উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি অঞ্চল দিয়ে ইরানে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি
ইরান ইস্যুতে বর্তমান পরিস্থিতি খুবই গতিশীল। এই মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু না হলেও, উত্তরের কুর্দি অঞ্চল দিয়ে ইরানে প্রবেশের জন্য জোরেশোরে প্রস্তুতি চলছে এবং অপর দুই সীমান্তে সামরিক তৎপরতা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিচে তিনটি সম্ভাব্য রুটের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরা হলো:
* **উত্তর-পশ্চিম রুট (ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকা)**: এই রুটটিকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি ও সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো (যেমন পিডিকেআই ও কোমালা) ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থান নিয়ে ইরানের ভেতরে অভিযানের পরিকল্পনা করছে । একটি যৌথ কমান্ড গঠন করে ১৫,০০০-২০,০০০ যোদ্ধাকে প্রস্তুত রাখেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে । এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর তিনটি অবস্থানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে । ইরান সতর্ক করে দিয়েছে যে, কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকে যদি ইরানের ভূখণ্ডে কোনো হামলা হয়, তবে তারা সেই সব সুবিধা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে । উল্লেখ্য, ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার এবং কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার হতে দেবে না বলে জানিয়েছে ।
পশ্চিম রুট (পূর্ব পাকিস্তান) : এই রুট দিয়ে বর্তমানে কোনো স্থল অভিযানের খবর পাওয়া যায়নি। বরং অন্যদিকে, ইরানের ঘনিষ্ঠ ইরাকি শিয়া মিলিশিয়ারা ইরাকের ভেতরে মার্কিন স্বার্থ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে । যেমন, বসরা প্রদেশের তেল স্থাপনা এবং মার্কিন কোম্পানি কেবিআরের সুবিধাগুলোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে । এই হামলাগুলো সরাসরি ইরানের স্থল অভিযান না হলেও, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সামরিক তৎপরতার অংশ।
* **দক্ষিণ রুট (পারস্য উপসাগর)**: এই রুটে বড় ধরনের স্থল অভিযানের পরিবর্তে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং নৌ-বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সুবিধায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে । পাশাপাশি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের দিকে নিক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন গুলি ভূপাতিত করার খবর পাওয়া গেছে । ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রথমে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও , পরে ইরানের এক শীর্ষ বিচারক বলেছেন যে যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুদের সুবিধা দিচ্ছে, তাদের ওপর তীব্র হামলা চলবে ।
মূল খেলোয়াড় ও তাদের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল: তারা কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে এবং ইরানের ভেতরে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে । তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কুর্দিদের এই যুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হবে না ।
ইরান: তারা কুর্দি বিদ্রোহী ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে এবং মার্কিন মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে “প্রতিরোধের অক্ষ” কে সক্রিয় রেখেছে । ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন স্থল আক্রমণ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার কথাও বলেছেন ।
বর্তমান খবর বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি অঞ্চল দিয়ে ইরানে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, যার জন্য প্রস্তুতিও চলছে। পশ্চিম সীমান্তে (পূর্ব পাকিস্তান নয়) ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর দক্ষিণের পারস্য উপসাগরীয় রুটটি মূলত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে ইরানে কোনো স্থল অভিযানের খবর এখনও পাওয়া যায়নি, তবে আশেপাশের অঞ্চলে এই ব্যাপক অস্থিরতার প্রভাব সেখানেও পড়তে পারে।
