আরিফ খাঁন, স্টাফ রিপোর্টার পাবনা সাঁথিয়ায় আলোচিত দেবর ভাবির প্রেম নিয়ে জটিলতা কাঠছেই না। গত (২৬ শে জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে আপন বড় ভাইয়ের স্ত্রী সম্পা আক্তার (৩৫) দেবর ইব্রাহিম (২৭) কে প্রেমিক দাবি করে তার ঘরে বিয়ের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন। সম্পা আক্তার দুই সন্তানের জননী। দেবর প্রেমিক ইব্রাহিম আফড়া গ্রামের মৃত্য মোকারম শেখের ছোট ছেলে। এর পর প্রেমিক দেবর ইব্রাহিম বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এমন আলোচিত ঘটনা ঘটেছে সাঁথিয়া উপজেলার করমজা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আফড়া হিন্দু পাড়া গ্রামে।
গত বৃহস্প্রতিবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে দেবর ইব্রাহিম অপর এক নারীকে বিয়ে করতে গেলে বিয়ে বাড়িতে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, (২৫ জানুয়ারি) ইব্রাহিমের পরিবার গোপনে অন্যত্র তার ইব্রাহিমের বিয়ে ঠিক করে। শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) ইব্রাহিমের বিয়ের দিন ধার্য হয়। এ খবর পেয়ে বিয়ের দাবিতে (২৬ জানুয়রি) দেবরের ঘরে অনশনে বসেন ভাবি সম্পা আক্তার। এরপর বিষয়টি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় দেবর ভাবির প্রেমের কাহিনি প্রকাশ হয়। ইব্রাহীমের বিয়ের ধার্যকৃত আগের দিন গত বৃহস্প্রতিবার (২৭ জানুয়ারি) আবারও গোপনে বিয়ে করতে যায়। বিয়ে বাড়িতে ঘটে যায় তুলকালাম কান্ড। যে মেয়ের সাথে ইব্রাহিমের বিয়ে ঠিক হয়েছিল তার পরিবার তার সাথে বিয়ে দেবে না বলে সাব জানিয়ে দেয়। অন্যথায় বসে সালিশী বৈঠকে বিয়ের খরচ বাবদ ইব্রাহিমকে দেয়া অগ্রিম ৫০ হাজার দেয়া টাকা ফেরত চায় পাত্রী পক্ষ। এর মধ্যে প্রেমিক ভাবি সেখানে উপস্থিত হয়ে সমস্থ ঘটনা বলে দেয়। পাত্রী পক্ষ থেকে বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করতে যে খরচ হয় সে বাবদ জরিমানা হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দাবী করা হয়। এ সময় অগ্রিম নেয়া ৫০ হাজার এবং লোকজনকে দাওয়াত দেয়া, দই ভরা, গেট সাজানো জরিমানার ক্ষতি পূরণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকাসহ মোট ৮০ হাজার টাকা দিয়ে চলে আসতে হয় বরযাত্রীদের।
অনশনরত সম্পা আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকেই ছোট দেবর ইব্রাহিমের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক। আমি অনেক আগে থেকেই বিয়ের কথা বললে নানান বাহানা দেখিয়ে অনেক বছর পাশ কাটিয়ে যায় ইব্রাহিম। দু বছর আগে স্বামীর সাথে ঝামেলা করে বাবার বাড়ি চলে গেলে ইব্রাহিম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফিরে আসতে বলে আমাকে। গেল সোমবারে আমাকে শাহজাদপুুর মসজিদে গিয়ে কুরআন শরীফ মাথায় নিয়ে শপথ করছে দু-চারদিনের মধ্যে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করবে। এখন আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রেখে গোপনে অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক করেছিল। পাত্রীপক্ষ আমাদের সম্পর্কের কথা জানা জানি হবার পর সে বিয়েও বৃহস্পতিবার ভেঙে গেছে। আমি তিনদিন আমার দেবরের ঘরে বিয়ের দাবিতে না খেয়ে বসে ছিলাম কিন্তু আজ শনিবার (২৯ জানুয়ারি) আমার শাশুড়ী আমাকে ঐ ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দিছে। এখন আমি পাশের বাড়িতে আছি। আমি এলাকার চেয়ারম্যান মাতম্বরদের কাছে বিচার দিয়েছি দেখি তারা কি করে। তা না হলে আমি আইনের আশ্রয় নেব। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, আমার সাথে যদি ইব্রাহিমের সম্পর্ক নাই থাকে তা হলে কেন সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। সবার কাছে তিনি সঠিক বিচার দাবী করেছেন।
দেবর প্রেমিক ইব্রাহিম বলেন, আমার ভাবির সাথে আমার কোনো রকম প্রেমের সম্পর্ক নেই। এর আগেও আমার দুই তিনটা বিয়ে ভেঙে দিয়েছে আমার ভাবি। আমার বিয়ের কথা শুনে ষড়যন্ত্র করে আবারও আমার আরও এটা বিয়ে ভেঙে দিল ৩০ হাজার টাকা জরিমানাও দিতে হয়েছে। আমি এলাকার মাতম্বরদের কাছে বিচার দিয়েছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু দায়েন কালু জানান, এ বিষয়ে দুপক্ষই মৌখিকভাবে বিচার চেয়েছেন। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দুপক্ষকে ডেকে খুব দ্রুতই সমাধান করার চেষ্টা করছি।
