বেড়ার মনজুর কাদের মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে তালা

শেয়ার করুন:

নিজস্ব প্রতিনিধি : পাবনার বেড়া মনজুর কাদের মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুস্তাফিজুর রহমান বিরুদ্ধে কলেজের অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর সীমাহীন অমানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যবদ্ধ হয়ে বুধবার কক্ষে তালা দেন।
অভিযোগকারী শিক্ষকরা জানান, অধ্যক্ষ মো. মুস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি বেড়া পৌরসভার জোড়দহ গ্রামে। প্রতিটি শিক্ষকের সাথে খারাপ আচরণ, ক্লাস না থাকা সত্ত্বেও তাদের ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা- এটা ছিল তার নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি প্রভাষক আবু সাইদ (যিনি দত্ত সাইদ নামে সকলের কাছে পরিচিত) অত্র কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক। তিনি ক্লাস না নিয়ে এবং নিয়মিত উপস্থিত না হয়ে বসে বসে শুধু বেতন উত্তোলন করেছেন। এমনও দেখা গেছে তিনি ১০/১৫ দিন পরে এসে একবারে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। এই সুবিধা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করার জন্য আবু সাইদ অধ্যক্ষকে অত্যন্ত প্রশ্রয় দেন। আবু সাইদের স্ত্রী রেজিনা খানম অত্র কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক। তাকেও অধ্যক্ষ নানান সুবিধা দিয়ে উভয়কে খুশি রাখতেন। আবু সাইদের শক্তি ব্যবহার করেই অধ্যক্ষ শিক্ষকদের ওপর স্টিম রোলার চালাত বলে অভিযোগকারী শিক্ষকরা জানান। ওই সময়ে কোনো শিক্ষক (এমন কি আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরাও) টু-শব্দ করতে পারেননি।
শিক্ষকরা আরও জানান, কলেজের টাকা বেহিসেবীভাবে দু’হাতে খরচ করেছেন এবং তার সিংহভাগ টাকা নিজের পকেটে উঠিয়েছেন। মনজুর কাদের মহিলা কলেজে বিগত আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের সময় দু দু’বার মন্ত্রী এসেছেন। তাদের আগমন উপলক্ষ্যে খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। এছাড়া কলেজে এক তলা একটি ভবন পাস করতে নাকি ৫/৬ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এসব তথ্য সাধারণ শিক্ষকদের কাছ থেকে জানা যায়। এগুলো কলেজের জমা-খরচ বহিতে বিভিন্নভাবে (অধ্যক্ষের সুবিধা মতো) সমন্বয় করেছে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষক নিয়োগে তিনি মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন। ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নফিজ উদ্দিনের কাছে থেকে অবৈধভাবে মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন এবং রসায়ন বিভাগের প্রভাষক আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে বাইরের বখাটে ছেলেদেরকে দশ হাজার টাকা চাঁদা দিতে সহায়তা করেছেন। তদন্ত কমিটি করে অডিট করলে এবং কলেজের ক্যাশিয়ার আব্দুল হান্নানের জবানবন্দি নিলে অধ্যক্ষের বিভিন্ন দূর্নীতি প্রকট আকারে প্রকাশ পাবে।
অধ্যক্ষ মো. মুস্তাফিজুর রহমানের নিজের নিয়োগ নিয়েও ঘাপলা রয়েছে। অধ্যক্ষ পদে যোগদানের আগে তিনি অত্র কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক ছিলেন। তখন জাতীয় পত্রিকার কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়া তাকে দ্বিতীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।
এদিকে কলেজের আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও অধ্যক্ষের কারণে শিক্ষকদের চার বছরের বেতন-ভাতা বকেয়া পড়ে যায়। হঠাৎ শিক্ষকরা জানতে পারে অধ্যক্ষ গোপনে শুধু তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কলেজ অংশের বেতন-ভাতা নিয়মিতভাবে প্রদান করে পুরোপুরি পরিশোধ করে দিয়েছে। এ কথা শিক্ষকরা জানার পর মিটিং আহ্বান করেন। মিটিঙে বক্তব্য রাখেন- কলেজ গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি মো. মোজাম্মেল হক, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. তোফাজ্জল হোসেন, ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, ইসলাম শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রমুখ। মিটিঙে সিদ্ধান্ত হয়, বেতন-ভাতার কথাগুলো অধ্যক্ষকে জানাবে। শিক্ষকরা অধ্যক্ষের রুমে গিয়ে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে বলেন কিন্তু তিনি উল্টো শিক্ষকদের বেতন দিতে নানা অজুহাত দেখান এবং এক সময় বেতন দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। এমতাবস্থায় শিক্ষকরা মিটিঙের সিদ্ধান্ত অনুসারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধ্যক্ষের রুমে তালা দেন। 

শেয়ার করুন: