সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক আসিফ রহমানের ৩৭ মাসের কারাদণ্ড: ইরান-ইসরাইল সংঘাত নিয়ে ‘টপ সিক্রেট’ নথি ফাঁসের দায়ে দণ্ডিত
ঢাকা, ১২ জুন, ২০২৫ (বাসস):
ইরানের ওপর ইসরাইলের সম্ভাব্য পাল্টা সামরিক হামলার বিষয়ে ‘টপ সিক্রেট’ মার্কিন গোয়েন্দা নথি ফাঁসের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক আসিফ রহমানকে তিন বছর এক মাসের (৩৭ মাস) কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। বুধবার এক বিবৃতিতে মার্কিন বিচার বিভাগ এ তথ্য জানায়।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি’র পাঠানো খবরে বলা হয়, ৩৪ বছর বয়সী আসিফ রহমান ২০১৬ সাল থেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)-তে কর্মরত ছিলেন। তার ছিল ‘টপ সিক্রেট’ পর্যায়ের নিরাপত্তা ছাড়পত্র। গত বছর নভেম্বর মাসে এফবিআই তাকে কম্বোডিয়ায় গ্রেপ্তার করে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে আসিফ জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত গোপন তথ্য নিজের কাছে ইচ্ছাকৃতভাবে সংরক্ষণ এবং তা অনুমতিহীন ব্যক্তিদের কাছে পাঠানোর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এই অপরাধে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারত।
ঘটনার পটভূমি
গত বছরের ১ অক্টোবর হামাস ও হিজবুল্লাহ নেতাদের হত্যার জবাবে ইরান প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলে ছোড়ে। এরপর মাসের শেষদিকে ইসরাইল পাল্টা সামরিক হামলা চালায় ইরানে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, ১৭ অক্টোবর আসিফ রহমান যুক্তরাষ্ট্রের এক মিত্র দেশের প্রস্তুতকৃত দুটি ‘টপ সিক্রেট’ সামরিক নথি প্রিন্ট করেন, যাতে ছিল ওই মিত্রদেশটির শত্রুর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনার বিবরণ। এরপর তিনি নথিগুলোর ছবি তুলে কম্পিউটারে সম্পাদনা করে উৎস গোপন করার চেষ্টা করেন এবং তা এমন ব্যক্তিদের পাঠান, যাদের এসব classified তথ্য দেখার অনুমতি ছিল না। পরে অফিসেই তিনি কাগজগুলো কেটে ফেলেন।
ফাঁস ও প্রভাব
এই নথিগুলো পরে “মিডল ইস্ট স্পেকটেটর” নামে একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়। এতে ইরানের ওপর সম্ভাব্য ইসরাইলি হামলার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে, যদিও নির্দিষ্ট হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দৈনিক ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানায়, নথিগুলো তৈরি করেছিল ন্যাশনাল জিওস্পাশিয়াল-ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (এনজিএ)। এতে ইসরাইলের একটি বিমানঘাঁটির অনুশীলন ও অস্ত্র সরবরাহ সংক্রান্ত উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তথ্য ফাঁসের কারণে ইসরাইলের পাল্টা হামলার সময়সূচিতে বিলম্ব ঘটে।
বিচার বিভাগের মন্তব্য
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও নিরাপত্তা হুমকির মতো গুরুতর অপরাধে আসিফ রহমানের দণ্ড একটি প্রয়োজনীয় বার্তা বহন করে: “জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের অপব্যবহার করলে কাউকে ছাড়া দেওয়া হবে না।”
