এবিসি বার্তা

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

পাবনার বেড়ায় পাটখড়ি এবার আনছে বৈদেশিক মুদ্রা

jute stick

এক সময় পাটখড়ি শুধু জ্বালানি আর ঘরের বেড়া দেয়ার কাজে লাগত, সেই পাটখড়ি এবার আনছে বৈদেশিক মুদ্রা। পাটখড়ি থেকে তৈরি কার্বন পাউডার রফতানি হচ্ছে চীনে। সারাদেশে পাটখড়ি থেকে কার্বন তৈরির কয়েকটি কারখানা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে একটি কারখানা গড়ে উঠেছে পাবনার বেড়ায়।

বেড়া উপজেলার কৈটোলা ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামে গড়ে ওঠা কিউলিন ইন্ডাস্ট্রিজ লি.’র উদ্যোক্তরা জানান, ছয় মাস ধরে এখানে বিপুল পরিমাণে কার্বন বা চারকোল তৈরি হয়ে বিদেশে রফতানি হয়েছে। তারা আরও জানান, পাটখড়ির কার্বন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্তের সৃষ্টি করেছে। পাটখড়ি থেকে উৎপাদিত কার্বন পাউডার বা চারকোল রফতানি করা হচ্ছে চীনে। দিন দিন বাড়ছে এ পণ্যের রফতানি। জাতীয় অর্থনীতিতে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সেই সঙ্গে বাড়ছে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ। বর্তমানে এ কারখানায় ৬০ শ্রমিক কাজ করছেন। আবার পাটখড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের পাট চাষে আগ্রহও বাড়ছে। জানা গেছে, চার বছর আগে পাটখড়িকে কার্বন বানিয়ে রফতানির পথ দেখান ‘ওয়াং ফেই’ নামে এক চীনা নাগরিক। তার দেখানো পথে দেশে বর্তমানে কার্বন তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে ২৫টি। এর মধ্যে অন্যতম পাবনার বেড়ায় প্রতিষ্ঠিত কিউলিন ইন্ডাস্ট্রিজ লি.। কারখানার নির্বাহী পরিচালক জুলিয়ান জানান, এই কার্বন উৎপাদনে কোন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার না করায় কারখানা রয়েছে পরিবেশবান্ধব। চীনে রফতানি হলেও আগামীতে অন্য দেশেও রফতানি হওয়ার আশা রয়েছে। তিনি আরও জানান, মোবাইলের ব্যাটারি, প্রসাধনী, দাঁত পরিষ্কারের ওষুধ, কার্বন পেশার, কম্পিউটার ও ফটোকপির কালি, আতশবাজি, ফেসওয়াশের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয় পাটখড়ির কার্বন।

কার্বন তৈরি সম্পর্কে তারা জানান, এজেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাটখড়ি কিনে আনা হয়। এর পর সেগুলো বিশেষ চুল্লিতে লোড করে আগুন জ্বালানো হয়। তারপর ১০-১২ ঘণ্টা জ্বালানোর পর চুল্লিটির মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। যাতে কোনভাবে অক্সিজেন প্রবেশ করতে না পারে। এভাবে চারদিন রাখার পরে সেখান থেকে বের করে ক্যাশিং করে কার্বন প্যাক করা হয়।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, পাটখড়ির কার্বন বা চারকোল রফতানিতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে ৫৪ কোটি টাকা রফতানি আয় হয়েছে। তবে বাংলাদেশ চারকোল উৎপাদক ও রফতানিকারক সমিতি (প্রস্তাবিত) সূত্র মতে, এ খাত থেকে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে ১৫০ কোটি টাকা। তাদের ধারণা, এ খাত থেকে বছরে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় হওয়া সম্ভব। পাট অধিদফতরের সূত্র মতে, দেশে বছরে পাটখড়ি উৎপাদন হয় ৩০ লাখ টন। এর ৫০ শতাংশকেও যদি কার্বন করা যায় তবে দেশে বছরে উৎপাদন দাঁড়াবে ২ লাখ ৫০ হাজার টন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email