ইরান পরাজিত হলে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন—কতটা বাস্তব এই আশঙ্কা?
প্রতিবেদন: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-কে কেন্দ্র করে যে সংঘাতের আলোচনা চলছে, তা বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো বৃহৎ যুদ্ধে ইরান পরাজিত হয়, তবে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা বিস্তৃত হতে পারে ইউরেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে। রাশিয়া ও চীন—যারা বর্তমানে বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান করছে—তাদের কৌশলগত অবস্থানও চাপে পড়তে পারে।
তবে “ইরান দখল মানেই পুরো বিশ্ব দখল” — এমন বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এতটা সরল নয়। একটি দেশের পতন মানেই পুরো অঞ্চল বা বিশ্ব সহজে নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে—এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে সরাসরি যুদ্ধ এবং “বিশ্ব দখল” ধরনের কোনো কৌশল বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে তুরস্ক, আজারবাইজান বা আর্মেনিয়া—এই দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী অবস্থান নেয়। তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো এক পক্ষের হয়ে পুরো ইউরেশিয়াকে “দখলে” যেতে দেবে—এমন ধারণা অনেকটাই সরলীকৃত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা “একক শক্তির নিয়ন্ত্রণে” চলে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং শক্তির ভারসাম্য (balance of power) বজায় রাখতে চীন ও রাশিয়া সক্রিয় ভূমিকা রাখবে—এটাই বেশি সম্ভাব্য চিত্র।
