এবিসি বার্তা

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাড়ে ২০ লক্ষ কোটি টাকার ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাব

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাড়ে ২০ লক্ষ কোটি টাকার ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাব

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেটে চলতি ২০২১-২০২২ বছরের চেয়ে ৩.৪০ গুণ বেশি ২০ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৬ কোটি টাকার ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট করা হয়। এছাড়া ২০৩২ সালের মধ্যে ৭টি লক্ষ অর্জনের জন্য ২৪টি বিষয়ে মোট ৩৩৮টি সুপারি করা হয়।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা ২০২২-২৩: একটি জনগণতান্ত্রিক বাজেট প্রস্তাব ‘বাজেট বক্তৃতার সংক্ষিপ্তসার’ বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির কার্যনির্বাহক কমিটির ৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সভায় অনুমোদিত যা আজ উপস্থাপন করা হয়। সমিতির মতে বাংলাদেশ সরকারের বাজেট হতে হবে জনগণতান্ত্রিক। বাজেট বক্তৃতায় “শোভন অর্থনীতি ব্যবস্থায়” এ ধরনের বাজেট প্রণয়নের মাধ্যমে আয় ও সম্পদ বণ্টনে ন্যায্যতা বাড়বে, বৈষম্য দূর হবে, তথাকথিত কৃচ্ছ সাধনের প্রয়োজন হবে না, অর্থনীতিতে মোট চাহিদা বাড়বে, উৎপাদন বাড়বে, যা ইচ্ছা তাই-ই উৎপাদন হবে না (যেমন পরিবেশদূষণ, স্বাস্থ্যহানিকর ওষুধপত্র, অপসংস্কৃতি ইত্যাদি), পূর্ণ কর্মনিয়োজন নিশ্চিত হবে, কোনো ধরনের ঘাটতি এবং ঋণ নিয়ে ভাবতে হবে না। কিন্তু শোষণভিত্তিক-ব্যক্তিস্বার্থনির্ভর-লোভলালসাভিত্তিক-মুনাফা উদ্দিষ্ট পুঁজিবাদ এসব পারবে না। এসব পারবে—‘শোভন জীবনব্যবস্থা’ বিনির্মাণ-উদ্দিষ্ট শোভন অর্থনৈতিক ও শোভন সামাজিক কর্মকাÐ, যা রাজনৈতিক মতাদর্শগত প্রশ্ন। বাজেট প্রস্তাবনায় আয়-ধন-সম্পদের বণ্টন, সরকারিভাবেই শোভন মজুরির ব্যাপক কর্মসংস্থান-সুযোগ, আলোকিত মানুষসমৃদ্ধ বৈষম্যহীন ‘শোভন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ, শোভন সমাজব্যবস্থা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সমগ্র দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করারকথা বলা হয় ।

‘শিক্ষা’ নিয়ে প্রস্তাব: (১) সরকারে যে বা যারাই থাকুন না কেন প্রথমেই নিঃশর্ত স্বীকার করে নিতে হবে যে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো—জ্ঞানসমৃদ্ধ বিচার-বোধসম্পন্ন নৈতিক দৃষ্টিতে উন্নত ও সৌন্দর্যবোধ চেতনায় সমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ মানুষ সৃষ্টি করা। (২) ‘শিক্ষা’ খাতের বাজেট বরাদ্দ কোনোভাবেই ‘ব্যয়’ হিসেবে দেখা যাবে না। শিক্ষাকে দেখতে হবে শোভন মানুষ সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে। (৩) আসন্ন বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ এখনকার তুলনায় ২.৫৪ গুণ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়, যা জিডিপির ৮ শতাংশের সমপরিমাণ। (৪) শিক্ষার প্রত্যেক স্তরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এমনভাবে বাড়াতে হবে, যাতে করে শুধু যোগ্য ও মেধাবী মানুষ শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট হন। গবেষণা ও উন্নয়নের গুরুত্ব বিবেচনায় আমরা আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে “গবেষণা, উদ্ভাবন, বিচ্ছুরণ ও উন্নয়ন” নামক একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়। আমাদের বাজেট যেহেতু জনগণতান্ত্রিক বাজেট, সেহেতু মোট বাজেট বরাদ্দের অগ্রাধিকারক্রম হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ: সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণখাত (বাজেট বরাদ্দের ২১.৪ শতাংশ), তারপর শিক্ষা ও প্রযুক্তি (১১.৮ শতাংশ), তারপর কৃষি (৯ শতাংশ), তারপর জনপ্রশাসন (৮.২ শতাংশ), তারপর স্বাস্থ্য (৭.৭ শতাংশ) ইত্যাদি। সমিতির মতে প্রস্তাবিত জনগণতান্ত্রিক বাজেট বাস্তবায়ন করলে আগামী ১০ বছরের মধ্যেই একদিকে বিপজ্জনক বৈষম্যপূর্ণ অবস্থা থেকে স্বল্প-বৈষম্যপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব, অন্যদিকে একইসাথে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে ( ৭০%-৮০%) দরিদ্র-বিত্তহীন-নিম্ন বিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি অবস্থান থেকে শক্তিশালী-টেকসই একটি মধ্যমধ্যবিত্ত শ্রেণি অবস্থানে উত্তরণ-রূপান্তর সম্ভব।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email