আমিনপুর থানার ওসির গ্রেফতার বাণিজ্যের শিকার হাসপাতাল ম্যানেজার

শেয়ার করুন:

আমিনপুর থানা প্রতিনিধি : পাবনার আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি গ্রেফতার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় প্রতিদিন নিরীহ ও সাধারণ জনগণ তার এই বাণিজ্যের শিকার হচ্ছেন। গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয় নিরীহদের। অথচ প্রকৃত অপরধীরা ছাড় পাচ্ছে টাকার বিনিময়ে। গভীর রাতে নিরীহদের গ্রেফতার করে দালালদের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে অর্থ দাবী করে থাকেন ওসি। মানসম্মানের ভয়ে অনেকেই ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ছাড়া পেয়ে যান। একটি অলিখিত চুক্তির মাধ্যমে কারো কারো ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানোর শর্তেও অর্থ আদায় করা হয়। 

ওসির গ্রেফতার বাণিজ্যের শিকার হয়ে গতকাল গ্রেফতার হন কাশীনাথপুরের স্বনামধন্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্রিসেন্ট হাসপাতালের ম্যানেজার মারুফ হোসেন চৌধুরী। কোন অভিযোগ ছাড়াই হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালীন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন। ওসি অভিযোগে জানান, তার বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ রয়েছে। অথচ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি- মারুফ হোসেন চৌধুরী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করেন। তিনি রাজনৈতিক কোন ঝামেলায় কখনও নিজেকে সম্পৃক্ত করেন না।

ক্রিসেন্ট হাসপাতাল লি. এর পরিচালক ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মজিদ মৃধা এ প্রতিনিধিকে বলেন, মারুফ হোসেন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে অত্র হাসপাতালে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তিনি একজন সামাজিক মানুষ। নাশকতা তো দূরের কথা, তিনি কোনদিন কাউকে গালি দিয়ে কথা পর্যন্ত বলেননি। কেন তাকে গ্রেফতার করা হলো তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্ত্বর তার মুক্তি দাবী জানাচ্ছি। 

গ্রেফতারকৃত মারুফ চৌধুরীর সাথে ওই রাতে থানায় গিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, কার কোন রোষানলের শিকার যে আমাকে হতে হলো বলতে পারবো না। তবে  আমি কেমন মানুষ সে সম্পর্কে আমার এলাকার মানুষ ভালো বলতে পারবেন। এর চাইতে বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না। 

আমিনপুর থানা এলাকায় কর্মরত কয়েকজন সংবাদকর্মী জানান, ওসি আনিসুরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। উৎকোচের বিনিময়ে মামলা না নেয়া, অভিযোগ থেকে আসামিদের নাম বাদ দেয়া, মামলার কার্যক্রম ঝুলিয়ে রাখার বিস্তর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এসব কারণে আমিনপুর থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। 

সম্প্রতি নাটিয়াবাড়ি গ্রামে মনোরমা সূত্রধর (৬৫) নিজ বাড়িতে খুন হন। দূর্বৃত্তরা তার বাড়িতে ঢুকে তাকে খুন করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। অথচ ওসির গাফলতিতে এখন পর্যন্ত এই খুনের রহস্য উদঘাটন ও কোন আসামি আটক হয়নি বলে নিহতের ছেলে সমীরণ সূত্রধর অভিযোগ করেন।

জুন মাসে জাতীয় দৈনিক প্রভাতের সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মিঞা সালাহউদ্দিনের আমিনপুরস্থ গ্রামের  বাড়িতে ভয়াবহ চুরি সংঘটিত হয়। মিঞা সালাহউদ্দিন এ বিষয়ে মামলা দায়েরের জন্য আমিনপুর থানায় গেলেও ওসি মামলা নিতে গড়িমসি করেন। 

আগস্ট মাসে কাশিনাথপুর হাটে কোরবানীর গরু বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে আমিনপুর থানাধীন সিন্দুরিয়া ব্রীজের কাছে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে সর্বস্ব খুইয়ে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফেরেন ঢালারচরের আব্দুস সালাম ও ভাটিকয়া গ্রামের সাজেদুল। গত ছয় মাসে আমিনপুরে আরও অন্তত ২৫ থেকে ৩০ টি ভয়াবহ চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে থানা পুলিশ এ নিয়ে কোন আগ্রহ দেখায়নি। 

মুক্তিযোদ্ধা মিঞা সালাহউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আনিসুর রহমান ওসি হিসেবে যোগদানের পর থেকে এখানে কোন শৃঙ্খলা নেই । থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ওসি বলেন, অর্থ-ধন-দৌলত আপনার। এগুলো দেখে রাখার দায়িত্বও আপনারই। আমরা কি আপনার বাড়ি পাহাড়া দিয়ে রাখবো?

ওসি আনিসুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হননি। 

শেয়ার করুন: