দেশের সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, মহাপুলিশ পরিদর্শককে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন গঠন হওয়ার পর মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৃহৎ পরিসরে প্রথম এ বৈঠক হতে যাচ্ছে।
সূত্রমতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে এসেছে। বৃহস্পতিবারও সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গাইবান্ধা জেলা পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দিয়েছে। এরপর ওইদিনই ইসি থেকে সব ডিসি-এসপিদের কঠোর নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি জেলা পরিষদ নির্বাচনে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে এ সভা হতে যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকের কার্যপত্রে ফরিদপুর-২ ও গাইবান্ধা-৫ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন, ৫৭টি জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ তফসিল ঘোষিত বেশকিছু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে আচরণ বিধি প্রতিপালনের বিষয় রাখা হয়েছে।
ভোলা ও ফেনীর সব পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ও উচ্চ আদালতের আদেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এগুলো কার্যপত্রে আনা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান বলেন, ‘সর্বপ্রকার নির্বাচন পরিচালনায় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও সামনে জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন আছে, তাই সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশন মাঠের রিপোর্ট বুঝতে চায়। জেলাপর্যায়ে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদের চ্যালেঞ্জগুলো জানতে চায়। এ কারণে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনসহ সর্বপ্রকার নির্বাচন দক্ষতার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে মতবিনিময়, সমন্বয় সাধন ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করাই হবে এই আলোচনার উদ্দেশ্য। এ ছাড়াও নির্বাচন পরিচালনা করতে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো উত্তরণের পথ বের করতে মতবিনিময় করবে কমিশন।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর গাইবান্ধা-৫ উপ-নির্বাচন, ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদ নির্বাচন ও ৫ নভেম্বর ফরিদপুর-২ আসনের উপনির্বাচন এবং ২ নভেম্বর স্থানীয় সরকারের বেশ কিছু নির্বাচন রয়েছে।
