সাবেক সচিব সেলিম রেজা : সততা ও কর্মদক্ষতায় এখন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য

শেয়ার করুন:

সাবেক সচিব সেলিম রেজা : সততা ও কর্মদক্ষতায় এখন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য

আলাউল হোসেন: পাবনার অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ অঞ্চলে মানবকল্যাণ করে যারা স্মরণীয় হয়ে আছেন, তাঁদের এমন কিছু বিশেষ গুণাগুণ ছিল যা তাঁদেরকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র্য করে তুলেছে। সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এ বিশেষ গুণাগুণের মাধ্যমেই তাঁরা পাবনার ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে তাঁদের নিজেদের নাম লিখিয়েছেন। এমনই একটি নাম তাঁর আপন গতিতে আমাদের পাবনার মানুষের হৃদয়ে হুংকার দিয়ে উঠেছে। মেধা-মনন, সততা-নিষ্ঠা, যোগ্যতা-প্রাজ্ঞতা, দক্ষতা-সৃজনশীলতার সমন্বয়ে বহুল উচ্চারিত হওয়া প্রশাসকের নাম মো. সেলিম রেজা।

তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন, দেশের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের উন্নয়নে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নিজের সম্পৃক্ততা তাঁকে নানামুখী কর্মস্রোতে সম্পৃক্ত করেছে। একজন প্রশাসকের মধ্যে এত কর্মচঞ্চলতা পরিলক্ষিত হলে তাঁকে নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতুহল থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বস্তুত ভালোকে নিয়ে কথাবার্তা থাকবেই। কথা হচ্ছে- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য হিসেবে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত মো. সেলিম রেজাকে নিয়ে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৩ নং আইনে) ধারা ৬ (১), ধারা (৫) ২ এর বিধান অনুযায়ী গত ৮ ডিসেম্বর ২০২২ মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য হিসেবে তাঁকে নিয়োগ প্রদান করেন। নিয়োগলাভের পর সম্প্রতি তুরস্কের আঙ্কারাতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কনফারেন্স-২০২৩ এ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে তুরস্কের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং স্পিকারের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তারা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের কিছু নীতি এবং আইন নিয়ে বৈঠক করেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কনফারেন্স ২০২৩ এ ৪৭ টি দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

সপ্তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেলিম রেজা ১৯৬১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার সানিলা গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রয়াত ডা. আব্দুস সাত্তার ও বেগম রওশন আক্তার বানু দম্পতির বড় ছেলে সেলিম রেজা বিবাহিত ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। জ্যেষ্ঠ পুত্র বিমানে পাইলট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছেন এবং কনিষ্ঠ পুত্র এ-লেভেল শেষ করেছেন। আর স্ত্রী শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

তাঁর পিতা ডা. আবদুস সাত্তার ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক, ভদ্র, বিনয়ী ও নিষ্ঠাবান সমাজসেবক। যে গাছ যত বেশি ফলবান, সে গাছ তত বেশি অবনত। বহুল প্রচলিত এ প্রবাদটির মূর্তিমান উদাহরণ ছিলেন ডা. আব্দুস সাত্তার। তিনি শুধু নিজের ছেলেমেয়েদের নিয়েই ভাবতেন না, ভাবতেন সমাজের অন্যান্য মানুষের জন্যও। তাই তো তাঁর জীবদ্দশায় নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য গড়ে তুলেছেন চক্ষু হাসপাতাল।

কিশোর বয়সের যে সময়টায় সবাই ব্যক্তিগত প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে অভিমান-অনুযোগে ব্যস্ত সে সময়েই সেলিম রেজা ব্যক্তিগত গণ্ডির বাইরে ভাবতে শিখেছিলেন। তাঁর এই আবেগ এবং ত্যাগ তাঁকে একদিকে সততার কাণ্ডারী হতে শিখিয়েছে, অন্যদিকে মানবপ্রেমে উজ্জীবিত করেছে; পাশাপাশি নিত্য নতুন ভাবনায় বিভোর করেছে। সম্প্রতি কথা হয় সেলিম রেজা’র মমতাময়ী মাতা বেগম রওশন আক্তার বানুর সঙ্গে। তিনি জানান, শিশুকাল থেকেই সেলিম রেজা ছিলেন অসম্ভব মেধাবী। প্রাথমিক ও জুনিয়রে বৃত্তির পাশাপাশি মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সবখানেই মেধার স্বাক্ষর রেখে যাওয়া সেলিম রেজা স্রোতের বিপরীতে ভাবতে পারতেন বলেই যথেষ্ট মেধা ও সুযোগ থাকার পরেও ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখেননি। বরং কর্মদক্ষতা ও মেধা দ্বারা কখনও কখনও ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারদের পথপ্রদর্শকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

তিনি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সহকারী কমিশনার হিসেবে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, খুলনায় যোগ দেন। এরপর সহকারী কমিশনার হিসেবে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগ দিয়ে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের সূচনা করেন এবং তৎপরবর্তীতে নেজারত অব ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) হিসেবে রংপুর জেলা প্রশাসনে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সিনিয়র অ্যাসাইনমেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। তিনি কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রথম সচিব (শ্রম) হিসেবে ৬ বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং অভিবাসীদের কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উন্নয়নে ব্যাপক সম্পৃক্ততা লাভ করেন ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকল্পে অবদান রাখেন।

দেশে ফিরে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন এবং ২০০৯ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এর পরিচালক পদে যোগদান করেন। অতঃপর তিনি যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পান এবং একই দপ্তরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে কাজ করেন। সেলিম রেজা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যুগ্মসচিব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য উইংএ এবং অতিরিক্ত সচিব পদে প্রশাসন উইং এ কাজ করেন। তিনি বহির্বিশ্বে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে এবং দক্ষতার সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বিষয়ে অবদান রাখেন। তিনি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহায়তা বিষয়ে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মো. সেলিম রেজা ৫ মে ২০২০ তারিখে সচিব হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন এবং সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে অবসর গ্রহণ করেন।

তাঁর কর্মজীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের সময় তিনি তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্বে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অভিবাসন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উন্নয়নে বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন; যার মধ্যে রয়েছে গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট (জিএফএমডি), কলম্বো প্রসেস, আবুধাবি ডায়ালগ (এডিডি) ইত্যাদি। তিনি বাংলাদেশি জনশক্তি প্রেরণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরে গুরুত্বপূর্ণ পদে অংশ নেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে কৌশলগত ঐক্য গড়ে তুলতে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর প্রধান উদ্যোগ ছিল অভিবাসীদের মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ প্রেক্ষিতে তিনি অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষা নীতি, পরিকল্পনা ও দক্ষতার উপর পেশাদারিত্ব অর্জন করেন। সুশৃঙ্খল, মানবিক, নিয়মিত ও নৈতিক অভিবাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর অবদান সবিশেষ প্রশংসিত হয়েছে।

সেলিম রেজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন এবং নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে গভর্নেন্স স্টাডিতে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা অর্জন করেন। তিনি দেশ ও বিদেশের অনেক পেশাগত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। জার্মানীর University of Potsdam থেকে Governance, Project Management, Monitoring system and Negotiation এবং United Kingdom (UK) এর University of Wolverharnpton থেকে MATT2 কোর্স সম্পন্ন করেন। তাঁর পেশাগত দক্ষতা সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে Sussex University, UK থেকে Migration under ‘Temporary Movement of Natural Person (TMNP)’ এবং Asian Institute of Technology থেকে Public Administration Reforms, Performance management and service delivery এবং আমেরিকা’র Duke University থেকে ‘উন্নত প্রশাসন ব্যবস্থাপনা’ এর ওপর কোর্সে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি পেশাগত জীবনের বেশীরভাগ সময় “দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান” এবং “আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের” সাথে কাজ করেছেন। মো. সেলিম রেজা’র উদ্যোগে গৃহীত সেবা সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিকেন্দ্রীকরণ এবং ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমে তৃণমূল পর্যায়ে অভিবাসী কর্মীরা বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছেন এবং এ সকল উদ্যোগ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা পরিমণ্ডলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে; যার মধ্যে অভিবাসী কর্মীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান, এনওসি, স্মার্টকার্ড, প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ ও হাউজকিপিং প্রশিক্ষণ। এ ছাড়া অনলাইন ভিসা পরীক্ষা, অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তাঁর বলিষ্ঠ উদ্যোগে জাতীয় উন্নয়ন মেলা, উদ্ভাবনী এবং ডিজিটাল মেলায় বিএমইটি’র জেলা পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকভাবে পুরষ্কার অর্জন করে। তিনি অভিবাসী কর্মীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর অবদানের জন্য ‘সোনার মানুষ’ পুরষ্কার লাভ করেন।

অভিবাসন এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণ সেবার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানতম উদ্যোগসমূহের মধ্যে রয়েছে: ১) গৃহকর্মী হিসেবে মহিলা কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ প্রদান, ২) অনলাইন ভর্তি এবং সনদায়ন, ৩) ই-লার্নিং প্লাটফর্ম চালু করা, ৪) প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে রিয়েলটাইম মনিটরিং, ৫) পিপিপি-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে স্থানীয় এবং বিদেশী নিয়োগকর্তা বিশেষ করে সৌদিআরব ও হংকং-এর সাথে যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ প্রদান, ৬) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষকদের জন্য দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং একটি প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, ৭) উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিশেষত: স্টেপ (STEP), সেইপ (SEIP), বি-সেপ (B-SEP) ও স্কিলস-২১ (SKILLS-21) প্রকল্পের সাথে কার্যকর সম্পৃক্ততা এবং ৮) সিটি এন্ড গিল্ডস এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সনদায়নভিত্তিক কোর্স চালু করা।

তিনি বিভিন্ন আইন ও সরকারি নীতিমালা প্রণয়নে প্রেরণকারী ও গন্তব্য উভয় দেশে তাদের অধিকার ও সুবিধার বিষয়ে বলিষ্ঠ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা ও সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সেমিনার, দ্বিপক্ষীয় সভা, যৌথ কমিটির সভা, স্টাডিট্যুর ও শ্রম বাজার অনুসন্ধানের জন্য বেশ কিছু দেশ ভ্রমণ করেন- কুয়েত, সৌদিআরব, কাতার, ওমান, বাহরাইন, ইউএই, মিসর, তিউনিসিয়া, কঙ্গো, ভারত, মালযেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ব্রুনাই, হংকং, ম্যাকাউ, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ইতালি, ভ্যাটিকান সিটি, পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, তুরস্ক, জাপান, সিসেলস, জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র।

এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে এবং রাস্তা, মসজিদ ও মাদ্রাসা উন্নয়নে নিজেকে জড়িত রেখেছেন। তিনি ঢাকাস্থ পাবনা সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বিসিএস ৮৫ ফোরাম ও অফিসার্স ক্লাব, ঢাকার নির্বাহী কমিটির সদস্য। তাঁর প্রতিষ্ঠিত “রওশন আরা সাত্তার চক্ষু হাসপাতাল” এবং আন্তর্জাতিক মানের “আবু আইয়ুব আনসারী মসজিদ” মানুষের কল্যাণে সেবা দান করে যাচ্ছে। তিনি নিজ গ্রামে “উমর ইবনে খাত্তাব ক্যাডেট মাদ্রাসা” স্থাপন করেছেন এবং আর্থিক সহায়তাসহ নানামুখী সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

সেলিম রেজা সম্পর্কে আলাপকালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত উমর ইবনে খাত্তাব ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, সেলিম রেজা স্যারের সাথে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। তিনি এত বড় মাপের একজন মানুষ, অথচ কী চমৎকার তাঁর ব্যবহার! তিনি একজন অনুপ্রেরণার প্রতীক। আমি সবসময় সেলিম রেজা স্যারের সততার দৃষ্টান্তকে সামনে এনে আমার শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করি, ওরা অনুপ্রাণিত হয়।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ফিজিওথেরাপিস্ট প্রফেসর ডা. আলতাফ সরকার বলেন, সেলিম রেজা আমার খুবই স্নেহভাজন। ওর গুণে আমি সত্যিই মুগ্ধ। ওকে নিয়ে আমি গর্ব করি। সেলিম রেজা শুধুমাত্র পাবনা বা বেড়ার সম্পদ নয়, সে এদেশের সম্পদ। এ দেশকে এ দেশের মানুষকে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে যারা বিভিন্ন সময়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, সেলিম রেজা তাঁদেরই একজন।

সেলিম রেজার মাতা বেগম রওশন আক্তার বানু এই প্রতিবেদককে জানান, সেলিম রেজার শৈশব কেটেছে গ্রামেই। ছোটবেলা থেকেই শান্তশিষ্ট ও প্রচণ্ড মেধাবী ছিলেন। শৈশবের বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা ও আড্ডায় কিছুটা সময় পার করলেও লেখাপড়ার প্রতি তাঁর ঝোঁক বরাবরই ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্রামের পাশে করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ৫ম শ্রেণিতে বেড়া বিবি স্কুলে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। এরপরে ভর্তির প্রস্তুতি নেন পাবনা জেলা স্কুলে। ভর্তির খোঁজ নিতে পাবনায় যেতে রাস্তায় জালালপুর মডেল স্কুলে (বর্তমানের পাবনা ক্যাডেট কলেজ) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখে তাৎক্ষণিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হন। ওই স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক তাঁর পরিবারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেন- এই ছেলেকে আমাদের স্কুলে ভর্তি করাতে চাই। পরে ওখানে ভর্তি হয়েই তিনি কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক শেষ করেন এবং পুনরায় এলাকায় ফিরে এসে বেড়া কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। কৃতিত্বের সাথে আইএসসি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করেন।

মো. সেলিম রেজা বহু বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে এবং আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত থেকে হয়েছেন জননন্দিত ও প্রশংসিত। তিনি সুস্থ ও দীর্ঘজীবন লাভের মধ্য দিয়ে আগামীর দিনগুলোতেও তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকুক- এই প্রত্যাশা এলাকার সকল শ্রেণিপেশার মানুষের।

তথ্যসূত্র :
১. বেগম রওশন আক্তার বানু, সেলিম রেজার মাতা;
২. প্রফেসর ডা. আলতাফ সরকার, ফিজিওথেরাপিস্ট;
৩. ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক, বোয়ালমারী কামিল মাদ্রাসা, সাঁথিয়া, পাবনা;
৫. মহিউদ্দিন ভুঁইয়া, লেখক ও গবেষক, পাবনা;
৬. রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আর্কাইভ।

শেয়ার করুন: