এবিসি বার্তা

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

এক বছরে দ্বিগুণ বেড়ে পুঁজিবাজার এখন জিডিপির ২০ শতাংশ

২০১০ সালের মহাধসের পর পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে হিমশিম খাচ্ছিল। গত বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুনর্গঠনের পর গত জুলাই থেকে পুঁজিবাজারে নতুন আশার সঞ্চার হয়। গত বছরের ৩১ মে মূল্যসূচক ছিল ৪ হাজার ৮ পয়েন্ট, লেনদেন ছিল ১৯৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার এই সূচক ছিল ৭ হাজার ৩২৯ পয়েন্ট, লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

গত এক বছরে উত্থানের কারণে দ্বিগুণ বেড়ে বার্ষিক দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির এক পঞ্চমাংশে পরিণত হয়েছে দেশের পুঁজিবাজার।

২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে জিডিপিতে ১১ শতাংশ অবদান ছিল পুঁজিবাজারের। সেটি বেড়ে এখন ২০ শতাংশের কাছাকাছি চলে এসেছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইর এসএমই প্ল্যাটফর্মের লেনদেন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর পুঁজিবাজারে পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রমাণ হচ্ছে এখন পুঁজিবাজারে নতুন নতুন প্রোডাক্ট আসছে।’

২০১০ সালের মহাধসের পর পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে হিমশিম খাচ্ছিল। গত বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুনর্গঠনের পর গত জুলাই থেকে পুঁজিবাজারে নতুন আশার সঞ্চার হয়।

নিয়িস্ক্র হয়ে থাকা বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হতে শুরু করেন। হারিয়ে যাওয়া শেয়ার দর বাড়তে শুরু করায় যারা উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনে আটকে গিয়েছিলেন, তারা টাকা ফিরে পেতে শুরু করেন। আর একটি শেয়ার বিক্রি করে অন্য শেয়ার কিনতে শুরু করার কারণে টাকার প্রবাহ বাড়তে শুরু করে।

করোনার কারণে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে পুঁজিবাজারে স্থগিত থাকা লেনদেন যখন ৩১ মে থেকে লেনদেন যখন আবার চালু হয়, সেদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এর অবস্থান ছিল ৪ হাজার ৮ পয়েন্ট।

পরে ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে সেই সূচক এখন দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩২৯ পয়েন্ট। সোয়া এক বছরে সূচক বেড়েছে ৩ হাজার ২২১ পয়েন্ট।

কেবল সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে বাজারের গতিশীলতা বোঝা যাবে না। সাধারণ ছুটি শেষে ১ জুন লেনদেনে মোট শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ১৯৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধনের মধ্যে বৃহস্পতিবার এক লাফার্জ হোলসিম সিমেন্টের লেনদেনই হয়েছে ২০০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

গত বছরের ১ জুন বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার ২৮৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সেটি বেড়ে এখন হয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ৫৪৩ কোটি ১২ লাখ টাকা।

দর সংশোধনের মধ্যেও এখন সূচক পড়ছে না, বরং খাত ধরে সংশোধনের কারণে এক খাতের শেয়ারদর কমলে অন্য খাতে বাড়ছে। এ কারণে বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা খাত পাল্টে লাভবান হতে পারছেন।

এখনও অনেক খাতের শেয়ারদর বাড়েনি সেভাবে। ফলে বাজার আরও এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদী বিনিয়োগকারীরা। করোনা নিয়ন্ত্রণে আসার মধ্যে অর্থনীতিও চাঙা হতে শুরু করেছে। ফলে কোম্পানিগুলোর আয় বাড়লে পুঁজিবাজারেও এর প্রভাব পড়বে।

এর মধ্যে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে এসএমই প্ল্যাটফর্ম। এখানে কেবল বড় বিনিয়োগকারীরা লেনদেন করবেন। ফলে ব্যক্তিশ্রেণির ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেই।

 

ডিএসইস চেয়ারম্যান চাইছেন কোম্পানিগুলো মূলধনের জন্য পুঁজিবাজারে আসুক। এতে বাজার আরও গতিশীল হবে। তিনি বলেন, ‘ব্যাংক কখনও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের মাধ্যম হতে পারে না। এর একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে পুঁজিবাজার। স্বল্পমূলধনি কোম্পানিগুলো কীভাবে পুঁজিবাজারে থেকে তাদের মূলধন সংগ্রহ করবে তার একটি নির্দেশনা এসএমই ফাউন্ডেশনে দেয়া আছে। তাদের মাধ্যমেই এই প্ল্যাটফর্ম আরও বড়ো হবে।’

ডিএসই মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিএসইসি কমিশনার মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান।

বিএসইসি কমিশনার বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটিতে পরিণত হয়েছে। এটি সামনে আরও এগিয়ে যাবে।

 

পুঁজিবাজারে এলে কোম্পানির সুশাসন বৃদ্ধি পায় পানিয়ে তিনি বলেন, বিএসইসি পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন পরিপালনে জোরদার করে। উদ্যোক্তাদেরকে দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক হিসাব মান অনুযায়ী আর্থিক হিসাব তৈরি ও উপস্থাপন করতে হয়। যা কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা উন্নয়নে সহযোগিতা করে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘যে কোনো দেশের অর্থনীতি বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থ সামাজিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান বা এসএমই খাত।

‘এসএমই মার্কেট পুরোপুরি চালু হলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এক নতুন উচ্চতায় পৌছাবে। আরজেএসসির নিবন্ধিত লক্ষাধিক এসএমই প্রতিষ্ঠানের মূলধন সংগ্রহের জন্য পুঁজিবাজার হতে পারে বৃহৎ মাধ্যম।’

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email