কাজী কে রহমান চাটগামীঃঃ মওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহ. যখন মজ্জুব হযরত শামসুত তিবরিজ রহ কে চিনতে পারলেন তখন বিনীত হয়ে হযরতের কাছে মুরিদ হতে গেলেন। তিবরিজ বললেন আমি মদ খাবো, আমার জন্য এক বোতল মদ নিয়ে এসো। রুমীর মত এত বড় আলেম মদের দোকানে যাবেন ভাবতেই চমকে উঠলেন। কিন্তু আনতে তো হবে, না হলে মুরিদ হওয়া যাবেনা। অবশেষে রুমী মদের দোকানে গিয়ে বললেন, আমার ঘোড়ার সর্দি করেছে এক বোতল মদ দাও। সেই যুগে ঘোড়াকে সর্দির জন্য মদ খাওয়ানো হতো। রুমী মদ নিয়ে যখন ফিরে এলেন, তিবরিজ বললেন শেষে আমাকে ঘোড়া বানালে? এই মদ হবে না। যাও, এখন গিয়ে বলো আমি রুমী মদ খাবো।বিদ্যার বহরে ঠাসা, জ্ঞানের গরিমায় গরম রুমী নিজের কথা বলে মদ আনলেও, তা আস্তিনে লুকিয়ে আনলেন। তিবরিজ বললেন, এ মদও খাবো না।মদের বোতল সবার সামনে মাথায় করে আনতে হবে। রুমী অনিচ্ছা সত্ত্বেও কামেল পীরের দামান ধরার বাসনায় যখন মদের বোতল মাথায় করে নিয়ে আনতেছেন, তখন জনতা ছিঃ ছিঃ করতে লাগলো, সবাই ধিক্কার দিচ্ছিল। কিন্তু হযরত শামসুত তিবরিজ এ মদ খেলেন না। রুমীকে বললেন ‘এই মদ দিয়ে তোমার যায়নামাজ রাঙ্গিয়ে দাও।মূলত রুমীর মধ্যে থাকা সকল আমিত্ব চূর্ণ করে দিয়ে তাঁকে পরিশুদ্ধ করার জন্যই তিবরিজ প্রকাশ্য রাস্তায় মদ আনালেন এবং পরীক্ষা করলেন তিনি পীরের প্রতি কতটুকু আন্তরিক।মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমী রহ তাঁর বিখ্যাত মসনভী শরীফে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। তিনি আরো বলেন,”মওলবি আয খুদ না শুদ মাওলায়ে রুম তা গোলামে শামস তাবরিযি নাশুদ” অর্থাৎ, শামস তিবরেজের গোলাম হবার পূর্বে আমি রুমী প্রকৃত অর্থে কোন মাওলানাই ছিলাম না।ফেসবুক থেকে সংগ্রহ।
“মওলানা রুমি ও শামসুত তিবরিজ”
