গারো পাহাড়ে নতুন উদ্ভাবিত আগাম শিম চাষে কৃষক খুশি

শেয়ার করুন:

গারো পাহাড়ে নতুন উদ্ভাবিত আগাম শিম চাষে কৃষক খুশি
শেখ সাঈদ আহমেদ সাবাব, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কর্তৃক ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উদ্ভাবিত বারি শিম-৭ জাতের শিমটি উচ্চ ফলনশীল ও গ্রীষ্মকালে চাষের জন্য উপযুক্ত। তবে এটি সারা বছর চাষ করা যায়। এ জাতের শিম চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ভারত সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া এলাকার কৃষক আব্দুল কাদির। আবহাওয়া ও জমি চাষের উপযোগী হওয়ায় শিমের  বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া আগাম শিমের বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও দাম চড়া থাকায় ভীষণ খুশি তিনি।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন গাজিপুরের পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এ কৃষক। পোশাক কারখানায় উপার্জিত অর্থে সংসার না চলায় বাড়িতে চলে আসেন তিনি। এর পর থেকেই বাড়ির পাশের জমিতে শাক-সবজি চাষাবাদ শুরু করেন। ২০২২ সালের জুলাই মাসের শুরুতে ২০ শতাংশ জমিতে শীতকালীন আগাম জাতের শিম  কেরালা-১ চাষ করে সফল হয়েছেন তিনি।

কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, ‘২০২২ সালে ইউটিবে দেখে কেরালা-১ জাতের শিমের বীজ সংগ্রহ কওে চাষ করে লাভবান হয়েছিলাম। এ বছর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগ শেরপুর থেকে উচ্চ ফলনশীল ও গ্রীষ্মকালে চাষের জন্য উপযুক্ত বারি শিম-৭ জাতের শিমের ২৫০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করি। প্রথম বার হওযায় মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে চলতি বছরের মে মাসে
নতুন উদ্ভাবিত এ জাতের শিমের বীজ রোপণ করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিম চাষে শ্রমিক খরচ, সুতা, কীটনাশক, পানি, সারসহ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা তাকে খরচ করতে হয়েছে। ভালো ফলনের জন্য রাত দিন গাছের যত্ন নিয়েছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় বাগানজুড়ে শিম গাছে ফুল এসেছে। এসেছে কাক্সিক্ষত ফসল। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছি। তার তথ্যমতে, গত তিনদিনে ১৫০ টাকা কেজি ধরে ১ মণ  ২০ কেজি শিম বিক্রি করেছেন। এমন অবস্থা চলমান থাকলে আর আবহাওয়া ভালো থাকলে বাগান থেকে আরও লাভ হবে বলে আশা করি। আমাকে দেখে এলাকায় এখন অনেকেই শিম চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন। এটা দেখে খুব ভালো লাগে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া এলাকায় বিভিন্ন সবজিতে ভওে গেছে ফসলের মাঠ। তন্মধ্যে আব্দুল কাদিরের শিম বাগানের জমির আনাচে-কানাচে শিমের সাদা ফুলে ভরে  গেছে। থোকায় থোকায় পরিপুষ্ট শিমে ভরে গেছে গাছ। কৃষক আব্দুল কাদির জমিতে চাষ করা শিম বাগান থেকে শিম তুলছেন। সঙ্গে আরেক নারী শ্রমিক শিম গাছের পরিচর্যা করছেন।

সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার বলেন, ‘কাদিরের চাষ করা শিমের বাগানে প্রচুর ফুল ফুটেছে। অল্পসময়ের মধ্যে এ জাতের শিম গাছে ফলও এসেছে অনেক। আমিও এ জাতের শিম চাষের পরিকল্পনা করতেছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘এ উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি খুবই উর্বর। তাই এখানকার কৃষকদের সবজি বাগান গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এখন ওইসব এলাকায় ব্যাপক সবজি চাষ হচ্ছে এবং কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। বেশ কয়েকজন কৃষক আগাম জাতের শিম চাষ করে ভালো ফলন ও বাজারে চড়া মূল্য পাওয়ায় কৃষকরাও খুশি। তাদের দেখা-দেখি অন্যরাও সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

শেয়ার করুন: