জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে যথাযোগ্য মর্যাদায়। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ভোর ৬টা ৩৩ মিনিটে সূর্যোদয়ের সময় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমানসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।
সকাল ৮টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট এবং অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা। এরপর শিক্ষক সমিতি, মহিলা সমিতি, বিভিন্ন হল প্রাধ্যক্ষ, ছাত্র সংগঠন এবং পেশাজীবী সংগঠনগুলোও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে উপাচার্য বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “১৯৭১ ও ২০২৪ সালের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ১৯৭১-এ আমরা মানচিত্র পেয়েছি, কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও বৈষম্য ছিল। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে।” তিনি আরও বলেন, তরুণরা সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে কখনো পিছপা হয় না।
খেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
বিজয় দিবসের অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উপাচার্য কাপ হ্যান্ডবল (ছাত্রী) প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেগম সুফিয়া কামাল হল ৮-৩ গোলে নবাব ফয়জুন্নেসা হলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। একই দিন সকাল ১১টায় চ্যান্সেলর কাপ ফুটবল (ছাত্র) প্রতিযোগিতার ফাইনালে আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে শহীদ রফিক-জব্বার হলকে পরাজিত করে শিরোপা জেতে। খেলা শেষে উপাচার্য বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
প্রদর্শনী ও অন্যান্য আয়োজন
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে ‘বাংলাদেশের অভ্যুদয়: স্বাধীনতা যুদ্ধ, সভ্যতা ও সংস্কৃতি’ শিরোনামে বই, তথ্যচিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মহুয়া তলায় ‘বিজয়ের গান’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সেলিম আল-দীন মুক্তমঞ্চে আরও একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং নতুন কলা ভবনে বইমেলার আয়োজন করা হয়।
প্রীতিভোজ ও আলোকসজ্জা
বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ করা হয় ৫০০ টাকা, যা দিয়ে পরিবেশন করা হয় ৮ ধরনের খাবার। হলগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজনগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত
