ইউরোপ তো বটেই। বিশ্বের সবচেয়ে উদারপন্থী দেশগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত সুইডেন। সিরিয়া যুদ্ধের পর ইউরোপে শরণার্থী সঙ্কট দেখা দিলে জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী ও শরণার্থীকে আশ্রয় দেয় সুইডেন। দেশটির জনগণেরও মোটাদাগে এতে সমর্থন ছিল। কিন্তু বছর কয়েক যেতে না যেতেই এই ইস্যুটি হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনীতিতে বড় বিষয়। জাতীয় নির্বাচনে সব ব্যালট গোনা শেষে দেখা গেছে মধ্য-বামপন্থী শাসক জোট সামান্য ব্যবধানে মধ্য-ডানপন্থী জোটের বিরুদ্ধে এগিয়ে আছে। তবে দুই জোটের কোনটিতেই না থাকা অভিবাসন-বিরোধী ও জাতীয়তাবাদী সুইডেন ডেমোক্রেটস দল প্রায় ১৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে। গত নির্বাচনেও দলটির ভোট ছিল ১২.৯ শতাংশ।
সুইডেনে ভোটের অনুপাতের ভিত্তিতে আসন বন্টন হয়। ফলে ভোট বাড়ার কারণে আসনও বেশি পেয়েছে দলটি।
বিবিসি জানিয়েছে, সরকার গঠনের জোট গড়তে দীর্ঘমেয়াদী লড়াই যে হবে তা প্রায় নিশ্চিত। প্রধান দুই জোট জাতীয়তাবাদী সুইডিশ ডেমোক্রেটসের সঙ্গে জোট গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে দলটির নেতা বলেছেন, অন্য দলগুলোর সঙ্গে কথা বলতে তিনি প্রস্তুত। দলীয় নেতা জিমির আকেসন এক সমাবেশে বলেন, ‘আমরা পার্লামেন্টে আমাদের আসন সংখ্যা বাড়াবো। ফলে সামনের সপ্তাহ, মাস ও বছরগুলোতে সুইডেনে যা-ই ঘটবে তাতে আমাদের ব্যপক প্রভাব থাকবে।’
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্টিফান লফভেনের নেতৃত্বাধীন শাসক জোটে দুই দলÑ সোস্যাল ডেমোক্রেটস ও গ্রিন পার্টি। এই জোটকে পার্লামেন্টে সমর্থন দেয় লেফট পার্টি। অপরদিকে মধ্য-ডানপন্থী বিরোধী জোটে রয়েছে চারটি দল। এই জোটের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী উলফ ক্রিস্টেসন। তিনি মডারেটস দলের প্রধান। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তিনি বলেন, শাসক দল নিজেদের সুযোগ পেয়েছে। এবার তাদের উচিৎ পদত্যাগ করা।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লফভেন বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। দলীয় এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘পার্লামেন্ট শুরু হতে দুই সপ্তাহ বাকি। আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শান্তভাবে কাজ করে যাবো।’ দুই প্রধান জোটের ভোট সংখ্যাই এবার কমেছে। তবে জাতীয়তাবাদী সুইডিশ ডেমোক্রেটস ও ছোট দলগুলোর ভোট বেড়েছে। তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে সুইডিশ ডেমোক্রেটস যেভাবে এগিয়ে ছিল ভোটের ফলাফলে তেমনটা দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্য ডানপন্থী জোটের জন্য সরকার গঠন করা সহজতর। তবে তারপরও অনেক জটিল সমঝোতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এবারের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে অভিবাসন ছিল মূল বিষয়। সুইডিশ ডেমোক্রেটস দল চায়, অভিবাসনের ওপর কড়াকড়ি শুরু হোক। তবে প্রধানমন্ত্রী লফভেন একে ‘বর্ণবাদী’ আখ্যা দিয়েছেন।
