ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড :: জোরপূর্বক যুদ্ধে অংশ নেওয়া এড়াতে নাবিকদের দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত “বিদ্রোহ” ?

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড
শেয়ার করুন:

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড :: জোরপূর্বক যুদ্ধে অংশ নেওয়া এড়াতে নাবিকদের দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত “বিদ্রোহ” ?

আমেরিকার বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ইরান দাবি করছে, এটি জোরপূর্বক যুদ্ধে অংশ নেওয়া এড়াতে নাবিকদের দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত “বিদ্রোহ”। অন্যদিকে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম বলছে, এটি একটি দুর্ঘটনা এবং রণতরীটি এখনও যুদ্ধ-সক্ষম রয়েছে।

১. ইরানের দাবি: যুদ্ধ এড়াতে নাবিকদের দ্বারা ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগ

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়া (Khatam al-Anbiya) এর একজন প্রতিনিধি ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে দাবি করেছেন যে, এই অগ্নিকাণ্ডটি ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত হয়েছে ।

  • দাবির মূল বক্তব্য: ইরানের দাবি, রণতরীটির কয়েকজন মার্কিন সেনা সদস্য ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে অনিচ্ছুক হয়ে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, নাবিকরা ভয় পেয়েছিলেন এবং যুদ্ধে যেতে চাননি, তাই তারা নিজেরাই জাহাজে আগুন লাগিয়ে দেন।

  • প্রচারকারী মাধ্যম: এই দাবি মূলত ইরানপন্থী এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম যেমন ফার্স নিউজ এজেন্সি এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রচার করেছে ।

২. মার্কিন কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন: দুর্ঘটনা ও দীর্ঘ মেয়াদী টহলের প্রভাব

অন্যদিকে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডটি যুদ্ধ-সম্পর্কিত নয় এবং এটি একটি দুর্ঘটনা হিসেবে ঘটেছে ।

  • ঘটনার বিবরণ: মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ১২ মার্চ, ২০২৬ তারিখে রণতরীটির মূল লন্ড্রি কক্ষে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং এতে দু’জন নাবিক সামান্য আহত হয়েছিলেন -4-5

  • বর্তমান অবস্থান ও অবস্থা: ২৩ মার্চ, ২০২৬ তারিখে জাহাজটি মেরামতের জন্য গ্রিসের ক্রেট দ্বীপের সৌদা বে নৌ ঘাঁটিতে পৌঁছায়। মার্কিন নৌবাহিনীর ষষ্ঠ ফ্লিট জানিয়েছে, জরুরি মেরামত ও মূল্যায়নের জন্য এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি প্রয়োজন, তবে রণতরীটি সম্পূর্ণরূপে যুদ্ধ-সক্ষম রয়েছে এবং এর স্ট্রাইক গ্রুপের অভিযান অব্যাহত আছে।

৩. “বিদ্রোহের” পটভূমি: দীর্ঘ মেয়াদী টহল ও নাবিকদের ক্লান্তি

ইরানের দাবি “বিদ্রোহের” কথা বললেও, মার্কিন ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলোতে এর পেছনের কারণ হিসেবে নাবিকদের দীর্ঘদিন ধরে সাগরে থাকার ফলে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি এবং মনোবলের অবনতিকে দায়ী করা হচ্ছে। এটি একটি “নীরব বিদ্রোহ” হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

  • অতিরিক্ত দীর্ঘ মেয়াদী টহল: ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে টানা ৯ মাসেরও বেশি সময় ধরে সাগরে ছিল, যা যুদ্ধজাহাজের স্বাভাবিক ৬-৭ মাসের টহলের চেয়ে অনেক বেশি । ইরানের সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের টহলের মেয়াদ কয়েকবার বাড়ানো হয়েছে, যা নাবিকদের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে ।

  • নাবিকদের অবস্থা: সেনেটর মার্ক ওয়ার্নার (Mark Warner) এবং নৌবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল (Daryl Caudle) সহ অনেকেই এই দীর্ঘ মেয়াদী টহলের সমালোচনা করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাবিকরা পরিবার থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, অনেকে নৌবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবছেন

  • পূর্ববর্তী ঘটনা: অগ্নিকাণ্ডের আগেও রণতরীটিতে নর্দমা ও টয়লেটের সমস্যা ছিল, যা নাবিকদের জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করেছিল। আগুনের ঘটনাটি তাদের দীর্ঘদিনের বিরক্তি ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলেও অনেকে মনে করছেন।

শেয়ার করুন: