শ্রীবরদীতে চলছে রাস্তা কাটাকাটি : ৫ পরিবার অবরুদ্ধ 

শেয়ার করুন:
শ্রীবরদীতে চলছে রাস্তা কাটাকাটি : ৫ পরিবার অবরুদ্ধ
শেরপুর :
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের খোশালপুর দক্ষিণ গ্রামে প্রতিহিংসার কারণে চলছে রাস্তা কাটাকাটি। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পাঁচ পরিবারের লোকজন। এনিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছে অবরুদ্ধ পরিবারের নাজমুল ইসলাম (৫০)। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, দক্ষিণ খোসালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই রাস্তার জন্য জমি নাই । ফলে স্থানীয় শহিদুল্লাহ মিয়ার জমির ওপর থাকা সরু রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে আসছিলো সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লকের সেপটিক টেংকি শহিদুল্লা মিয়ার বসতঘরের সামনে নির্মাণ করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুন নাহারকে ওয়াশব্লকটি মাঠের অন্যপ্রান্তে করার অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি। ফলে শহিদুল্লা মিয়া তাদের জমির ওপর থাকা সরু রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। এর জের ধরে স্থানীয় লোকজন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে প্রধান শিক্ষকের অনুসারি ক্ষুব্ধ ফজলুল হক ও মোস্তাফিজুর রহমান মুসাসহ তাদের অনুসারীরা গত ১০ জুলাই
১৫ বছর আগে থেকে নির্মিত দুইটি রাস্তা কেটে ফেলে ও কলাগাছের চারা রোপন করে। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শহিদুল্লাহ মিয়া, তার পক্ষের মোহাম্মদ আলী, গোলাপ আলী ও চিকন আলীসহ পাঁচ পরিবারের লোকজন। তাদের বাড়ি-ঘরে যাতায়াত করতে পারছে না। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
শহিদুল্লা মিয়া জানান, আমরা অবরুদ্ধ ও চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। সব রাস্তা কেটে ফেলছে, এখন আমরা নিরুপায় হয়ে পড়েছি। স্থানীয় মেম্বারের সহযোগিতায় তারা এমন কাজ করছে।
মোহাম্মদ আলী বলেন, আমার বাড়ি যাওয়ার পথ বন্ধ। আমি চরম আতঙ্কে ও নিরাপত্তা হীনতায় রয়েছি। আমার স্ত্রী ও কন্যারা সারারাত জেগে থাকতে হয়। আমি এর একটা সুরাহা চাই।
প্রধান শিক্ষকের অনুসারী মোস্তাফিজুর রহমান মুছা বলেন, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা বন্ধ করছে। এর থেকে বন্ধ বন্ধ শুরু হয়েছে। এর পর থেকেই দুইটা পক্ষ হয়েছে। স্কুলের রাস্তা বন্ধ করায় এখন এলাকাতেও রাস্তা বন্ধ শুরু হয়েছে। সরকারী ম্যাপের রাস্তাও তারা কেটেছে। আমরা যেটা কেটেছি এটা আমাদের ব্যক্তিগত বাব দাদার জমি। এর আগে ১৫ বছর তারা জোর করে রাস্তা তৈরি করেছে। এখন আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিছে, তাই রাস্তা কেটে ফেললাম। আমগর জমি আমরা খালাস করলাম।
ফজলুল হক বলেন, এই যায়গার ঘটনাটা হলো প্রাইমারি স্কুলের রাস্তা নিয়ে। তাদের জমির উপর স্কুলের রাস্তা তারা বন্ধ করে দিয়েছে। এর পরে গেরামবাসি (গ্রামবাসী) এক হয়ে তাদের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করেছে। সরকারী রাস্তা তারা তিনদিন আগে কাটছে আমরা আজ তাদের রাস্তা কাটলাম।
এব্যাপারে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার জাহিদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন: