Sunday, জুলাই ১৪, ২০২৪

হাঁটু ব্যথা কী করি?

হাঁটু ব্যথা কী করি? প্রফেসর আলতাফ হোসেন সরকার

আমরা প্রতিনিয়ত জিজ্ঞেস করি, কেমন আছেন? অধিকাংশ সময়ই উত্তর পাই। আলহামদুলিল্লাহ্। আল্লাহর রহমতে ভাল আছি। আমি মনে করি, এটি একটি কঠিন উত্তর। ভাল থাকাটাই কঠিন। যেকোন কারণেই আমরা অসুস্থ হতেই পারি। আর সেই অসুস্থতা যদি হয় হাঁটু ব্যথা। হাঁটু ব্যথা আপনার দৈনিন্দন জীবনের অনেক সুখ-আহলাদকে কেড়ে নিতেই পারে। সুপ্রিয় পাঠক, আমার এই লেখাটি একটু ভিন্নতর। আজকে আমি আপনারদের জন্য লিখতে বসছি হাঁটু জনিত ব্যথার সমস্যা নিয়ে। আশা করি আমার এই লেখা আপনাদের উপকারে আসবে।
কাজী আব্দুর রহমান রহমান বয়স ৩৯ বছর। গত দুই বৎসর যাবৎ ডান হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন। এখন অন্যের সহায়তা নিয়ে চলতে হয়। যেমন- একটি লাঠি ব্যবহার করে খুড়িয়ে খুড়িয়ে তিনি হাঁটেন। তাঁর হাঁটু পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রথমেই দেখলাম ডান হাঁটু অনেকটা উঁচু হয়ে আছে। অর্থাৎ বাম হাঁটু যেমন বিছানায় লেগে আছে ডান হাঁটু বিছানায় লেগে নেই। উপুর হয়ে শুইয়ে দুই হাঁটু বাঁকা করে ঘুরালি বাটক (পাছা)-এর সঙ্গে লাগাতে বলায় বাম পা লাগাতে পারে কিন্তু ডান পাঁয়ের হাঁটু পচাঁত্তর ডিগ্রীর বেশি বাঁকা করতে পারে না। এই অবস্থাকে আমরা বলে থাকি হাঁটুর ক্যাপসুল-এ অসুবিধা বা ক্যাপসুলার প্যাটার্ন। তাঁর ডান হাঁটুর মিডিয়াল হেমেস্ট্রিং, মিডিয়াল কোয়ার্ড্রেিসফ এ্যাক্সপানসান, পপলিটিয়াস ও গ্যাস্টোক নিমিয়াসের লং হেডে টেন্ডার। আপনাদের জ্ঞাতার্থে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, আমাদের দেশে বিভিন্ন বয়সের শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ লোক হাঁটু ব্যথা ভোগে থাকেন। আর এই ব্যথা বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে।
কাজী আব্দুর রহমানের জন্য সঠিক চিকিৎসা হবে কনজার্ভেটিভ চিকিৎসা । অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী ঔষধ খেতে হবে। জনাব রহমানের হাঁটুর সুস্থতার জন্য সঠিক এবং ফলদায়ক চিকিৎসা হবে ফিজিওথেরাপি। তাহলেই আশা করি জনাব রহমানের হাঁটুর সমস্যাগুলো চলে যাবে। যেমন- ব্যথা যুক্ত টিস্যুগুলোতে ওয়াক্সপ্যাক স্ট্রোকিং করে, সুন্দরভাবে সফট টিস্যু মোবালাইজেশন করে দিতে হবে। হেমেস্ট্রিং, গ্যাস্ট্রোক নিমিয়াস, পপলিটিয়াস এবং কোয়ার্ড্রিসেফ মাসেলের স্ট্রেসিং ও স্ট্রেন্দেনিং করতে হবে, বায়োমেকানিক্স অনুযায়ী হাঁটু মোবালাইজেশন করে হাঁটুকে সম্পূর্ণ বাঁকা এবং সোজা করতে হবে অর্থাৎ হাঁটুর রেঞ্জ অব মোশন বাড়াতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে হোল্ড রিলাক্স এক্সারসাইজ করে মাংসের শক্তি বাড়তে হবে এবং স্ট্যাবিলাইজড করতে হবে। এর সাথে ইলেক্ট্রিক্যাল মোডালিটিস-এর মধ্যে লো-লেভেল লেজার থেরাপি, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে রুগীর কষ্ট দ্রুত কমাতে হবে। এভাবে কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসা নিলে আশা করি জনাব কাজী আব্দুর রহমান কষ্ট মুক্ত হবেন।
এই চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর কিছু উপদেশ মেনে চলতে হবে। যেমন- সিঁড়িতে উঠানামা কম করতে হবে। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় সঠিক থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ করতে হবে।
প্রিয় পাঠক, আমি আমার এই ছোট লেখার মাধ্যেমে ধারণা দিতে চেষ্টা করেছি যে, আপনার যদি এইরকম হাঁটুর কষ্ট হয় তাহলে আপনি কী ধরনের চিকিৎসা করবেন। মনে রাখবেন, হাঁটু ব্যথা মানেই অস্টিওআর্থ্রাইটিস নয়। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, আমার চিকিৎসা অন্যান্যদের চেয়ে সর্বাধুনিক, উন্নতর এবং প্রমান ভিত্তিক। আপনার হাঁটুর যতœ নিন, সুস্থ জীবন-যাপন করুন।

মাস্কুলোস্কেলিটাল ব্যথা বিশেষজ্ঞ
লেজার ফিজিওথেরাপি সেন্টার, পান্থপথ, ঢাকা।
০১৭৬৫ ৬৬ ৮৮ ৪৬, ০১৭৮৫ ৯৯ ৯৯ ৭৭

একই রকম সংবাদ

বিজ্ঞাপনspot_img

সর্বশেষ খবর