কার্যকর মনিটরিং না থাকলে ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীস্বার্থে আইনের অপব্যবহার বেড়ে যাবে। এর ফলে সরকার ও জনস্বার্থ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষ সঠিকভাবে আইনের প্রটেকশন না পেলে আদালতে যেতে বাধ্য হবে। তিনি মনে করেন, আদালতে মামলার চাপ বেড়ে যাওয়ার এটিও একটি অন্যতম কারণ। সেজন্য এ ধরনের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো চিহ্নিত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচেতনভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অপর একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আমরা সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোয় পূর্ণাঙ্গ আইন উইং খোলার ব্যাপারে। হাতেগোনা কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে স্বল্প পরিসরে আইন শাখা আছে। কিন্তু বিদ্যমান বাস্তবতায় বেশির ভাগ মন্ত্রণালয়ের এখন আইন উইং প্রয়োজন। দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোয় শক্তিশালী আইন উইং গঠন করতে পারলে সঠিকভাবে দ্রুত আইন প্রণয়ন করা সহজ হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের ত্রুটিগুলো যাচাই করে সংশোধন করতেও বেশি সময় লাগবে না।
সূত্র জানায়, মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর/দপ্তর ফি দিয়ে সারা বছর আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বেশির ভাগ মামলার ক্ষেত্রে তারা প্রকারান্তরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে। এজন্য মামলায় সরকারের পক্ষে যেভাবে যুক্তিতর্ক ও তথ্য উপাস্থপন করার কথা, তারা সেটি করেন না। সময়মতো আপিল করার বিষয়টিও ইচ্ছাকৃতভাব এড়িয়ে যান। গোপন এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আইন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তাকেও যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে যথেষ্ট ম্যারিট থাকা সত্ত্বেও সরকার অনেক মামলায় হেরে যায়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়টিও আমলে নিয়েছে। কীভাবে এ চক্রকে প্রতিহত করা যায়, সেটি নিয়ে অনেক প্রস্তাব যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
