।
সূত্রঃ শাজারে তুবা, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২২।
বলা হয়ে থাকে নবীজি (সা.)‘র চারিত্রিক সুষমা ও মহানুভবতা, হযরত আলী (আ.)‘র তরবারি এবং হযরত খাদিজা (সা. আ.)‘র অঢেল সম্পদ ছাড়া ইসলাম কখনও এতটা বিকশিত হতে পারত না।
জনাবে তাহেরা (সা. আ.) ছিলেন সেই স্বত্তা যার সম্পদের বিনিময়ে শুরু হয়েছে ইসলামের সুত্রপাত! ইসলাম প্রচারের সূচনালগ্নে মাওলা মুহাম্মদ যখন দ্বীনের দাওয়াত দিতেন তখন সবাই মুখ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছিলেন, কেউ মাওলার কথা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না বা কেউই তার বাপ দাদার ধর্ম থেকে সরে আসতে আগ্রহ পাচ্ছিলেন না। সেই সময়ে এগিয়ে আসেন জনাবে তাহেরা মা খাদিজা, বাসার সামনে চাদর বিছিয়ে তাতে মুদ্রা আর স্বর্নালংকারের স্তুপ করে সবাইকে ডাকতে থাকেনঃ “এসো মুহাম্মদের কলেমা পড়ো, আর যার যা লাগে নিয়ে যাও, দুনিয়াতেও খুশি থাকো আর আখেরাতেও খুশী থাকো।“ অনেকেই দান গ্রহন করে কলেমা পড়ে মুসলিম হয়,
“ অনেকেই দান গ্রহন করে কলেমা পড়ে মুসলিম হয়, আবার কেউ কেউ ভাব দেখায় আমার সম্পত্তি লাগবেনা বলে! তাদেরকে বিবি বলেনঃ “তাহলে আমার কর্জ ফেরত দাও, আর না হয় মুহাম্মদের কলেমা পড়, কর্জ মাফ!” এত লোভনীয় সুযোগ হাতছাড়া করেনি তারা, তাদেরই কেউ কেউ আজ গনী নামে পরিচিত।
দিন শেষে যখন মা খাদিজা খালি চাদর থেকে ধুলি ঝাড়তেন তখন আমার মাওলা হেসে বলতেনঃ “বিবি তোমার সব সম্পদ তো শেষ হয়ে যাচ্ছে!” আমার মা ও হেসে বলতেনঃ “ইয়া মাওলা! এগুলি আপনার হাসির সদকা! এ তো কিছুই নয়, আপনার হাসির জন্য এই কানিজের জানও কোরবান!”
রেওয়ায়েতে আছে একবার হযরত জিবরাঈল (আ.) মহানবী (সা.)-কে বলেনঃ জনাবে খাদিজা (সা.আ.) বাটিতে করে কিছু একটা নিয়ে আসছেন। আপনি তাঁকে আল্লাহর এবং আমার সালাম পৌঁছাবেন। আর একবার মহানবী (সা.)-এর কাছে যখন হযরত জিবরাঈল (আ.) ছিলেন, সে সময়ে জনাবে তাহেরা (সা. আ.)-ও চলে এসেছিলেন। হযরত জিবরাঈল (আ.) তখন বলেন, তাঁকে জান্নাতে মণিমুক্তা খচিত এক গৃহের সু-সংবাদ জানিয়ে দিন। ইমাম মুহাম্মদ বিন আলী আল বাকের (আ.) হতে বর্ণিত হয়েছেঃ “হযরত মুহাম্মাদ (সা.) মিরাজ থেকে ফিরে আসার পথে হযরত জিবরাইলকে (আ.) বললেন, আপনার কোন ইচ্ছা আছে? হযরত জিবরাইল (আ.) উত্তরে বললেনঃ আমার ইচ্ছা আপনি আমার এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত খাদিজা (সা. আ.)কে সালাম পৌঁছে দেবেন।” এসব কল্যাণময় উক্তির উৎস নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওহী এবং এই হচ্ছে হযরত খাদিজা (রা.)-এর মহান চরিত্রের ঐশী উল্লেখ। কেননা,
সূত্রঃ জামেয়াতুল মগীর উল সিউতী, খন্ড‑২, পৃষ্ঠা ২ / উমুদুল গাবা, খন্ড‑৫, পৃ. ৪৩৮ ৩. ইসলামী নীতিদর্শন, পৃ. ৭২।
হযরত খাদিজা (সা. আ.) জন্মের পূর্বে, ঐশী গ্রন্থ ইঞ্জিল যা হযরত ঈসার (সা.) উপর অবতীর্ণ হয়েছিল তাতে “বরকতময় নারী ও বেহেশতে হযরত মরিয়মের (আ.) সাথী” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমনঃ যেখানে হযরত ঈসাকে (আ.) উদ্দেশ্য করে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ তার বংশধর বরকতময় থেকে যিনি বেহেশতে তোমার মাতা হযরত মরিয়মের (আ.) সাথী। হযরত খাদিজা সালামুল্লাহি আলাইহা‘র পদমর্যাদা এত বেশি মূল্যবান ছিল যে, আল্লাহ তাঁর আসমানী কিতাব তাওরাত যা হযরত মুসা (আ.) এর উপর নাজিল হয়েছিল, তাতে উল্লেখ করেছেন যেঃ “হযরত খাদিজার (সা. আ.) উপমা ঐ নদীর পানির সাথে যে পানি আবে হায়াত নামে প্রসিদ্ধ এবং যে নদীর দুই ধারে জীবন বৃক্ষ আছে, যে বৃক্ষের বারোটি ফল আছে আর ঐ বৃক্ষের পাতাগুলো হচ্ছে উম্মতের জন্য নিরাময় স্বরূপ।” যদিও অন্ধকার যুগে সচ্চরিত্র নারী খুবই কম ছিল ও অনেক নারীই সে যুগে অসৎ কর্মে লিপ্ত ছিল কিন্তু হযরত খাদিজা (সা. আ.) সে যুগেও তার সর্বদিক থেকে পবিত্রতার জন্য “তাহেরাহ” অর্থাৎ পবিত্রা উপাধি অর্জন করেছিলেন।তার ব্যক্তিত্ব সে যুগেও এত বেশী উচ্চ পর্যায়ে ও সম্মানের পাত্র ছিল যে, তাকে সবাই “সায়্যেদাতুন নেসাওয়ান” বা নারীদের সর্দারিনী বলে ডাকতেন।
সংক্ষিপ্তাকারে বলতে হয় যে, অন্ধকার যুগের নরীদেও মধ্যে হযরত খাদিজার (সা. আ.) অবস্থান এতটাই প্রিয়ভাজন ও সম্মানিত ছিল যে, পূর্ণতা ও উচ্চ মর্যাদার ক্ষেত্রে ছিলেন অনুপম। সে কারণেই বিবাহের পর রাসূল (সা.) তাকে “কুবরা” বা পরিপূর্ণ ও উচ্চাসন উপাধি দিয়ে ছিলেন
উম্মুল মু‘মিনিন হযরত খাদীজাতুল কুবরা সালামুল্লাহি আলাইহা‘র পবিত্র মাজার শরীফ মোয়াল্লা নামক কবরস্থানে যার অপর নাম আবু তালিবের কবরস্থান।যে বছর হযরত খাদিজা (সা. আ.) ইন্তিকাল করেন সেই বছর ইন্তিকাল করেন রাসূল (সা.)‘র প্রিয় চাচা ও অভিভাবক হযরত আবু তালিব(রা.)।
তাই এ বছরটিকে ইসলামের ইতিহাসে ‘আমুল হোজন’ বা ‘দুঃখের বছর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আপনার প্রতি সালাম,যিনি জীবনে অর্জিত অঢেল অর্থ ও সম্পদ ইসলামের জন্য বিলিয়ে দিয়ে হেসে বলতেন “ইয়া মাওলা! এগুলি আপনার হাসির সদকা! এ তো কিছুই নয়, আপনার হাসির জন্য এই কানিজের জানও কোরবান!
উম্মুল মু‘মিনিন হযরত খাদীজাতুল কুবরা সালামুল্লাহি আলাইহা মৃত্যুর প্রাক্কালে তাঁর আশপাশের অনেকেই তাঁকে কাঁদতে দেখেন। এ সময় তাঁর পাঁচ বছরের কন্যা হযরত ফাতিমা (সা. আ.) কান্নার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেনঃ তোমার বাবার কাছে আমার একটা অনুরোধ আছে, কিন্তু তা চাইতে আমার লজ্জা হচ্ছে।
আর এই অনুরোধটা হল, আমি এমন অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছি যে আমার কোনো কাফনের কাপড়ও নেই। প্রিয় ফাতিমা! তুমি তোমার বাবাজানকে বল, যদি সম্ভব হয় তাহলে তিনি যেন তাঁর জামার ওপরের ঢিলেঢালা আলখাল্লা তথা আবাটি আমাকে যেন কাফন হিসেবে দান করেন,যা তিনি নামাজের সময় ব্যবহার করেন।যা পরে তিনি হেরা গুহায় যেতেন এবং ওই আবা পরা অবস্থায় তাঁর ওপর ওহি নাজেল হয়েছিল।মহানবীর (সাঃ) কাছে যখন তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীর এই আর্জি পৌঁছল, তখন তাঁর চোখ বেয়ে ঝরে পড়ল অশ্রু। তিনি বললেনঃ আমাদের ওপর খাদিজার হক এর চেয়েও বেশি।
এরপর তিনি নিজের আবাকে খাদিজা (সা.আঃ)’র কাফন হিসেবে ব্যবহার করতে দিলেন। আর এমন সময় জিবরাইল (আঃ) নাজিল হন। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! মহান আল্লাহ আপনার কাছে সালাম পাঠিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন যে, যেহেতু খাদিজা তার সব সম্পদ আমার রাস্তায় ব্যয় করেছে তাই আমি নিজেই তার কাফনের ব্যবস্থা করার জন্য বেশি উপযুক্ত। ফলে তাঁর জন্যই পাঠানো হয় প্রথম আসমানি কাফন যা আর কারো জন্য এর আগে করা হয়নি।
মহানবীও (সাঃ) প্রথমে নিজের আবা দিয়ে ও পরে তার ওপরেই মহান আল্লাহর পাঠানো উপহারের কাপড় তথা বেহেশতি কাপড় দিয়ে হযরত খাদিজাকে কাফন দেন। মহানবী (সাঃ) নিজেই খাদিজার (আঃ) লাশকে গোসল করিয়েছিলেন।
সূত্রঃ শাজারে তুবা, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২২।
বলা হয়ে থাকে নবীজি (সা.)‘র চারিত্রিক সুষমা ও মহানুভবতা, হযরত আলী (আ.)‘র তরবারি এবং হযরত খাদিজা (সা. আ.)‘র অঢেল সম্পদ ছাড়া ইসলাম কখনও এতটা বিকশিত হতে পারত না।
“ অনেকেই দান গ্রহন করে কলেমা পড়ে মুসলিম হয়, আবার কেউ কেউ ভাব দেখায় আমার সম্পত্তি লাগবেনা বলে! তাদেরকে বিবি বলেনঃ “তাহলে আমার কর্জ ফেরত দাও, আর না হয় মুহাম্মদের কলেমা পড়, কর্জ মাফ!” এত লোভনীয় সুযোগ হাতছাড়া করেনি তারা, তাদেরই কেউ কেউ আজ গনী নামে পরিচিত।
দিন শেষে যখন মা খাদিজা খালি চাদর থেকে ধুলি ঝাড়তেন তখন আমার মাওলা হেসে বলতেনঃ “বিবি তোমার সব সম্পদ তো শেষ হয়ে যাচ্ছে!” আমার মা ও হেসে বলতেনঃ “ইয়া মাওলা! এগুলি আপনার হাসির সদকা! এ তো কিছুই নয়, আপনার হাসির জন্য এই কানিজের জানও কোরবান!উম্মুল মু’মিনীন খাদিজা (সা.আ.) এর নবুয়ত প্রকাশের দশম বছরে ১০ রমজান ৬৫ বছর বয়সে পবিত্র নগরী মক্কাতে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত খাদিজার (রাঃ) কাফনের কাপড় এসেছিল।
খাসায়েসুল ফাতিমিয়্যাহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রসিদ্ধ বর্ণনানুযায়ী বলা হয়েছে- যখন হযরত খাদিজা (রাঃ) ইন্তেকাল করেন, তখন আল্লাহর রহমতের ফেরেশতা তাঁর পক্ষ থেকে হযরত খাদিজার (রাঃ) জন্য রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর নিকট কাফনের বিশেষ কাপড় নিয়ে এসেছিলেন। রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হযরত খাদিজার (রাঃ) পবিত্র দেহ মোবারক ঐ কাফনের কাপড় দ্বারা কাফন পড়ালেন। অতঃপর সঙ্গী-সাথীদেরকে নিয়ে তার লাশকে কবরস্থানে মোয়াল্লার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন যাতে তাঁর (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাতা হযরত আমিনার পাশে কবরস্থ করতে পারেন। সেখানে হযরত খাদিজার (রাঃ) জন্য একটি কবর তৈরী করা হল ও রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই কবরের ভিতরে নামলেন এবং শুয়ে পড়লেন অতঃপর বাইরে বেড়িয়ে আসলেন। তারপর হযরত খাদিজার (রাঃ) দেহ মোবারককে দাফন করলেন।
আজ ১০ রমজান উম্মুল মু‘মিনিন হযরত খাদীজাতুল কুবরা সালামুল্লাহি আলাইহা‘র পবিত্র ওফাত দিবসে সবাইকে জানাচ্ছি গভীর শোক ও সমবেদনা এবং এই মহান সত্তার শানে পেশ করছি অসংখ্য দুরুদ ও সালাম।
