‘বসবাস করেন ভারতে, চাকরী করেন বাংলাদেশে’ শিরোনামে বিভিন্ন অনলাইন নিউজপোর্টালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। পাবনার বেড়া উপজেলার মাশুন্দিয়া-ভবানীপুর কেজেবি ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বনাথ দত্তকে নিয়ে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
বিশ্বনাথ দত্ত ৪/১০/১৯৮৮ তারিখে অত্র কলেজে গণিত বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১/৭/১৯৯৩ তারিখে এমপিও ভুক্ত হন। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেছেন। গত ৩-৪ বছর পূর্বে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ভারতে দেবী শেঠীর অধীনে ওপেন হার্ট সার্জারী করেন। বয়সের কারণে অপারেশন পরবর্তী জটিলতা এড়ানোর জন্য তিনি নিয়মিত চেকাপের জন্য মাঝেমধ্যে ভারতে ডাক্তার দেখাতে যান। ফলে প্রতিবেদনে উল্লেখিত ভারতে বসবাসের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। মানবিক কারণে কলেজ গভর্নিং বডির সাথে আলোচনা সাপেক্ষেই বিশ্বনাথ দত্তের ছুটি মঞ্জুর করে তার বেতনভাতা বহাল রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে আমি বিশ্বনাথ দত্তের বেতনের অংশ থেকে অর্ধেক গ্রহণ করে তার চাকরী জায়েজ করে দিয়েছি। বিশ্বনাথ দত্তের বেতনের অংশ আমি কিভাবে গ্রহণ করবো? তার ব্যাংক হিসাব থেকে আমার টাকা উঠানোর কোন সুযোগ নেই। আমি মানবিক কারণে বিশ্বনাথ দত্তকে চাকরীতে বহাল রেখেছি। বিশ্বনাথ দত্ত নিজেই প্রতি মাসের বেতন বিলে স্বাক্ষর করে টাকা উত্তোলন করে থাকেন। গতকাল বিশ্বনাথ দত্ত দেশে ফিরেছেন। আমি বিশ্বনাথ দত্তের সাথে কথা বলে এবং ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জেনেছি- গত ছয় মাস তার বেতনের অর্থ তার ব্যাংক একাউন্টেই রয়ে গেছে। তার ভাই সুনীল দত্তও এই অর্থ উত্তােলন করেননি। ৩ বছর ধরে আমার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন নিয়ে যে কথা উঠেছে, তাও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কলেজ গভর্নিং বডি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অবগত করে আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং আমি নিষ্ঠার সাথে সে দায়িত্ব পালন করে চলেছি। তাই প্রকাশিত সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য শুভাকাঙ্ক্ষিদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
আব্দুস ছালাম বিশ্বাস
অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত)
মাশুন্দিয়া-ভবানীপুর কেজেবি ডিগ্রি কলেজ
বেড়া, পাবনা।
