বিএনপি সরকারের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ : বছরে ৫ কোটি চারা রোপণের পরিকল্পনা

বিএনপি সরকারের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ : বছরে ৫ কোটি চারা রোপণের পরিকল্পনা
শেয়ার করুন:

বিএনপি সরকারের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ : বছরে ৫ কোটি চারা রোপণের পরিকল্পনা
এ কে খান :
দেশজুড়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বৃদ্ধি করতে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রতি বছর পাঁচ কোটি চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী বনায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। গতকাল এক তার মন্ত্রণালয়ের কক্ষে এক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, অতীতে বিএনপি সরকারের সময় বিভিন্ন এনজিও, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি ব্যাপকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল। এতে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় একদিকে যেমন বনায়ন বৃদ্ধি পেয়েছিল, অন্যদিকে বেকারত্ব হ্রাস ও পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। মন্ত্রী বলেন, সে সময় জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক বনায়ন, ফরেস্ট্রি সেক্টর প্রকল্প, ডেন্স প্লান্টেশন, ট্রি ডিপোজিট স্কিম, ভিলেজ ফার্ম ফরেস্ট্রি ও রাস্তার ধারে বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। এসব প্রকল্পে এনজিও, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের যৌথ অংশগ্রহণে বিপুল পরিমাণ গাছ লাগানো সম্ভব হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় আবারও পরিকল্পিতভাবে ব্যাপক বনায়নের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগণ, উপকার ভোগীদের সমন্বয়ে ব্যয়সাশ্রয়ী ও টেকসই পদ্ধতিতে বন সৃজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাস্তার ধারে বৃক্ষরোপণ, সামাজিক বনায়ন সম্প্রসারণ এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে বনজ সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ বিষয়ে বন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আসন্ন ঈদের পর বিস্তারিত আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ সেবক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের দেশের শীর্ষ পযায়ের ও আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস’র নিবাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগম। তিনি বন ও পরিবেশ খাতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। অধ্যাপিকা ড. হোসনে-আরা বেগম আরও বলেন, সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। পরিকল্পিতভাবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশব্যাপী সবুজায়ন বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে। এ সময় মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও টিএমএসএস’র নির্বাহী পরিচালকের একান্ত সচিব সার্বিক মোঃ ফেরদৌস রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন: