ইরানকে ‘অকার্যকর’ করার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় হামলা : বিশ্লেষণ

ইরানকে ‘অকার্যকর’ করার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় ইসরায়েল: বিশ্লেষণ
শেয়ার করুন:

ইরানকে ‘অকার্যকর’ করার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় ইসরায়েল: বিশ্লেষণ

ঢাকা, ২ মার্চ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি কঠোর ও ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল গ্রহণের পথে হাঁটছে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন। শুধু ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন নয়, বরং পুরো দেশটিকে কার্যত ধ্বংস ও অকার্যকর করে দেওয়ার গভীর প্রতিশ্রুতি ইসরায়েলের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইসরায়েল ইরানকে এই অঞ্চলের প্রধান ও সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে এবং তাকে পুরোপুরি দুর্বল করে দেওয়ার পক্ষে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল মনে করছে ইরানকে দুর্বল করার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ‘উইন্ডো অব অপর্চুনিটি’ বিদ্যমান রয়েছে, যা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে বড় ধরনের পদক্ষেপ না নিতে পারলে ইরানকে দমনের সুযোগ হয়তো চিরতরে হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

হুমকি বাড়ার তিন কারণ

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই ‘সময় ফুরিয়ে আসার’ ধারণার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:

১. চীন-রাশিয়ার সমর্থন জোরদার: ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ইরানের পক্ষে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে চীন ও রাশিয়া বড় পরিসরে ইরানকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ ভূরাজনীতির নিয়ম অনুযায়ী, আগামী দিনে এই দুই পরাশক্তি ইরানকে আরও কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সমর্থন দেবে, যা তাকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আরও টেকসই করে তুলবে।

২. ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার উল্লম্ফন: ইরান বুঝতে পেরেছে যে প্রচলিত যুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই তার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। ফলে তারা কেবল ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বাড়াচ্ছে না, বরং গুণগত মানের দিক থেকেও সেগুলোকে উচ্চতর করে তুলছে। বিশেষ করে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ইরানের অগ্রগতি ইসরায়েলের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। বর্তমানে ইরান ইসরায়েলের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে সক্ষম হলেও, ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৩. সময়-সীমাবদ্ধ সামরিক সুবিধা: ইরানের ক্রমবর্ধমান শক্তির মুখে ইসরায়েল মনে করছে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে বড় ধরনের আঘাত হানতে হয় এবং শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হয়, তাহলে এখনই সেই উপযুক্ত সময়। কারণ, আগামী দিনে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলে সামরিক পদক্ষেপের খরচ ও ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যাবে।

ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ‘এখনই’ পদক্ষেপের পক্ষে ইসরায়েল

বিশ্লেষকরা এই কৌশলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে আখ্যা দিলেও স্বীকার করছেন যে রাষ্ট্রীয় নীতিতে যখন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও অস্তিত্বের হুমকির অনুভূতি চরম আকার ধারণ করে, তখন অনেক দেশই এই ধরনের কঠোর সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

ইসরায়েল ইরানকে তার অস্তিত্বের জন্যই হুমকি হিসেবে দেখছে। তাদের ধারণা, এখনই যদি প্রতিহত করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ক্ষমতার ভারসাম্য ইরানের পক্ষে আরও খারাপ আকার ধারণ করবে। তাই বর্তমান ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ইরানকে ‘অকার্যকর’ করার জন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছে তেল আবিব। এই ধারণাই বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

শেয়ার করুন: