
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন বাংলাদেশে সফররত শান্তিতে নোবেল জয়ী তিন নারী। বুধবার দুপুরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইরানের শিরিন এবাদি, ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান ও যুক্তরাজ্যের মেইরিড ম্যাকগুয়ের। প্রধানমন্ত্রী এসময় তাদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটান ও কথা বলেন।
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর করেছেন এই তিন নোবেল শান্তি পুরস্কায় বিজয়ী নারী। ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসেন তারা। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান।
সেখান থেকে ফিরে ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে সফরে তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। পরে দুপুরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যান। পরে প্রধানমন্ত্রী নোবেল বিজয়ী নারী প্রতিনিধিদলকে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বই ও চা-পাতা উপহার দেন।
ঢাকার নারী সংস্থা ‘নারীপক্ষ’র আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছেন তিন নোবেল জয়ী। ২ মার্চ তাদের ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
রোহিঙ্গাদের চাপ বহন করা যখন বাংলাদেশের জন্য সত্যিই বড় চ্যালেঞ্জ, ঠিক সেই সময়ে রোহিঙ্গা সমস্যাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক দৃষ্টিতে দেখছেন; সীমিত সময়ে সাধ্যের মধ্যেও শেখ হাসিনা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছেন। তাদের থাকা, নিরাপত্তা, খাবারের নিশ্চিয়তা দান করেছেন। তিনি উখিয়া সফরে গিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশুদের পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে যে দৃশ্যের অবতারণা করেন; তা কোটি কোটি মানুষের চোখে অশ্রু এনেছিল। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের খাদ্য-আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানিয়েছিলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের যা করা দরকার আমরা সেটি করব। তিনি সেদিন বলেছিলেন, আমরা শান্তি চাই। আমরা ১৬ কোটি মানুষের দেশ। সবার খাদ্য নিরাপত্তা যেখানে নিশ্চিত করা গেছে, সেখানে আরও ৫ লাখ মানুষকেও অন্নের সংস্থান দেয়া যাবে।
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের সহিংসতা, নিপীড়ন এবং প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার বিষয়ে ওআইসির যোগাযোগ গ্রূপের সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যাকে বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন এবং তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
যার ফলশ্রুতিতে ১৬ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির ভোটে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়ে একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যেখানে ১৩৫টি রাষ্ট্র প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিসরে আমাদের একটি বড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
নিঃসন্দেহে রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় কূটনৈতিক সফলতা। রোহিঙ্গাদের প্রতি এই দরদি মনোভাবের পরিচয় দেওয়ায় তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বের এই মানবীয় গুণাবলি সত্যিই বিশ্বশান্তির মডেল। তাঁর দৃঢ় নেতৃত্বে দেশকে যেমন এগিয়ে নিচ্ছেন; তেমনি বিশ্বদরবারেও দেশের ভাবমর্যাদা করছেন উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর।
৩ নোবেল বিজয়ী নারীর প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এমন ইতিবাচক মন্তব্য অনেকটাই সময়ের দাবি ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ আরো এগিয়ে যাবে প্রগতি ও মানবতাকে সঙ্গী করে- এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
