নিজস্ব প্রতিবেদক : এখন রাজনীতি সবাই করে; কিন্তু নেতা হয় কয়জনে? নেতা সবাই হতে পারে না। নেতা হতে দরকার হয় আলাদা যোগ্যতার। যে যোগ্যতা রয়েছে শহীদুল হক শহিদের। যাকে সবাই নেতা শহিদ নামে চেনে। এলাকার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা নেতা বলতে বুঝেন শহীদুল হক শহিদকে। জনগণের কাছ থেকে এ যেন অন্যরকম এক প্রাাপ্তি! আর নেতা তাকে বলবেই না কেন? যে মানুষটি নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে দিন-রাত জনগণের কল্যাণে ব্যয় করেছেন, সেই মানুষই তো নেতা। তাকে নিয়ে তো কথাবার্তা থাকবেই। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে পাবনার বেড়া উপজেলার মাশুমদিয়া ইউনিয়ন থেকে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক শহীদুল হক শহিদ। নৌকা প্রতিকের জন্য তিনি নিজে যতটা না উদগ্রীব, তার চেয়েও বেশি উদগ্রীব এলাকার সাধারণ জনগণ। সাধারণ জনগণের ভালোবাসার কাছে তিনি সবসময়ই দূর্বল। তার মতে, জনগণের ভালোবাসা নিয়েই আজ আমি জনগণের নেতা। জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আরেকবার নির্বাচন করতে চাই। তবে তা নৌকা প্রতিক নিয়ে। সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করেছি, লালন করেছি; বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশ পালন করেছি। নৌকার বাইরে কিছু ভাবতে পারি না, ভাবতে চাইও না। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশনেত্রী শেখ হাসিনা আমার ত্যাগ-তিতীক্ষা বিবেচনা করে যদি আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমাকে নির্বাচন করার সুযোগ করে দেন, আমি পুনরায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত হব ইনশাআল্লাহ।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ইতিহাসের রাখাল রাজা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর আদর্শ বুকে ধারণ করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনতা বিরোধী সকল অপশক্তিকে প্রতিহত করতে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমৃত্যু কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বর্তমানে তিনি মাশুমদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি, কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য তিনি। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৭৩-১৯৭৪ সালে মাশুন্দিয়া ভবানীপুর উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৩-১৯৭৫ পর্যন্ত বেড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৭৩-১৯৭৫ পর্যন্ত মাশুন্দিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৭৬-১৯৮০ পর্যন্ত মাশুন্দিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি, ১৯৭৮-১৯৮০ পর্যন্ত বেড়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি, ১৯৭৮-১৯৮০ পর্যন্ত বেড়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহব্বায়ক, ১৯৭৯-১৯৮০ পাবনা জেলা আওয়ামী যুবলীগের সদস্য, ১৯৭৯-১৯৮১ পর্যন্ত মাশুন্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৮১-২০০৩ পর্যন্ত মাশুন্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ২০১১ সালের ৩১ মার্চ মাশুন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সাথে তার সময়কাল পার করেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কর্তৃক প্রদত্ত মনোনয়ন না পেয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনায় নৌকার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থী না হয়ে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য কাজ করেন এবং নৌকার প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করতে সক্ষম হন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শহীদুল হক শহিদ বলেন, আমার বড় দুই ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তারা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম সুসংঘঠিত করার জন্য কাজ করি। যার কারণে রাজাকারেরা আমার বাবা এবং পরিবারের উপর অমানবিক নির্যাতন করে এবং আমার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি রাজনৈতিক কারণে ১৯৮১ খ্রি. স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ১৯৯১ খ্রি সরকার বিরোধী আন্দোলনে, ২০০১ খ্রি. পরে বিএনপি জামাত এর অবৈধ সরকার গঠনের পর একাধিকবার আমার বাড়িতে হামলা চালায় এবং এক এক করে ১২ টি মামলা দিয়ে হয়রানি করে। ২০০৬ খ্রি. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে কারাবরণ করি। বিগত ২০০৩ খ্রি. চার দলীয় জোট সরকারের আমলে হত্যা মামলার মিথ্যা অভিযোগে কারারুদ্ধ হই।
শহীদুল হক শহিদ ওরফে নেতা শহিদ শুধু রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি একজন সামাজিক মানুষ। সমাজসেবক হিসেবে তিনি এলাকায় সর্বজন বিদিত। তিনি মাশুন্দিয়া ভবানীপুর কে.জি.বি. ডিগ্রি কলেজের বারবার নির্বাচিত গভর্নিং বডির সদস্য হিসাবে দায়িত্বরত আছেন। এছাড়াও দয়ালনগর ছোট ভবানীপুর মসজিদ মাদ্রাসা ও কবরস্থান কমিটির সভাপতি, মির্জাপুর শীতলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য এবং স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণদের সামাজিক সংগঠন দূর্বার তারুণ্য এর অন্যতম উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য তিনি।
শনিবার (২৭ নভেম্বর) ৫ম ধাপের নির্বাচনের তফশীল ঘোষণার সাথে সাথে এলাকাবাসীর মধ্যে ঐক্য আরও সুদৃঢ় হচ্ছে বলে জানা গেছে। শহিদুল হক শহিদকে চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত করার জন্য ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে গণসংযোগ। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের সব শ্রেণিপেশার মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন মতবিনিময় সভা। এ ছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
মাশুমদিয়া এলাকার কয়েক আওয়ামীলীগ নেতা এ প্রতিনিধিকে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে নেতা শহিদকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করতে কাজ করছেন ইউনিয়নের বিশিষ্টজনরা। করোনা মহামারীতে তিনি এ ইউনিয়নসহ সর্বত্র অসহায় পরিবারের ঘরে ঘরে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দেবেন- এটাই আমরা প্রত্যাশা করছি।
রাজনীতি সবাই করে, নেতা হয় কয়জনে?
