মধ্যপ্রাচ্যে পানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা: মুসলমানরা হচ্ছে তার বলি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে পানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ–এ একটি মিঠা পানির ওয়াটার প্লান্টে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। এই ঘটনার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন–এর একটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশ বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে নিরাপদ পানির প্রধান উৎস হচ্ছে সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও কাতার–এর মতো দেশগুলোর পানির বড় অংশই আসে এসব ডেসালিনেশন প্লান্ট থেকে। ফলে এই স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা হলে তা শুধু সামরিক নয়, মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই ধরনের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার প্রবণতা বাড়তে থাকে, তাহলে তা দ্রুতই আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এদিকে কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই পরিস্থিতি বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতিতে বিভিন্ন শক্তি নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য পরোক্ষভাবে সংঘাতকে উসকে দিচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্টে হামলা বা হামলার হুমকি বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
