মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি নেই মাহমুদ খলিলের আটক: মার্কিন বিচারক

শেয়ার করুন:

নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী ছাত্র-অ্যাক্টিভিস্ট মাহমুদ খলিলকে আটকের ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কোনো বৈধ ভিত্তি নেই বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন জেলা বিচারক। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারক এই রায় দিলেও অবিলম্বে খলিলের মুক্তির নির্দেশ দেননি।

নিউ জার্সির নিউয়ার্কে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক মাইকেল ফারবিয়ারজ বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে ‘বাকস্বাধীনতা লঙ্ঘনের’ মাধ্যমে একটি অপ্রচলিত অভিবাসন আইন ব্যবহার করে ফিলিস্তিনপন্থী ছাত্র-অ্যাক্টিভিস্ট মাহমুদ খলিলকে আটক করেছে, তা অসাংবিধানিক। এই আইনের আওতায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন যেকোনো অ-নাগরিককে আটকের অনুরোধ করতে পারেন যার উপস্থিতি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়।

বিচারক তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন, এই অজুহাতে ফিলিস্তিনপন্থী ছাত্র-অ্যাক্টিভিস্ট মাহমুদ খলিলের আটক ও নির্বাসনের চেষ্টার কোনো ন্যায্যতা নেই এবং প্রশাসন এটি করে খলিলের মৌলিক মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করেছে।

তবে প্রশাসনকে আপিল করার সুযোগ দিতে শুক্রবার সকাল ৯:৩০ (EDT) পর্যন্ত রায় কার্যকর হবে না বলে জানানো হয়েছে।

খলিলের স্ত্রী ডা. নূর আবদাল্লা এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই খবরের জন্য আমরা তিন মাস ধরে অপেক্ষা করছিলাম। মাহমুদকে এখনই মুক্তি দিতে হবে এবং আমাদের নবজাতক শিশু দ্বীনের সাথে সে যেন নিরাপদে নিউইয়র্কে ফিরে আসতে পারে—এই আমাদের প্রার্থনা।”

মাহমুদ খলিলের আটক প্রসঙ্গটি যুক্তরাষ্ট্রে বাকস্বাধীনতা ও অভিবাসন নীতির মধ্যে সংঘাতের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনপন্থী মতপ্রকাশ ও শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতি প্রশাসনের মনোভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শেয়ার করুন: