এবিসি বার্তা

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

নিয়োগ দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সাবেক ভিসি ড. আমিন উদ্দিন মৃধা

নিয়োগ দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সাবেক ভিসি ড. আমিন উদ্দিন মৃধা

প্রতিনিধি: পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ভিসি ও বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আমিনউদ্দিন মৃধা নিয়োগবাণিজ্যের যুগে বিনা অর্থে নিয়োগ দিয়ে কাশিনাথপুর এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এলাকার বিশিষ্টজনেরা তার এই সততায় মুগ্ধ হয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে যাচ্ছেন। লেখালেখি হচ্ছে ফেসবুকেও।

জানা যায়, গত ১ বছর পূর্বে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশে ড. মৃধা কাশিনাথপুর মহিলা কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি হন। সভাপতির দায়িত্ব পাবার পর থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে নিতে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নেন। তার গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য- একজন শিক্ষার্থী : একটি সমন্বিত কৃষি খামার পরিচালনার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীকে উদ্বুদ্ধ ও প্রশিক্ষিত করে তোলা, কলেজ প্রাঙ্গনে ফল ও সবজি বাগান করা, কলেজ ম্যাগাজিন প্রকাশ করা। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে নানারকম মোটিভেশনাল প্রোগ্রামের আয়োজন করা।
তার দেখানো পথে ইতোমধ্যে কলেজের সিংহভাগ শিক্ষক কর্মসূচিগুলো পালন করে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। এসব কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রতিবেদনও দেখানো হয়েছে।

সম্প্রতি কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে ও ল্যাব এসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তিনি ডোনেশন ছাড়া নিরপেক্ষ নিয়োগের ঘোষণা দেন। এতে সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ বিরোধিতার চেষ্টা করলেও তার আপোষহীন নীতির কাছে হেরে যান। স্থানীয় এমপি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিজি’র প্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে তিনি স্বচ্ছ একটি নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী ড. শাহনাজ নামের এক প্রার্থীকে উপাধ্যক্ষ পদে এবং অন্য দুই প্রার্থীকে ল্যাব এসিস্ট্যান্ট পদের নিয়োগের সুপারিশ করেন। কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে নির্বাচিত প্রার্থীরা স্ব-স্ব পদে যোগদান করেছেন।

ডোনেশনপদ্ধতির যুগে বিনা অর্থে নিয়োগ পাওয়ায় একদিকে প্রার্থীরা আনন্দিত, অন্যদিকে স্থানীয়দের মুখেও প্রশংসায় ভাসছেন গভর্নিং বডির সভাপতি ড. আমিন উদ্দিন মৃধা।

আলাপকালে ড. মৃধা বলেন, কাশিনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ বর্তমানে এলাকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্ব করছে। ৩০-৪০ কিলোমিটার দূর থেকেও শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান আরও এগিয়ে নিতে হলে দক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নেই। অর্থের বিনিময়ে বা ডোনেশন পদ্ধতিতে নিয়োগ দিলে মেধাবী প্রার্থী পাওয়া যায় না। মেধাবী ও দক্ষ একজনকে প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দিতে আমি চেষ্টা করেছি। এমপিও মহোদয়সহ সকলের সহযোগিতায় কাজটি করতে পেরে আমি আনন্দিত।
তিনি আরও বলেন, আমি তো এই পদে সারাজীবন থাকবো না। কিন্তু ক্ষণিকের জন্য এসেও প্রতিষ্ঠানটির জন্য কিছু করতে পেরেছি- এটাই আমার বড় প্রাপ্তি। এ কাজের জন্য নিশ্চয়ই প্রতিষ্ঠান আমাকে মনে রাখবে।

কাশিনাথপুর মহিলা কলেজের কয়েক শিক্ষক জানান, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই জাতীয় পদের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়োগ-বাণিজ্য হয়, সেখানে আমাদের কলেজে কানাকড়ি অর্থও নেয়া হয়নি। এ ঘটনায় আমাদের কলেজের মুখ উজ্জ্বল হয়েছে। দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বিষয়ট। আর এই দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য একমাত্র কৃতিত্বের দাবীদার আমাদের সভাপতি ড. মৃধা স্যার।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email