
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
শ্রীলঙ্কা : ৩৩৮ (চান্দিমাল ১৩৮; মিরাজ ৩/৯০, মুস্তাফিজ ২/৫০, সুভাসিশ ২/৫৩, সাকিব ২/৮০) ও ৩১৯ (করুনারতে ১২৬, পেরেরা ৫০; সাকিব ৪/৭৪, মুস্তাফিজ ৩/৭৮)।
বাংলাদেশ : ৪৬৭ (সাকিব ১১৬, মোসাদ্দেক ৭৫, সৌম্য ৬১, মুশফিক ৫২, তামীম ৪৯; হেরাথ ৪/ ৮২, সান্দাকান ৪/ ১৪০) ও ১৯১/৬ (তামীম ৮২, সাব্বির ৪১; পেরেরা ৩/ ৫৯, হেরাথ ৩/৭৫)।
ফল : বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী। স্যাচ সেরা : তামীম ইকবাল। সিরিজ সেরা : সাকিব আল-হাসান।
সিরিজ : ২ ম্যাচের সিরিজ ১-১ ড্র।
প্রথম ইনিংস থেকেই জয়ের পথে হাঁটতে শুরু করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। শততম টেস্ট ম্যাচ বলে কথা। ঐতিহাসিক ম্যাচকে চিরস্মরণীয় করে রাখলেন সাকিব, তামিমরা। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টেই ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নিলেন টাইগারসরা। প্রথম টেস্টে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টেই জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ। যার ফল দুই টেস্টের সিরিজ শেষ হল ১-১এই। টস জিতে ঘরের মাঠে ব্যাটিংই নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু তাদের বড় রানের পথে প্রথমে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন বাংলাদেশের বোলাররা। দীনেশ চান্দিমালের একটি সেঞ্চুরি ছাড়া সেই ইনিংসে শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে লড়াই দিতে পারেনি আর কোনও ব্যাটসম্যানই। শ্রীলঙ্কা শিবিরে প্রথম থেকেই হামলা করতে শুরু করে দিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর, মেহেদি হাসানরা। না হলে চান্দিমালের ১৩৮ ছাড়া আর কেউই ৪০ রানের গন্ডিও পেড়তে পারেননি। প্রথম ইনিংসে মেহেদি হাসান মিরাজের তিন উইকেট ছাড়াও দুটো করে উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর, শুভাশিস ও সাকিব।
বোলারদের লড়াইয়ের মর্যাদা দিয়ে গেলেন ব্যাটসম্যানরাও। ৩৩৮ রানের লক্ষ্যে নেমে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হল ৪৬৭তে। তামিমের ৪৯ ও সৌম্য সরকারের ৬১ রানের ইনিংস ভিতটা তৈরি করেই দিয়েছিল। এর পর বাংলাদেশের ইনিংসকে ভরসা দেন সাবির রহমান। তিনি আউট হন ৪২ রানে। শেষ বেলায় অবশ্য আসল কাজটি করে যান সাকিব আল হাসান। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১১৬ রান। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত মুশফিকুর রহিম (৫২) ও মোসাদ্দাক হোসেন (৭৫) এর। হেরাথ ও সান্দাকানের চারটি করে উইকেট বড় রান করা থেকে বাংলাদেশকে আটকাতে পারেনি।

শততম টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ জুড়েই চলছে জয়ের উল্লাস। সে উল্লাস ঢাকাতে একটু বেশিই। রাজধানী জুড়ে বিজয়ের মিছিল আর স্লোগান। বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া চারটে নাগাদ জয় নিশ্চিত হতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।
নগরীর শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, সব শ্রেণির মানুষ টাইগারদের এই ঐতিহাসিক বিজয়ে আনন্দ উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন।
