এবিসি বার্তা

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

‘বই আড্ডা : প্রিয় বই / লেখক’ নিয়ে আলোচনা করবে ‘মঙ্গল আসর’


১.
মুক্ত চিন্তাচর্চার, আনন্দময় সহশিক্ষার সৃজনশীল আয়োজন ‘মঙ্গল আসর’-এর প্রতি সপ্তাহের নিয়মিত জুম আলোচনা সভা ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ মঙ্গলবার রাত ৯.০০ টায় অনুষ্ঠিত হবে। এবারের চিন্তাচর্চা হবে ‘বই আড্ডা : প্রিয় বই / লেখক’ নিয়ে আলোচনা।
জুম লিংক :
https://us04web.zoom.us/j/7085046925?pwd=SW5GTzBXMlh1eWRIU0t5TnNzRUpsQT09
Meeting ID: 708 504 6925 Passcode: 12345
২.
নিয়মিত আয়োজনে জন্মদিন ও প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে স্মরণ করা হবে বিপ্লবী কল্পনা দত্ত (প্র:৮/২), খালেদ খান (জ:৯/২), বনফূল (প্র:৯/২), সৈয়দ মুজতবা আলী (প্র:১১/২), কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় (জ:১২/২),ডারউইন (জ:১২/২), আব্রাহাম লিংকন (জ:১২/২), আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (জ:১২/২), আহমদ শরীফ (জ:১৩/২ – প্র: ২৪/২) সহ আরো অনেক গুণিজনকে।
৩.
আড্ডায় মনের প্রশান্তি বাড়ে। পৃথিবীর অনেক বড় কাজের আইডিয়া নাকি আড্ডা থেকে জন্ম নেওয়া। আর যেসব ভাবনা মানুষের জন্ম নেয়, কল্পনার জগৎ প্রসারিত হয়, তা তো বই পড়েই। বিশ্বের অনেক শহরেই বইয়ের বিপণিতে জমে উঠত আড্ডা। সেই আড্ডায় গল্প জমাতেন অনেক বিখ্যাত লেখক কিংবা সাধারণ পাঠক। প্যারিস থেকে বেইজিং, ভেনিস থেকে ব্রাসেলস। ছড়িয়ে রয়েছে ঝলমলে সব বইয়ের বিপণি। সেই দেশ, সেই শহরের গরিমা। পাঠকরা তো যানই, পর্যটকরাও দেখতে যান। মুগ্ধ হন, হন বিস্মিত। একসময়ে বিশ্ব খ্যাত লেখকরা এসব বিপণিতে সময় কাটাতেন। কিন্তু এই ইট-পাথরের শহরে বইকে সঙ্গী করে আড্ডা দেওয়ার জায়গাটা কোথায়! বেশিরভাগ বইয়ের দোকানেই তো বই কিনে হিসাবের পাট চুকিয়ে দ্রুত ফিরতে হয়। আর বাসা তো শুধুই পড়ার জায়গা। কিন্তু আড্ডা? এই শহরে বইয়ের সঙ্গে আড্ডাকে সঙ্গী করে নিতে রয়েছে কিছু স্থান। দুপুরে ছিমছাম কোনো জায়গায় বসে প্রিয় বইটি পড়তে পারলে কেমন হয়? সঙ্গে যদি থাকে ধোঁয়া ওঠা গরম এক মগ কফি, তাহলে তো কথাই নেই! ঢাকাজুড়ে বইপ্রেমীদের জন্য গড়ে উঠেছে বেশ তয়েকটি বুকশপ ক্যাফে। ভাষার মাসেই কেবল বই পড়ার উৎসব চলবে কেন? উৎসবটা এখন চলুক বছরজুড়েই। বইপ্রেমীদের জন্য ক্যাফেতে বসে বই পড়তে পড়তে সময় কাটানো, আড্ডা দেওয়া কিংবা চা-কফি খাওয়া তো উৎসবই বটে! বইপ্রেমীদের জন্য এমন চমৎকার ব্যবস্থা গড়ে উঠুক দেশজুড়ে। হোক মুক্তচিন্তাচর্চার উঠোন, সোনালী মাঠ।
৪.
অনলাইনে অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, তারপর আবার ফেসবুক বা অনলাইন গেমসে ডুব। করোনা-লকডাউন পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন রুটিনটা এমনই ডিজিটাল নির্ভর হয়ে গিয়েছে। অবসর সময়ে বই পড়া এখন মুষ্টিমেয় কয়েকজনের অভ্যেস। কিন্তু বাড়িতে থাকার এই সময়ে বইয়ের সঙ্গে সম্পর্কটা ঝালিয়ে নিতে পারতেন, চাইলে এখনও পারেন। এতে বড় হবে স্বপ্ন আকাশ, কাটবে হতাশা, বিষাদের কালো মেঘ দূর হবে, আত্মহত্যা কিংবা সামাজিক অপরাধ প্রবণতা কমতে ভুমিকা রাখতে সহায়ক হবে বই পাঠ ও আড্ডার পরিবেশে নিজেকে নিমগ্ন রাখতে পারার সক্রিয় অংশীদারিত্ব তৈরির ফলে। আর তাই পড়ার সঙ্গী খুঁজে ফেলুন এখনই। আপনার কর্মস্থলে কিছু সহকর্মী খুঁজে পাবেন, যারা বই পড়তে ভালোবাসেন। তাদের সঙ্গে একটি পাঠচক্র বা book reading partner গ্রুপ তৈরি করে নিতে পারেন। আড্ডায় বই পড়া নিয়ে গল্প করুন। বই আদান-প্রদান করে নিতে পারেন। এই কাজটি আপনার পড়ার গতি বাড়িয়ে দেবে। মনকে আনন্দে রাখবে, জীবন সজীব হবে। প্রচুর বই পড়ে, এরকম কারো সাথে গল্প করলে দেখবেন আপনার মনেও পড়ার প্রতি আগ্রহী জাগবে। তাদের সাথে কথা বললে কতো নাম না জানা বইয়ের নাম জানা যায়। আপনি হয়তো এক লেখকের বই পছন্দ করেন, তিনি হয়তো আরেক জনের। আড্ডা দেবার সময় আপনি অন্য জনের বইয়ের সাথেও পরিচিত হলেন। লাভ হবে দুজনেরই। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। বই পড়ার সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, এমন কিছু থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। অনেকেই টিভি দেখতে-দেখতে, ফেসবুক-ইউটিউব চালাতে-চালাতে বই পড়েন। এতে আসলে বই পড়ায় মনোযোগ দেয়া যায় না। এগুলো বই পড়ার সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, মনোযোগ বিঘ্নিত করে। আপনি দিনে অল্প সময়ই বই পড়ুন, কিন্তু সেই সময়টাতে পুরো ফোকাস যেনো থাকে বই পড়া নিয়ে।
৫.
বই পড়ার পেছনে সময় ব্যয় ক্রমশ কমছে বলেই নানা মাধ্যমে জানা যায়। এখন মানুষের অবসর ঢুকে গেছে ফেসবুকের নীল দুনিয়ায়, টুইটারের কিচিরমিচিরে, ইনস্টাগ্রাম নামের অনলাইনপল্লিতে। কী বলছে গবেষণা? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কতটা কমিয়ে দিয়েছে আমাদের বই পড়ার অভ্যাস? বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপ থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, সারা পৃথিবীতেই বই পড়ার হার কমছে। ঝুম বৃষ্টির দিনে শর্ষের তেলে মাখা মুড়ি খেতে খেতে কেউ আর গল্পের বইয়ে নাক ডুবিয়ে দেন না। হৃদয়ছোঁয়া কোনো উপন্যাস পড়তে পড়তে এখন রাত কাবার করে ভোর দেখেন খুব কম মানুষই। ক্লাসের বইয়ের আড়ালে কোনো গোয়েন্দা সিরিজ পড়তে পড়তে মা-বাবার চোখকে ফাঁকি দেন না কেউ। এর চেয়ে বরং বৃষ্টির দিনে ভিডিও কলে বন্ধুদের সঙ্গে লাইভ চ্যাটে বেশি আনন্দ। পাঠ্যবইয়ের আড়ালে গোয়েন্দা বই পড়ার চেয়ে ওয়েব সিরিজে গোয়েন্দা কাহিনি দেখার মধ্যেই এখন ঢের আনন্দ। ফলে মানুষের বাড়িতে আর ‘পড়ার ঘর’ বলে কিছু থাকছে না। ড্রয়িংরুম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বইয়ের তাক। অথচ দার্শনিক সিসেরো খ্রিষ্টপূর্ব ১০৬ বছর আগে বলে গেছেন, ‘বই ছাড়া একটি ঘর আত্মা ছাড়া একটি দেহের মতো।’ সামনের দিনগুলোতে আমরা কি আত্মা ছাড়াই বেঁচে থাকব! নিজের জন্য, পরিবারের সদস্যদের জন্য, স্বজনদের জন্য তাই আসুন আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হয়ে ‘ঘরে ঘরে গড়ে তুলি পাঠাগার’।
৬.
আলোচনায় অংশ গ্রহণ করবেন ‘মঙ্গল আসর’-এর সক্রিয় সদস্যবৃন্দ ছাড়াও আগ্রহী আরো অনেকেই। ‘মঙ্গল আসর’ পরিচালনায় থাকবেন ঢাকার ভাসানটেক সরকারী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মোহন। ঢাকার ভাসানটেক সরকারী কলেজের বর্তমান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ ‘মঙ্গল আসর’-এর চিন্তনসখাদের জুম আলোচনায় অংশগ্রহণে সাদর আমন্ত্রণ। চিন্তাচর্চার মুক্ত আয়োজন ‘মঙ্গল আসর’ সকলের জন্য উন্মুক্ত।

‘মঙ্গল আসর’-এর পক্ষে-
আবদুল্লাহ আল মোহন
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email