১.
ঢাকার ভাসানটেক সরকারি কলেজে মহান বিজয় দিবস-২০২১, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার আলোচনাসভা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জাতীয় পতাকা হাতে কলেজ মাঠে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়।
২.
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪.৩০ মিনিটে কলেজ মাঠে সমবেত হয়ে শপথ পাঠ করেন। দিনের অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে ছিলো সূর্যোদয়লগ্নে যথাযথ সম্মানের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ স্মারক ম্যুরালে পুষ্পস্তবক প্রদান, শেখ রাসেল দেয়ালিকায় দেয়াল পত্রিকা উন্মোচন। এছাড়াও কলেজের স্বাধীনতা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভার। সভার শুরুতেই সকলেই নিরবে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য এবং ছড়া, কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনা, শিক্ষকদের ও অতিথিবৃন্দের আলোচনা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মহোদয় এবং সভাপতির বক্তৃতা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিকেল ৪.৩০ মিনিটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জাতীয় পতাকা হাতে কলেজ মাঠে শপথ গ্রহণ ছাড়াও প্রীতি ক্রীড়া অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিলো শিক্ষার্থীদের ফুটবল, শিক্ষকদের ব্যাডমিন্টন শিক্ষিকাদের ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। সকলেই সন্ধ্যায় আলোকসজ্জার নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। অধ্যক্ষ মহোদয়ের সমাপনী ঘোষণার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
৩.
আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার ভাসানটেক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন, বিশেষ অতিথি ছিলেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের কাদেরিয়া বাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আব্দুল মান্নান মিয়া, শিক্ষক পরিষদের প্রাক্তন সম্পাদক এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: বজলুর রহমান রফিক, শিক্ষক পরিষদের বর্তমান সম্পাদক এবং বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব আতিয়া খন্দকার। অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ভাসানটেক সরকারি কলেজের মহান বিজয় দিবস-২০২১, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক, কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মোহন।
৪.
আলোচনাকালে বক্তাগণ বলেন, মহান বিজয় দিবসে আমাদের এবং এই প্রজন্মের জন্য স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ পালন করা খুবই সৌভাগ্যের বিষয় বলে গৌরব বোধ করছি। বাংলা ও বাঙালির প্রবাদ পুরুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে জাতিসত্তায় রূপান্তর করে ‘বাংলাদেশ’ নামক জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার নেতৃত্বের একমাত্র কৃতিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এ কারণেই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস যতদিন, যতবার লেখা হবে, পড়া হবে, ততদিন, ততবার বঙ্গবন্ধু বারবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই অনন্য দুই মহান উপলক্ষ আমাদের প্রিয় স্বদেশ বাংলাদেশ সৃষ্টির মুহূর্ত এবং সেই সৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর অনন্য ভূমিকার কথা আরেকবার মনে করিয়ে দিচ্ছে। উপনিবেশ-উত্তর আমলে বাংলাদেশই একমাত্র ভূখণ্ড, যেটি নৃতাত্ত্বিক-ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করেছিল। এর আগে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার কোথাও এ ধরনের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জন করতে পারেনি। আমাদের আরেক স্মরণীয় সাফল্য হলো মাত্র ২৪ বছরের মধ্যে আমরা পাকিস্তানের উপনিবেশ থেকে মুক্ত হতে পেরেছিলাম। স্বাধীনতা আমাদের রক্তে কেনা অর্জন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো এক জন মহামানবের জন্ম এই মাটিতে হয়েছিল বলে আমাদের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমাদের এই অর্জনকে অর্থবহ করতে হবে।
আবদুল্লাহ আল মোহন
আহ্বায়ক / সভাপতি
মহান বিজয় দিবস ২০২১, মুজিব শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটি/অনুষ্ঠান
১৬ ডিসেম্বর ২০২১
