
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি সব কিছুই সহ্য করে যেতে পারি কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। উচ্চ আদালতে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনা করার তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন বাংলাদেশকে পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুলনা করা হবে? আমাকে এ ধরনের হুমকি দিয়ে কোন লাভ হবে না। এজন্য জনতার আদালতে বিচার প্রার্থনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৫ আগস্টের অন্যান্য শহীদ, চার জাতীয় নেতা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সামনে অস্থায়ী স্মৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে ২১ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের জেষ্ঠ্য নেতা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কেউ অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা চালালে তার বিচার করা হবে। বাংলাদেশে আর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে দেয়া হবে না। যদি কেউ সে অপচেষ্টা চালায় তাকে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিম-লির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি আলহাজ নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, কার্যকরী সভাপতি মইনুদ্দিন খান বাদল, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিশিষ্ট লেখক ইমদাদুল হক মিলন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশ’ এ বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ হামলার লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে নির্মূল করা। এ হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত এবং ৫শ’ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে অনেকে চিরকালের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছে। অল্পের জন্য শেখ হাসিনা সেদিন বেঁচে গেলেও সমাবেশ স্থলে ট্রাকের কাছে গ্রেনেড বিস্ফোরণে তার কানের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
