হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে টিআর/কাবিখা কর্মসূচীর আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থানা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্ধকৃত সরকারি ঘরের বারান্দার পিলার ভেঙ্গে সিরাবজান বিবি (৮৯) নামে এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। তিনি উপজেলা সদরের ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের অন্তর্গত ৭নং ওয়ার্ডের মাদারীটুলা গ্রামের মৃত নেয়ামত উল্লাহর স্ত্রী। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটায় এ ঘটনা ঘটে।
সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য দিনের ন্যায় সিরাবজান বিবি দুপুরের খাবার শেষে সরকারি বসত ঘরের সামনের বারান্দার পিলারে হেলান দিয়ে চেয়ারে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এতে পিলারটি ভেঙ্গে ৩ টুকরো হয়ে ওই বৃদ্ধা মহিলার উপরে পড়ে যাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ খবরটি শোনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ্মাসন সিংহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) পলাশ রঞ্জন দে, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমরান হোসেন ও পিআইও মলয় কুমার দাস।
ওই বৃদ্ধা মহিলার ১ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তান রয়েছে। সূত্র আরও জানায়, ওই সরকারি ঘরটি ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে নির্মাণ হয়েছে এবং ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮ শত ৬০ টাকা। তবে বারান্দার পিলারে কোন রড ছিল না। শুধু ইট এবং মসলা দিয়ে এ পিলারটি নির্মিত হয়েছিল। তবে ঘরের ড্রয়িংয়েই রড ছিল না, তাই পাকা পিলারেও রড দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে পিআইও মলয় কুমার দাস জানান, দুর্যোগ সহনীয় ঘরের আওতায় এই ঘরটি প্রায় ২ বছর আগে নির্মাণ করে দেয়া হয়। যার কাজ সম্পাদন করেন ঘরের মালিক নিজেই। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সাটি উঠানের মধ্যে ঘুরানোর ফলে হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালক ঘরের বারান্দায় পিলারে এসে ধাক্কা দেয়। সেই ধাক্কায় পিলার ভেঙ্গে বারান্দায় বসা বৃদ্ধার উপরে গিয়ে পড়ে। সেখানেই তিনি মারা যান।
বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমরান হোসেন জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করার জন্য তার আত্মীয়স্বজনরা লিখিত আবেদন করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ জানান, নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা প্রথমে জানিয়েছিল অটোরিক্সার ধাক্কায় পিলার পড়ে বৃদ্ধা মারা গিয়েছেন। পরবর্তীতে তারা এই বিষয়টি অস্বীকার করে এটাকে ভিন্নদিকে প্রভাবিত করার জন্য এখন অন্যরকম কথা বলছেন
