এবিসি বার্তা

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

পাকিস্তানে সাইবার-অপরাধ আইনের জালে গণমাধ্যমকর্মীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত দুই বছরে পাকিস্তানে অন্তত ২৩ জন পাকিস্তানি সাংবাদিককে সাইবার-অপরাধ আইনের অধীনে আটক বা হেনস্থা করা হয়েছে। দেশের জনগণের ভিন্নমতকে নীরব করার জন্যই এমন আইনের সৃষ্টি করা হয়েছে, এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলছে একটি মিডিয়া রাইটস ওয়াচডগ।

গত মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দায়মুক্তির অবসানের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে পাকিস্তান-ভিত্তিক গ্রুপ ফ্রিডম নেটওয়ার্ক।

বিগত বছরগুলোতে পাকিস্তানি সাংবাদিকরা যেসব কারণে আটক বা হেনস্থা হয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীকে অসম্মান, বিচার বিভাগকে অসম্মান এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে অসম্মান করে খবর প্রকাশ করা। আরও অন্তত একটি ক্ষেত্রে, সাংবাদিক রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগেও অভিযুক্ত হয়েছেন।

পাকিস্তান ইলেক্ট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্টের অধীনে  হওয়া এই মামলাগুলো প্রায়শই দণ্ডবিধির অধীনে অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হয়। এই অ্যাক্টের অধীনে ২৩ সাংবাদিকের মধ্যে অন্তত ১৩ জনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে নয়জন সাংবাদিককে এই তদন্তের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ছয়জন তদন্ত চলাকালীন ৬০দিন পর্যন্ত জেল হাজতে থাকার পর জামিন পেয়েছিলেন।

পাকিস্তানে বেশ কয়েক ডজন সক্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে, যারা প্রতি সন্ধ্যায় লাইভ নিউজ কভারেজ এবং নিউজ অ্যানালাইসিস টক শো করে থাকে। এ ছাড়াও রয়েছে সংবাদপত্র ও অলনলাইন ওয়েব পোর্টাল।

এদিকে, পাকিস্তানে সক্রিয় কিছু মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং সাংবাদিকরা সতর্ক করে বলেছেন যে সাংবাদিকরা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কিছু বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার বিষয়ে কঠোর নীতিমালার মধ্যে পড়ছেন। যার বেশিরভাগই শাসন ও রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা প্রসঙ্গে।

যেসব নিউজ ও টেলিভিশন চ্যানেল এসব নিয়ম মেনে চলে না, তাদের সিগনালগুলো হঠাত করেই সেন্সর হয়ে যাচ্ছে, সংবাদপত্রের বিতরণে ব্যাঘাত ঘটতে দেখা গেছে এবং সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে কোন সংবাদ প্রকাশ করা হলে, সেইসব সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে তাদের অপহরণের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া রাইটস ওয়াচডগ রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বলেছে, ইমরান খানের ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংবাদপত্রের উপর সেন্সরশিপ এবং সরকারের উপর সেনাবাহিনীর ভূমিকা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংবাদপত্রের লাগাম টেনে ধরার পাশাপাশি  ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যায় এমন কোন সংবাদ প্রকাশে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। আর এই কারণেই ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স-২০২১ এ ১৮০ টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৪৫তম।

পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী দেশটির ৭৪ বছরের ইতিহাসের প্রায় অর্ধেক সময় সরাসরি দেশ শাসন করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতায় আনতে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও সামরিক বাহিনী  কারচুপি করেছে, এমন অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক বিরোধীদের দিক থেকে। যদিও ইমরান খান ও সামরিক বাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email