খন্দকার আজিজুল হক আরজুকে পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দেখতে চান তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা

শেয়ার করুন:

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সম্মেলনে পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খন্দকার আজিজুল হক আরজুকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।
জানা যায়, খন্দকার আজিজুল হক আরজু ১৯৫৮ সালের ৭ এপ্রিল বেড়া উপজেলার নাটিয়াবাড়ির রাজনারায়ণপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম খন্দকার জনাব আলী ছিলেন একজন শিক্ষক। ১৯২১ সালে কলকাতার হুগলীতে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৬৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তার মাতা মৃত সৈয়দা মাহফুজন নাহার বেগম ছিলেন একজন আদর্শ গৃহিনী। পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে আজিজুল হক আরজু বাবা-মায়ের ৮তম সন্তান।
তার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম খন্দকার ফজলুল হক
জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতা ছিলেন। পেশায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা। মেঝ ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. খন্দকার বজলুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে এবং পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। সেজ ভাই খন্দকার মাজিদুল হক বিসিআইসি’র অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা। ছোট ভাই খন্দকার সিরাজুল হক হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।
খন্দকার আজিজুল হক আরজুর শিক্ষা জীবন শুরু হয় নাটিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করে ভর্তি হন ধোবাখোলা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে।সেখান থেকে সুনামের সাথে মাধ্যমিক পাশ করে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বি.কম অনার্সে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেখান থেকেই তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতিতে ছিল তার প্রচণ্ড ঝোঁক। যার ফলশ্রুতিতে তিনি ১৯৬৯ সালে ধোবাখোলা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে পাকিস্তান ছাত্রলীগের স্কুল কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হন।
১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হবার পর জাতীয় ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর দুইবার মহসিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৯ সালে মহসিন হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এজিএস নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে ১৯৮০ সালে জিএস পদে নির্বাচন করেন। সে সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, তিনি জাতীয় ছাত্রলীগ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকাকালীন পারিবারিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র ও প্রগতির ধারায় বিশ্বাসী হয়ে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে, ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে বেড়ার অংশের পাঁচটি ইউনিয়নের নির্বাচনের সকল দায়-দায়িত্ব তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দানকারীদের সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আহম্মেদ তফিজ উদ্দিনের পক্ষে কাজ করেন।
২০০১ সালে ড. মির্জা জলিল, ১৯৯৬ সালে আহম্মেদ তফিজ উদ্দিন ও ১৯৯৮ সালের উপ-নির্বাচনে এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের পক্ষে এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বেড়ার ৫টি ইউনিয়নের আর্থিক খরচাদির দায়িত্বসহ সকল নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন।
প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে যতবার পরাজিত হযেছেন ততবারই তিনি নির্বাচনের পর হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি নির্বাচনী এলাকা পাবনা-২ এর প্রতিটি নেতা-কর্মীর দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং নৈতিক সহযোগিতা, কারামুক্তির জন্য আইনী লড়াই এমন কি পলাতক কর্মীদের থাকা খাওয়াসহ সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন।
২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে বেড়া উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ৫ বছর শতভাগ সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়ে তার নির্বাচনী এলাকার তৃণমূল নেতাদের সাথে নিয়ে ৫ বছর সততার সাথে এলাকার উন্নয়ণ করেন।
তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হতে শুরু করে বিভিন্ন সম্পাদক মণ্ডলীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ সালে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হন এবং তারপর ২০১৫ সালের সম্মেলনে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সহসভাপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে অদ্যাবধি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
খন্দকার আজিজুল হক আরজু ব্যক্তিগত জীবনে এক কন্যা সন্তানের জনক। কন্যা অর্ঘ পেশায় একজন এমবিবিএস ডাক্তার। বর্তমানে বারডেম হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।
খন্দকার আজিজুল হক আরজু পেশায় একজন ব্যবসায়ী হলেও একজন দক্ষ সংগঠক ও কর্মীবান্ধব নেতা।
তাই পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা কর্মিদের প্রাণের দাবি আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাবেক সাংসদ ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খন্দকার আজিজুল হক আরজু কে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দেখতে চান।

শেয়ার করুন: