কৃষি বাতায়ন সেবা: প্রান্তিক জনগণের জন্য ডিজিটাল সেবা

শেয়ার করুন:

 

বর্তমান সরকার আইটিভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। দেশব্যাপী ডিজিটালাইজেশন করার যে উদ্যোগ বর্তমান সরকার নিয়েছে- তাকে এগিয়ে নিতে দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কৃষকদের কাছে এ সেবা মাইলফলক হিসাবে থাকবে।

বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ই-কৃষি সেবা সমপ্রসারণের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কৃষি বাতায়ন’ এবং ‘কৃষক বন্ধু’ ফোনসেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ দুটি সেবার উদ্বোধন করেন তিনি।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কৃষি বাতায়ন’ এবং ‘কৃষক বন্ধু’ ফোনসেবার মাধ্যমে মানুষ কৃষিবিষয়ক সব ধরনের তথ্য পাবেন। কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করতে পারবে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৩৩৩১ নম্বরে ফোন করে কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য নিতে পারবেন কৃষকেরা।

অনগ্রসর কৃষকদের জন্য ‘সাথি’ নামের একটি অ্যাপস চালু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফোন শুধু কথা বলার জন্যই নয়। অনলাইন, ডিজিটাল সেন্টার এবং কৃষকদের জন্য চালু করা অ্যাপ থেকে সব রকম তথ্য তাঁরা পেতে পারেন। তিনি বলেন, এর ফলে কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্যের বাজারদর জানতে পারবেন। তাই কেউ আর কৃষকদের ঠকাতে পারবে না।

কৃষি বাতায়ন ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীর সঙ্গে কৃষকের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ, কৃষি গবেষণার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সংযোগ সাধন, কৃষিতথ্যভিত্তিক জ্ঞানভাণ্ডার গড়ে তোলা এবং মাঠপর্যায় হতে কেন্দ্র পর্যন্ত বিবিধ রিপোর্ট আদান-প্রদানে সহায়ক হবে। এ বাতায়নের সহায়ক মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘কৃষক বন্ধু ফোনসেবা’র মাধ্যমে ৩৩৩১ নম্বরে ফোন করে কৃষক নিকটস্থ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগ স্থাপন এবং অতি সহজে প্রয়োজনীয় কৃষিসেবা পেতে সমর্থ হবেন।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মইনুদ্দীন আবদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে পাঁচটি জেলা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল এবং সারা দেশের ৬৪টি জেলার ৫৬০টি উপজেলাতেই এই ভিডিও কনফারেন্সটি প্রচারিত হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষকের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেয়ার উপযোগিতার কথা তুলে ধরেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের সেবা তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি তাঁর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

কৃষিই বাংলাদেশের প্রাণ। আর কৃষক অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। কৃষককে মূলধারার অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করতে সরকারের এ উদ্যোগ অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন: