
প্রধানমন্ত্রী মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রভাষার আন্দোলনের পথ বেয়েই এসেছে আমাদের মহার্ঘ স্বাধীনতা। আর আমাদের প্রতিটি অর্জনই করতে হয়েছে লড়াই-সংগ্রামের পথ বেয়ে। বার বার আঘাত এসেছে, কিন্তু বাঙালী জাতি আন্দোলন করেই রূখে দাঁড়াতে হয়েছে। আর বাংলাদেশের যতো অর্জন এসেছে, সেই অর্জনের প্রতিটি আন্দোলনের পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগের অবদান।
নতুন প্রজন্মকে বাঙালীর আন্দোলন-সংগ্রাম, সঠিক ইতিহাস ও অতীত সম্পর্কে অবগত করতে দেশের বিদগ্ধজনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে উদ্বৃত করে বলেন, সেখানে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন- নতুন প্রজন্মকে বাঙালীর সঠিক ইতিহাস ও অতীত জানাতে হবে।’ বঙ্গবন্ধুর এই বক্তব্য আজও আমাদের জন্য প্রযোজ্য। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল, সেটি জানতে দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আমাদের মধ্যেও অনেকে আছেন তাদের মুখ থেকে শুনতে পেয়েছি- বঙ্গবন্ধু জেলে থেকে ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রাখলেন কীভাবে? শুধু পাকি প্রেমিরাই নন, আমাদেরও অনেকে এ নিয়ে এই ভুলটি করেছেন। এ সময় ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানী গোয়েন্দা বাহিনীর রিপোর্টে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর কী কী ভূমিকা ছিল তা অনুষ্ঠানে একে একে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মাতৃভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে চলা আন্দোলন বেগবান করতে বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ গঠন, ছাত্রলীগ, তমুদ্দিন মজলিসসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন, ভাষার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্ব করা, ভাষার আন্দোলন করতে গিয়ে বার বার বঙ্গবন্ধুর কারাবরণ, কারাবন্দী থেকেও ভাষার আন্দোলন সারাদেশে বেগবান করতে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকার কথাও একে একে তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত বাঙালীর প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের প্রকৃত অতীত ইতিহাস নতুন প্রজম্মের সামনে তুলে ধরতেও তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী পুনর্বার বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও উচ্চারণে দেশের নতুন প্রজন্মকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মাতৃভাষায় শিক্ষায় যেভাবে গ্রহণ করা যায়, অন্য কোন ভাষায় তা হয় না। তবে গোটা বিশ্বই এখন গ্লোবাল ভিলেজ। তাই মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্য ভাষাও শেখার সুযোগ থাকতে হবে। তবে ইদানিং দেখছি একটি শ্রেণীর যেন ফ্যাশনে ও প্রবণতায় পরিণত হয়েছে বাংলাকে ইংরেজি একসেন্টে (উচ্চারণ) কথা বলা। বাংলাকে ইংরেজি ধ্বনিতে বলার এই প্রবণতা অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। এটি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নিজের মাতৃভাষাকে বিকৃত করে অন্যদেশের ভাষার আদলে কথা বলার প্রবণতা দূর করতে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
