পাবনায় তিন লক্ষাধিক তালবীজ রোপণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ব্যাংকার কুদ্দুস পণ্ডিত :
১৯৮৬ সাল থেকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবকল্যাণে নিরলস ভূমিকা
বিশেষ প্রতিনিধি :
পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের দুবলিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান মোঃ আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক। অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র কর্মকর্তা হলেও এলাকায় তিনি ‘ব্যাংকার কুদ্দুস পণ্ডিত’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত। চাকুরিজীবনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, মানবিক ও পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকে তিনি এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মরহুম আজগর আলী প্রামাণিকের জ্যেষ্ঠ পুত্র আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক ছোটবেলা থেকেই নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তালগাছের গুরুত্ব উপলব্ধি করে তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে তালবীজ রোপণ কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার দুপাশে, স্কুল-কলেজ প্রাঙ্গণে, মসজিদ-মাদ্রাসার পাশে এবং রেললাইনের আশপাশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ তালবীজ রোপণ করেছেন তিনি। তাঁর দীর্ঘদিনের এই উদ্যোগের ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য তালগাছ বেড়ে উঠেছে। সড়কের পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন জনবসতির আশপাশে এসব তালগাছ এখন প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখছে। তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে এমন সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে এত বিপুলসংখ্যক তালবীজ রোপণ তাঁর পরিবেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণমূলক মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

সাধারণত অবসরজীবনে অনেকে ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় সময় কাটালেও ব্যাংকার কুদ্দুস পণ্ডিত সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিবেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ রক্ষায় উৎসাহিত করতে পারে। এছাড়াও আব্দুল কুদ্দুস পন্ডিতের বন্যপ্রাণীদের প্রতি বিশেষ সহানুভূতিও রয়েছে। তিনি ২০০৪ সাল থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত যশোরের ঝিকরগাছায় বিরল প্রজাতির প্রাণী কালোমুখ হনুমানদের প্রতিপালনের জন্য তার বেতন থেকে প্রতিমাসে হনুমানদের খাদ্য বাবদ এক হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করতেন। সূত্র জানায়, এখন সরকারি বরাদ্ধে এটা চলমান রয়েছে। তিনি জানান প্রাণীদের প্রতি তার রয়েছে বিশেষ সহানুভূতি। সময় ও সুযোগ পেলে তিনি এলাকায় প্রাণীদের অভআশ্রম করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস’র আজীবন সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পাবনা সদর উপজেলার দুবলিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবাহান খান স্মৃতি ফাউন্ডেশনের নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করে সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন। সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে। পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও জনকল্যাণ মূলক কাজে তাঁর মতো উদ্যোগী মানুষের ভূমিকা সমাজের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। ব্যাংকার কুদ্দুস পণ্ডিতের সুস্বাস্থ্য, শারীরিক সুস্থতা, সার্বিক কল্যাণ ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। তাঁর পরিবেশ বান্ধব ও মানবকল্যাণ মূলক কার্যক্রম আগামী দিনেও অব্যাহত থাকুক এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
